হারিয়ে যাওয়া মাকে ১৮ বছর পর খুঁজে পেলেন সন্তানেরা

প্রকাশিত: ফেব্রু ১৭, ২০২০ / ১১:৫১পূর্বাহ্ণ
হারিয়ে যাওয়া মাকে ১৮ বছর পর খুঁজে পেলেন সন্তানেরা

মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন ভারতে। তাকে খুঁজতেই ১৮ বছর আগে পটুয়াখালীর বাড়ি থেকে বের হন বকুলী রানী। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পায়নি পরিবারের সদস্যরা। গত দু’দিন আগে হঠাৎ করেই রাস্তার পাশে দাদিকে দেখতে পেয়ে বাবাকে খবর দেন নাতি। এতেই অবসান হয় ১৮ বছর ধরে মাকে খুঁজে ফেরার অপেক্ষা।

শেষ হলো মাকে খুঁজে না পাওয়ার অপেক্ষা। ১৮ বছর পর হারিয়ে যাওয়া মাকে খুঁজে পেয়ে উচ্ছ্বাস সন্তানের মুখে। দেড় যুগ আগে বকুলী রানীর মেয়ে আলো রানীর বিয়ে হয় ভারতে। অনেকদিন মেয়ের খোঁজ না পাওয়ায় ভারতে গিয়ে নিজেও নিখোঁজ হন বকুলী রানী।

চার বছর আগে পটুয়াখালীর শহরের তিতাস সিনেমা এলাকায় ওই বৃদ্ধাকে মানসিক ভারসাম্যহীনভাবে রাস্তায় ঘুরতে দেখে স্থানীয় কাউন্সিলরের সহায়তায় একটি খুপড়ি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেন স্থানীয় রেস্তোরাঁ মালিক লাইজু বেগম।

তবে বকুলী রানী কবে-কীভাবে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন তা কেউই বলতে পারেনি। গত শুক্রবার দাদিকে রাস্তায় দেখতে পেয়ে বাবাকে খবর দেয় নাতি রিপন চন্দ্র হাওলাদার। ১৮ বছর বছর পর মাকে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন ছেলে ঠাকুর চন্দ্র হাওলাদার।

বকুলী রানীর নাতি রিপন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, আমি ঘুরতে বেরিয়ে ছিলাম দিদিকে দেখেই চিনতে পারি। বকুলী রানীর ছেলে ঠাকুর চন্দ্র হাওলাদার বলেন, আমার মার ডান হাতের একটা আঙ্গুল বাকা সেটা দেখেই আমার ছেলে চিনতে পেরেছে।

চার বছর ধরে ওই অসহায় মাকে দেখাশুনা করার পর পরিবারের কাছে তুলে দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রেস্তোরাঁ মালিক লাইজু বেগমসহ স্থানীয়রা। মৃধা খাবার হোটেল মালিক লাইজু বেগম বলেন, ওনার আপনজনের কাছে ফিরে যেতে পারছে এজন্য আমি খুশি।

পটুয়াখালী পৌরসভা ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজল বরণ দাস বলেন, আনন্দ লাগছে কারণ হারানো মা সন্তানের হাত ধরে ফিরে যাচ্ছে। বকুলী রানীর বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায়।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন