ভুতুড়ে নগরী উহানের বাসিন্দারা জানালা খুলে কেদে কেদে গান গাইছেন

প্রকাশিত: ফেব্রু ৯, ২০২০ / ০৫:২৬অপরাহ্ণ
ভুতুড়ে নগরী উহানের বাসিন্দারা জানালা খুলে কেদে কেদে গান গাইছেন

চীনের হুবেইপ্রদেশের উহান শহরের একটি সি ফুড মার্কেট থেকেই ক’রো’না’ভা’ই’রা’স ছড়িয়েছে বলে এখন পর্যন্ত দাবি বিজ্ঞানীদের।

সি ফুডের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীও ওই মার্কেটে বিক্রি হতো, যা পরে বন্ধ করে দেয় চীনা কর্তৃপক্ষ। গোড়ার দিকে সাপ, বাদুড় ও ভোঁদড় থেকে প্রা’ণ’ঘা’তী এই ভা’ই’রা’স ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডিসেম্বরের শেষদিকে উহানে উৎপত্তির পর এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস ৮১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। সং’ক্র’ম’ণ ছড়িয়েছে ৩৮ হাজার মানুষে।

ম’হা’মা’রীতে রূপ ধারণ করতে যাওয়া ক’রো’না’ভাইরাস ঠেকাতে চীনের উহান, হুবেইসহ ১৩টি শহর পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যে কারণে ৪ কোটিরও বেশি মানুষ গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন। বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বি’চ্ছিন্ন এখন তারা।

উহানের সঙ্গে এখন পার্শ্ববর্তী শহরেরই যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। সেখানের বাজারগুলো বন্ধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও দোকানপাট কিছুই খোলা নেই। ভু’তুড়ে শহরে পরিণত উহান।

বিশ্ব থেকে এমন বিচ্ছিন্ন শহর এ যাবৎ আর কেউ দেখেনি।

উহানের বাতাসে এখন শুধু মৃ’ত্যু খবরই ভেসে বেড়াচ্ছে। খবর শুধু দুটোই – আজ কে ক’রো”না’ভা’ইরাসে আ’ক্রা’ন্ত হলো! আজ কে মা’রা গেল।

পরিবার-পরিজনদের মারা যাওয়ার ঘটনাই এখন একমাত্র সংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উহানে বাস, ট্রেন, বিমান সব বন্ধ করে দেয়ায় যানবাহনের শব্দ নেই। বাজার খোলা না থাকায় কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শুধু রাস্তায় বের হলেই নয়, ঘরেও মাস্কপরা বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়েছে। ঘর থেকে বের হওয়া এক রকম নিষেধ। শীতকালীন ছুটি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়েরন ক্যাম্পাস ফাঁকা।

সবমিলিয়ে উহান শহরটা একেবারে জনশূন্য। রাস্তায় প্রাণের অস্তিত্ব মেলা ভার।

তবে ঘরে উহানবাসীরা আ’ত’ঙ্ক এবং উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। খাবার ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ২৪ ঘণ্টা মাস্ক পরে নিজেদেরই চিনতে পারছেন না তারা। মুখে ঘা হওয়ার উপক্রম।

কত দিন এভাবে থাকতে হবে তা জানে না কেউ।

এমন পরিস্থিতিতে উহানবাসীদের কেউ কেউ মা’ন’সিক ভা’র’সা’ম্যহীনতায় ভুগছেন।

জানালা খুলে হঠাৎ গান গাইছেন কেউ কেউ। কাউকে দেখা যাচ্ছে চিৎ’কা’র করে অনর্থক শব্দ উচ্চারণ করতে।

সবার চোখেই মৃ’ত্যু আ’ত’ঙ্ক। এক দিন যেন এক বছরের সমান সেখানে।

উহান স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন চন্দ্রবর্ষ উদযাপনের জন্য স্বজনদের জন্য উপহার ও কেনাকাটা শেষে সপরিবারে ভ্রমণের জন্য তৈরি হচ্ছিল চীনারা।

কিন্তু ক’রো’না’ভা’ই’রাসের প্রাদূর্ভাব দেখা দিলে সব আয়োজনই ভেস্তে যায়। উৎসবের বদলে এখন তারা মৃ’ত্যু’র প্রহর গুণছেন। ভ্রমণ তো দূরের কথা নিজের ফ্ল্যাট থেকেও বের হতে পারছেন না উহানের বাসিন্দারা।

প্রতিদিনই কেউ না কেই ঘরের জানালায় দাঁড়িয়ে চি’ৎ’কার করে উহানের মঙ্গল কামনায় ধর্মীয় বাণী পাঠ করেন। অনেকে মানসিক অবসাদ দূর করতে ও বুকে সাহস রাখতে সুরে বেসুরে গান চর্চা করেন।

একজনের দেখাদেখি অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও গানে যুক্ত হন। কখনো কখনো এই গানের মধ্যেই কেউ কেউ স্বজন হারিয়ে চি’ৎ’কার করে কেঁদে ওঠেন। একটি বাড়ির জানালা থেকে এমন কান্না’রত কণ্ঠ শুরু হলে তা প্রতিবেশীদের ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িগুলোর বাসিন্দারাও চি’ৎ’কার করতে শুরু করে।

এক সময় দেখা যায় গোটা এলাকার ফ্ল্যাটগুলো থেকে চি’ৎ’কা’র করে কা’ন্নার শব্দ আসছে। এ সময় উহানকে সত্যিসত্যি নরকের মতো মনে হয়।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, জানুয়ারির ২৩ তারিখ থেকে এমন অবস্থা উহানবাসীরা।

উহান শহরকে কার্যত কোয়ারেনটাইন করে রাখা হয়েছে সেদিন থেকেই। উহানের সঙ্গে পুরো চীনের বিমান ও রেল যোগাযোগ বন্ধ।

শুধু উহানই নয়, সম্পূর্ণ হুবেই প্রদেশই লকডডাউন করে রেখেছে সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। নববর্ষের সব আয়োজন স্থগিত করে ছুটি বাড়িয়ে দিয়েছে হুবেই প্রশাসন।

সবরকম পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন