নিজেই আক্রান্ত হলেন করোনাভাইরাস সতর্ককারী প্রথম চিকিৎসক

প্রকাশিত: ফেব্রু ৪, ২০২০ / ০২:৪৮অপরাহ্ণ
নিজেই আক্রান্ত হলেন করোনাভাইরাস সতর্ককারী প্রথম চিকিৎসক

করোনা ভাইরাস মহামারিতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। এখনও এ ভাইরাসের টীকা আবিষ্কার না হওয়ায় এ উৎকণ্ঠা আরো বাড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

চীনে এখন পর্যন্ত ৪২৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার দেশটির হুবেই প্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে সেখানে আরও ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে সেখানে আরও দুই হাজার ৩৪৫ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৫৫০ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে ২০টির বেশি দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে জানা গেছে, প্রথম করোনাভাইরাস সতর্ককারী চীনের চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং এখন নিজেই আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ডা. লি’র সংক্রমণ ধরা পড়ে। এখন স্থানীয় একটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিনি। নিজের অসুস্থতার কথা গণমাধ্যমের কাছে তিনিই জানিয়েছেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসকদের একটি চ্যাট গ্রুপে ডা. লি জানিয়েছিলেন যে, স্থানীয় একটি সামুদ্রিক খাবার বিক্রির বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতজন একটি বিশেষ ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। এটি অনেকটা সার্সের মতো। তিনি সেখানে ব্যাখ্যা করে নিচের বন্ধুদের সতর্ক করে বলেন যে, তার গবেষণা অনুযায়ী এটি আসলে করোনাভাইরাস। এজন্য বন্ধুদের সবাইকে সতর্ক থাকতেও বলেন তিনি। এগুলো সবই ছিল অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা।

কিন্তু তার সেই চ্যাট গ্রুপের কথোপকোথনের স্ক্রিনশট ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তার নামটিও ছড়িয়ে পড়ে। আর গুজব ছড়ানোর অভিযোগে উহান পুলিশের হাতে আটক হন ডা. লি। সেই মুহূর্তে এই রোগটি সম্পর্কে তথ্য ছড়াতে চায়নি কর্তৃপক্ষ। সম্ভবত ভেবেছিল, রোগটি চাপা দেওয়া যাবে। কিন্তু দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। রুপ নেই আধুনিক বিশ্বের নতুন মহামারিতে।

যেই ডা. লি প্রথম এই রোগ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন, সেই তিনিই এবার আক্রান্ত হলেন প্রাণঘাতি এই ভাইরাসে। চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইবোতে নিজেই নিজের অসুস্থতার খবর দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, শুরু থেকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষা করিয়েছেন। তার জ্বর হলেও পরীক্ষায় করোনাভাইরাস ধরা পড়েনি। তবে ৩০ জানুয়ারি পরীক্ষার ফলে এই রোগ ধরা পড়ে। এখন তিনি একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে শুধু চীনেই নয়, বিশ্বের ২০টির বেশি দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। মহামারির আশঙ্কায় বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই চীন থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের এ ভাইরাস ঠেকাতে চীন-ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান।

ফিলিপাইনসহ অনেক দেশই এই ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে চীন থেকে আগতদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক দেশের এয়ারলাইন্স চীনগামী ফ্লাইটও বন্ধ করে দিয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চীন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন