কীভাবে দেশ ছাড়ল আজাহারী: সংসদে মেননের প্রশ্ন

প্রকাশিত: ফেব্রু ১০, ২০২০ / ১০:২৩অপরাহ্ণ
কীভাবে দেশ ছাড়ল আজাহারী: সংসদে মেননের প্রশ্ন

শরীয়ত বাউলকে আইসিটি আইনে গ্রে’ফ’তা’র করে জে’ল’খানায় রাখা হয়েছে, অথচ সম্প্রতি যু’দ্ধা’প’রা’ধী সাঈদীর স্বপক্ষে ওয়াজকারী মিজানুর রহমান আজাহারী কীভাবে দেশ ছাড়ল তা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় এই প্রশ্ন তুলে ধরেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, আমাদের দেশে শরীয়ত ও মারফতের দ্ব’ন্দ্ব অনেক পুরনো। এখন সৌদি-পাকিস্তানি ও জামাতীদের ওহাবিবাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত করতে এ ধরনের দ্ব’ন্দ্বে’র সম্পর্কে যখন রাষ্ট্রীয় আইন ব্যবহার করা হয়, তখন তা উ’দ্বে’গের বিষয়।

রাষ্ট্র কি অতীতের মতো আবার মৌ’ল’বা’দকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে? না-হলে আজাহারী দেশ ছেড়ে যেতে পারে না। খ’ত’মে নবুয়ত নতুন করে হু’ঙ্কা’র ছাড়তে পারে না। হেফাজত সমর্থন প্র’ত্যা’হারের হু’ম’কি দিতে পারে না। এরাই ক’দিন পর পাকিস্তানি কায়দায় ব্লাসফেমী আইন প্রণয়ন করতে বলবে, যেমন এই সংসদেই যু’দ্ধা’প’রা’ধী নিজামী সেই প্রস্তাব তুলেছিল।

বঙ্গবন্ধু এ দেশকে ধর্মনিরপেক্ষতার মূল নীতি উপহার দিয়েছিলেন উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, ধর্মের ভিত্তিতে বি’ভা’জ’নের বি’রু’দ্ধে বঙ্গবন্ধু কেবল সো’চ্চা’র ছিলেন না কেবল, বাস্তবে তার অনুসরণ করেছিলেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন কারও ধর্মানুভূতিতে আ’ঘা’ত দিলে আইন তার ব্যবস্থা নেবে। আমি এই সংসদে মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে ইউটিউবে প্রচারিত ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টি ও বি’ভা’জ’নের কিছু বক্তব্যের পেন-ড্রাইভ দিয়েছিলাম। সে সবের বি’রু’দ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানা নেই।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বি’রু’দ্ধে ষ’ড়’য’ন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই তারা ম’রি’য়া আ’ক্র’ম’ণ করবে। ধর্মবাদী তো বটেই, ওই ষ’ড়’য’ন্ত্র বাস্তবায়নে ডান ও তথাকথিত বামও এক হচ্ছে।

মেনন বলেন, অতীতে বাংলাদেশি জা’তী’য়তাবাদের নামে যে ধর্মীয় আবরণ দিয়ে দেশকে পাকিস্তানি আদলে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা হয়েছিল, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে তার ছেদ ঘটানো হয়েছে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টার অবসান হয়নি।

রাষ্ট্রীয় প্রচারে, আমাদের আচার-আচরণে, বেশ-ভূষার পরিবর্তনে তার রেশ আমরা দেখি। ফেসবুক, ইউটিউবের নিত্য প্রচারে সেই মনমানসিকতাকে উ’স’কে দেয়া হচ্ছে। ভাষা আ’ন্দো’লন যেমন আমাদের জাতিসত্তাকে নির্দিষ্ট করেছে, তেমনি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুও নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন, ‘ফাঁ’সি’র মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা’।

রাশেদ খান মেনন বলেন, মাধ্যমিক ক্ষেত্রে শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন করা হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত আমলে একমুখী শিক্ষার নামে মাধ্যমিক সাধারণ শিক্ষার অবনমনের ষ’ড়’য’ন্ত্র হয়েছিল। বিজ্ঞান, গণিতকে পেছনে ঠেলে শিক্ষা ধর্মীয় ও ব্যবসাভিত্তিক করার চেষ্টা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে সে ধরনের প’শ্চা’ৎপদগামিতা হবে না বলে আশা করি। তবে পাঠ্যবইয়ে হিন্দু লেখকদের লেখা তুলে দেয়া এবং গল্প-কথা-চিত্রে ধর্মভাবের প্রতিফলনের নতুন সব ব্যবস্থা অনেককে আ’তং’কি’ত করে তুলেছে।

বাংলাদেশ ঋণখেলাপিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের শীর্ষে উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, গত দশ বছরে দেশ থেকে পা’চা’র হয়েছে ৫ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে অর্থমন্ত্রীর আগামী বছরের বাজেট হতো। নিউইয়র্কেও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্ট্রিগ্রিটির গবেষণা মতে ২০১৪ সালে এক বছরেই এই অর্থ পাচারের পরিমাণ ৯ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৭২ হাজার কোটির সমপরিমাণ অর্থ।

এই অর্থ পাচারকারীরা কানাডা, মালয়েশিয়া, ব্যাংককে বেগমপাড়া বানিয়েছে। কানাডা প্রবাসীরা এদের বি’রু’দ্ধে বি’ক্ষো’ভ করেছে। তালিকা প্রকাশ করতে বলেছে। আমিও বলি সংসদে ঋ’ণ খে’লা’পিদের মতো এই অর্থ পা’চা’র’কারী-বেগমপাড়ার মালিকদের নাম প্রকাশ করা হোক।

ব্যাংক নিয়ে একটা সমাধানে আসতে ব্যাংক কমিশন গঠন করা হোক। তিনি ব্যাংক লু’টে’রা’দের অর্থ-সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন