নাজমুল হুদা মি’থ্যার আশ্রয় নিয়ে ফেঁ’সে গেলেন

প্রকাশিত: ফেব্রু ২০, ২০২০ / ১২:১৬পূর্বাহ্ণ
নাজমুল হুদা মি’থ্যার আশ্রয় নিয়ে ফেঁ’সে গেলেন

মি’থ্যা তথ্য দিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বি’রু’দ্ধে মা’ম’লা করার অ’ভি’যো’গে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বি’রু’দ্ধে পাল্টা ‘মা’ম’লা করেছে দু’র্নীতি দ’মন কমিশন (দুদক)।

বুধবার দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন সংস্থাটির পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। মা’ম’লা নম্বর-৩। দুদক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

মা’ম’লার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় এস কে সিনহার বি’রু’দ্ধে একটি মা’ম’লা করেন। মা’ম’লার অ’ভি’যোগে তিনি বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার বি’রু’দ্ধে হওয়া একটি মা’ম’লা উচ্চ আদালতে ডিসমিস করার পরও প্ররোচিত হয়ে মা’ম’লাটির রায় পরিবর্তন করা হয়।

মা’ম’লাটি ডিসমিস করতে দুই কোটি টাকা ও অন্য একটি ব্যাংক গ্যারান্টির আড়াই কোটি টাকার অর্ধেক ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা উৎকোচ চান এসকে সিনহা।

পরে মা’ম’লাটি তদন্তের জন্য আসে দুদকে। দীর্ঘ দেড় বছর তদন্ত করে সিনহার বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার মা’ম’লাটি মি’থ্যা প্রমাণিত হয়েছে দুদকে। আর মিথ্যা তথ্য দেয়ার অ’ভি’যোগে উল্টো ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বি’রু’দ্ধেই মা’ম’লা করল দুদক।

নাজমুল হুদার বি’রু’দ্ধে মা’ম’লার বিষয়ে দুদকের সচিব মোহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, নাজমুল হুদা যে মা’ম’লাটি করেছেন সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

দুদক আইনের ২৮-এর ২ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি মি’থ্যা তথ্য দিয়ে অ’ভি’যোগ দায়ের করে আর সেটি যদি তদন্তে বেরিয়ে আসে তাহলে অ’ভি’যোগ দায়েরকারীর বি’রু’দ্ধে মা’ম’লা করা হবে। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। যেহেতু অ’ভি’যোগটি প্রমাণিত হয়নি তাই তার বি’রু’দ্ধে মা’ম’লা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নাজমুল হুদা শাহবাগ থানায় মা’ম’লাটি করেন। এরপর শাহবাগ থানা থেকে মা’ম’লাটি দুদকে প্রেরণ করা হয়। আর সেই মা’ম’লাটি দুদক তদন্ত করে তার কোনো প্রমাণ পায়নি। এখন মা’ম’লাটি ইনভেস্টিগেশন করা হবে। এরপর চার্জশিট দেয়া হবে।

মামলায় নাজমুল হুদা গ্রে’ফ’তার হতে পারেন কিনা- জানতে চাইলে সচিব আরও বলেন, আইন অনুযায়ী যদি আদালত থেকে ওয়ারেন্ট পাওয়া যায় তাহলে তিনি গ্রে’ফ’তার হবেন।

এ দিকে এর আগে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি অর্থপাচারের অ’ভি’যোগ এনে দু’র্নী’তি দমন কমিশন (দুদক) ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা এবং দুই মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদা ও শ্রাবন্ত্রী আমিনা হুদার বিরুদ্ধে দুটি মা’ম’লা করে।

একটি মা’ম’লার এজাহারে বলা হয়, সিগমা হুদা ও অন্তরা সেলিম হুদা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ৩ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড স্টার্লিংয়ের সমপরিমাণ ৪ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা যুক্তরাজ্যে পাচার করেছেন। ওই টাকা দিয়ে ২০০৩ সালের ২৬ জুন লন্ডনের ওয়াটার গার্ডেনসের বারউড প্যালেসে একটি ফ্ল্যাট কেনেন তারা।

আর একটি মা’ম’লার এজাহারে বলা হয়, সিগমা হুদা ও শ্রাবন্তী আমিনা হুদার ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড স্টার্লিংয়ের সমপরিমাণ ২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা যুক্তরাজ্যে পা’চা’র করেছেন।

ওই টাকা দিয়ে ২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর হেলনি কোর্টের ডেনহাম রোডে একটি ফ্ল্যাট কেনেন তারা। অর্থাৎ বিদেশে অর্থপাচার করে দুটি ফ্ল্যাট কেনার অ’ভি’যোগে মা’ম’লা করে কমিশন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন