পিতৃহারা দিপু মায়ের হাতে বানানো ব্যাটে খেলে হলেন বিশ্বজয়ী

প্রকাশিত: ফেব্রু ১৫, ২০২০ / ০৪:০৭অপরাহ্ণ
পিতৃহারা দিপু মায়ের হাতে বানানো ব্যাটে খেলে হলেন বিশ্বজয়ী

সদ্য বিশ্বকাপ জয় করে ঘরে ফিরেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯। দেশ জুড়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রতিটই তারকার নাম মানুশের মুখে মুখে। বেরিয়ে আসছে প্রতিটি ক্রিকেটারের জীবনের নানান কাহিনি। তেমনই জানা গেল দিপুর কথা।

অবশেষে বাংলাদেশ যুবাদের হাত ধরে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল। আর আইসিসির অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার চট্টগ্রামের শাহাদাত হোসেন দিপু।

জানা যায়, শাহাদাত হোসেন দিপুর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ার হাবিলা সদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রামে। পরিবার চট্টগ্রামে বসবাস করছেন দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে। তবে মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবাকে হারান। কিন্তু বড় ভাই আর মায়ের অনুপ্রেরণা ও পাড়ার বড় ভাইদের নানা সহায়তা নিয়ে একটু একটু করে এগিয়ে আজকের বিশ্বজয়ী শাহদাত।

এদিকে বাবার মৃ’ত্যুর পর বড় ভাই আবুল হোসেনই সংসারের হাল ধরেন। ব্যাট কেনার সামর্থ না থাকায় কুড়িয়ে আনা কাঠ দিয়ে ব্যাট বানিয়ে পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন দিপু। ক্রিকেটের প্রতি তীব্র ঝোঁক দেখেই বড় ভাই আবুল হোসেন দিপুকে বিকেএসপিতে ভর্তি করাতে নিয়ে যান।

এদিকে ভাড়া অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে সংসার চালান ভাই আবুল হোসেন। ভাইয়ের কীর্তিতে বেজায় খুশি তিনি। আর খুশি শাহাদাতের মেন্টর ক্রিকেটার সুদীপ্ত দেব। ছোটবেলা থেকে সুদীপ্ত দেব শাহাদাতকে ক্রিকেট খেলায় উৎসাহ জুগিয়ে গেছেন।

ছেলের এমন সাফল্যে দীপুর মা ফেরদৌস বেগম বলেন, ‘দীপুর খেলার আগ্রহ ছিল বেশি। হাতে বানানো ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে বিকেএসপি’র ট্রায়াল দিতে যায় সে।

তিন মাস ক্যাম্প শেষ করে বিকেএসপি’তে সুযোগ না হওয়ায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল ছেলেটা। পরে পাড়ার ছেলে সুদীপ্ত তাকে ইস্পাহানী ক্লাবে ভর্তি করিয়ে দেন। একমাস বেতন নিলেও পরে ফ্রীতে খেলার সুযোগ করে দেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন