সুপারের পা ধরে কেঁদেও বাকি টাকার জন্য দাখিল পরীক্ষা দিতে পারল না ছাত্রী

প্রকাশিত: ফেব্রু ১৩, ২০২০ / ০৬:৫২অপরাহ্ণ
সুপারের পা ধরে কেঁদেও বাকি টাকার জন্য দাখিল পরীক্ষা দিতে পারল না ছাত্রী

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় রেজিস্ট্রেশনের টাকা বাকি থাকায় চলমান দাখিল পরীক্ষার এক ছাত্রীর পরীক্ষার প্রবেশপত্র কেড়ে নিয়ে হল থেকে বের করে দিলেন মাদ্রাসার সুপার। এতে ওই ছাত্রীর জীবন থেকে নষ্ট হয়ে গেল মূল্যবান একটি বছর।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার দিনমজুর বাবা পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি অ’ভি ‘যোগ দেন। পরে জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন আগামী তিন দিনের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ভাণ্ডারিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার নদমূলা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের দিনমজুর মনির কবিরাজের মেয়ে সারমিন আক্তার (পরীক্ষার রোল নং-২৯৪৪১০) এ বছরের দাখিল পরীক্ষার্থী। রেজিস্ট্রেশনের ২ হাজার ৮শ’ টাকার মধ্যে পরীক্ষার্থী সারমিন ২ হাজার টাকা জমা দেয়। বাকি টাকা পরীক্ষার ১২ দিন পর দিতে চাইলে তাকে প্রবেশপত্র দেয়া হয়।

কিন্তু নদমূলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. অলিউর রহমান পরীক্ষার ৪র্থদিন রোববার আরবি ২য়পত্রের পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থী সারমিনের প্রবেশপত্র কে’ড়ে নিয়ে বলেন বকেয়া টাকা দিতে পারিস নাই, তোর আর জীবনে পরীক্ষা দেয়ার প্রয়োজন নেই; সোজা বাড়ি চেলে যা।

ছাত্রী এ সময় সুপারের পা জড়িয়ে কান্নাকাটি করলেও সুপারের মন এতটুকু গলেনি। পরে ছাত্রী ম’র্মা’হ’ত হয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান খোকনের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। তিনিও পরীক্ষার্থীকে তি’র’স্কার ও ভৎসনা করে বাড়ি চলে যেতে বলে।

ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য মো. জিয়াউল হক সম্রাট বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মাদ্রাসা সুপার টাকার লো’ভে এ ধরনের জ’ঘ’ন্য কাজ করায় তার বি’রু’দ্ধে উপজেলা প্রশাসনকে শা’স্তি’মূলক ব্যবস্থা নিতে দাবি জানাচ্ছি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন