গর্ভের শিশুর লিঙ্গপরিচয় প্রকাশ কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টের রুল

প্রকাশিত: ফেব্রু ৩, ২০২০ / ০১:৫৬অপরাহ্ণ
গর্ভের শিশুর লিঙ্গপরিচয় প্রকাশ কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টের রুল

অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অনাগত সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গর্ভের শিশুর লিঙ্গপরিচয় প্রকাশ বন্ধে নীতিমালা করতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের ছয় সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। তাঁকে সহযোগিতা করেন একদল নারী আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম এম জি সরোয়ার পায়েল।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি গর্ভের শিশুর লিঙ্গপরিচয় জানার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা ও লিঙ্গপরিচয় প্রকাশ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে রিট করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

গত ১ ডিসেম্বর অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অনাগত সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গর্ভের শিশুর লিঙ্গপরিচয় জানার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা ও লিঙ্গপরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান স্বাস্থ্য সচিব, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সমাজকল্যাণ সচিবকে এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে তাঁদের তিন দিনের মধ্যে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক, ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষকে গর্ভের শিশুর লিঙ্গপরিচয় জানার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা ও লিঙ্গপরিচয় প্রকাশ বন্ধ করতে নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়।

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ‘আমাদের দেশে এখনো বেশির ভাগ মানুষের ছেলেসন্তানই কাম্য। কারণ তাঁরা মনে করেন, ছেলেরা বংশের ধারক, তাঁরা বেশি শক্তিশালী ও আয় বেশি করে। এমনকি অনেক নারীও মনে করেন, ছেলেসন্তান তাঁদের ভবিষ্যতে সুরক্ষা দেবে। এ অবস্থায় যদি পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গপরিচয় জানা যায় এবং তা মা-বাবার কাঙ্ক্ষিত না হলে অন্তঃসত্ত্বা মায়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। মা যদি হতাশায় থাকেন, তবে সন্তানের মস্তিষ্ক গঠন ও বিকাশ ঠিকভাবে হয় না।’

চীন-ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গপরিচয় প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গর্ভের শিশুদের লিঙ্গপরিচয় প্রকাশ বন্ধ হওয়া জরুরি বলে মনে করেন আইনজীবী ইশরাত।

ইশরাত হাসান বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা মা ও শিশুর সুস্থতা জানতে তাঁরা যেকোনো পরীক্ষা করতেই পারেন। কিন্তু শুধু গর্ভে থাকা সন্তান ছেলে না মেয়ে, তা জানার উদ্দেশ্যে ডাক্তারি পরীক্ষা বা ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে লিঙ্গপরিচয় প্রকাশ কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয় বলেও জানান ইশরাত।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন