জুমার নামাজ শেষে বাবার কবর জিয়ারত করেন মেয়রপ্রার্থী ইশরাক

প্রকাশিত: জানু ৩১, ২০২০ / ০৪:৩৩অপরাহ্ণ
জুমার নামাজ শেষে বাবার কবর জিয়ারত করেন মেয়রপ্রার্থী ইশরাক

বাবা সাদেক হোসেন খোকার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন তার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলেন। শুক্রবার আজও তার বাবার কবর জিয়ারত করেছেন।

ইশরাকের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য সুজন মাহমুদ জানান, গোপীবাগ বড় মসজিদে জুমার নামাজ শেষে জুরাইন কবরস্থানে বাবা ও দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তার ঘনিষ্ঠরা সঙ্গে ছিলেন।

আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হবে এবারের নির্বাচনে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, নির্বাচনের শুরু থেকেই আমাদের অনেক বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা সব বাধাবিপত্তিকে উপেক্ষা করে প্রচার চালিয়েছি। আমরা অবশ্যই শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকব। কোনো কিছুতেই মাঠ ছাড়ব না।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাই নির্ভয়ে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমাদের দল আপনাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবে। আমাদের জীবন দিয়ে হলেও আপনাদের সুরক্ষা দেব।

বৃহস্পতিবার যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ধানের শীষের এই প্রার্থী। এ সময় ইভিএম নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ইভিএমের মাধ্যমে কারচুপি করার সুযোগ রয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে ইতিমধ্যে শঙ্কার কথা তুলে ধরেছি। তারপরও যেহেতু নির্বাচন করতে হবে, এজন্য ইভিএমের বিষয়ে আমাদের পোলিং এজেন্টদের ট্রেনিং দিয়েছি।

দলীয় পোলিং এজেন্টদের উদ্দেশে ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, তারা গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার গুরুদায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। ভয়ভীতি ও হুমকিধমকিকে বাধা না মনে করে পোলিং এজেন্টরা তাদের দায়িত্ব পালন করার জন্য ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হবেন। যে কোনো মূল্যে তারা সেখানে থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত এবং ফল ঘোষণা পর্যন্ত তাদের দায়িত্বটা পালন করবেন। পোলিং এজেন্টদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা থাকবেন বলেও জানান তিনি।

ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা নিয়ে কতটা আশাবাদী জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশা করি, তারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যারা নিযুক্ত থাকবেন, তারা সততার সঙ্গে এবং জনগণের সঙ্গে কাজ করবেন। কারণ তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে জনগণের প্রতি। আমরা তাদের সহযোগিতা করব। আমরা আশা করছি, সবার সার্বিক সহযোগিতায় একটা সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। কোনো ধরনের ভোট কারচুপি যেন না হয়। কারচুপি হলে জনগণ কোনোভাবেই সেটা মেনে নেবে না।

জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক বলেন, ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের জনগণের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এ সরকারকে পছন্দ করে না। সরকারের বিপক্ষে চলে গেছে। এমনকি আওয়ামী লীগের অনেক পুরনো নেতাও এখন এ সরকারকে পছন্দ করছেন না। সরকারের নেতিবাচক নানা কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণ ধানের শীষে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী।

তরুণ এ রাজনীতিক সদ্যপ্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে। তার বাবা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী এবং ঢাকার সাবেক মেয়র ছিলেন। ১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ইশরাক। ঢাকার স্কলাস্টিকা থেকে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যান যুক্তরাজ্যে। সেখানে হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএস করেন তিনি। উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরেই সরাসরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

রাজনীতিতে আসা প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, আমি ঢাকার সন্তান। ছোটবেলা থেকেই আমি একটি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বড় হয়েছি। এটা আমার উপলব্ধি যে, দেশপ্রেম ছাড়া সুষ্ঠু রাজনীতি অসম্ভব। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমার পরিবারের কথা চিন্তা করে এবং গভীর দেশপ্রেম থেকেই আমি দেশে ফিরে এসেছি। পরিবার ও বাবার নির্দেশে, পাশাপাশি দলে যারা সিনিয়র রয়েছেন, তাদের পরামর্শে আমি মানুষের পাশে থাকার তীব্র বাসনা থেকেই রাজনীতি শুরু করেছি।

অনেকে বলে আমি তরুণ। হ্যাঁ, তরুণ ঠিকই; কিন্তু আমার বয়স যখন চার বছর, তখনই দেখেছি আমার বাবা মন্ত্রী। এরপর বড় হয়ে আমার বাবার নির্বাচনী সব ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়েছি। রাজনীতি আসলে তখন থেকেই বুঝতে শিখেছি। তিনি বলেন, আমার কোনো উচ্চাভিলাষ নেই। দেশপ্রেম ও সেবার মানসিকতা নিয়েই রাজনীতিতে পদার্পণ করেছি। জনগণের কথা তুলে ধরতে চাই, তাদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হতে চাই। আর প্রিয় রাজধানী ঢাকার মানুষকে উপহার দিতে চাই উন্নত বিশ্বের মতো একটি বাসযোগ্য ও দূষণমুক্ত নগরী।

জয়ী হলে শুরুতে আপনার পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা রয়েছে। সামনে মশার মৌসুম আসছে। তাই মশা নিধনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। এছাড়া বায়ুদূষণ, যানজট, জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির অভাবকেও বেশি প্রাধান্য দেয়া হবে। ওয়ার্ডভিত্তিক স্থানীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার দ্রুত সমাধান করা হবে। এর মধ্যে ড্রেনেজ, রাস্তাঘাট, পরিচ্ছন্নতা রয়েছে। এছাড়া নগর পরিকল্পনাবিদদের মতামত নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হবে। ঢাকাকে সবুজ করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন কিংবা যে কোনো খোলা জায়গায় বৃক্ষরোপণের একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হবে।

ঢাকা সিটি নিয়ে তার স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, ঢাকা কেন উন্নত শহর হবে না। লন্ডন থেকে কেন ঢাকা শহর দেখতে পর্যটক আসবে না। ঢাকাকে একটি উন্নত শহরে পরিণত করতে চাই। শহর ব্যবস্থাপনার ওপরে আমার পড়াশোনা রয়েছে। এরপরও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে সমস্যার সমাধান করা হবে। এভাবে অবশ্যই পাল্টে যাবে বসবাসের অযোগ্য হিসেবে খ্যাতি পাওয়া এই ঢাকা।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন