ইসকনের স্টল বইমেলা থেকে অপসরণ চান বাবুনগরী

প্রকাশিত: ফেব্রু ৬, ২০২০ / ০১:৩৪পূর্বাহ্ণ
ইসকনের স্টল বইমেলা থেকে অপসরণ চান বাবুনগরী

অমর একুশে বইমেলায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘকে ‘ইসকন’ স্টল বরাদ্দ দেয়ার ঘটনাকে বাংলা একাডেমির উস্কানিমূলক পদক্ষেপ উল্লেখ করে অবিলম্বে এই বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে তিনি ইসকন উগ্র ও ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্ববাদের মতাদশের প্রচার-প্রসারে জড়িত একটি বিতির্কত আন্তর্জাতিক সংগঠন বলেও দাবি করেন।

বিবৃতিতে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়ন এবং প্রসারের লক্ষ্যে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা একাডেমি বইমেলার আয়োজন করা হয়। বাংলা একাডেমি হওয়ার কথা বাঙালি মুসলমানের মননের প্রতীক।

বাংলা একাডেমির মূল কাজ বাঙালি মুসলমানের সাহিত্য, জীবনবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করা। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতো একজন বুজুর্গ এই প্রতিষ্ঠান গড়ায় মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি গড়ে উঠেছে এবং পরিচালিত হচ্ছে দেশের জনগণের অর্থে। এ রকম প্রতিষ্ঠানের কাজে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সংস্কৃতি, জীবনবোধ ও সাহিত্য ঐতিহ্যের প্রতিফলন থাকার দায় রয়েছে।

এরকম একটি প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সংস্থাকে তার দর্শন প্রচারের জন্য জায়গা করে দিতে পারে না। এটা জনগণের অর্থে জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি আক্রমণ ছাড়া আর কিছু নয়।

হেফাজত মহাসচিব বলেন, আজ দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে যখন হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে তরুণ-তরুণীদের বিক্ষোভ হচ্ছে। খোদ সারা ভারতে যখন সাম্প্রদায়িক নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী আদর্শের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন চলছে, তখন ইসকনকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকে কী বার্তা দিতে চাচ্ছে?

বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য অনতিবিলম্বে ইসকনের স্টল বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানান হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন