রামগতি-কমলনগরের হাট-ঘাট ‘শীতের ইলিশে জমজমাট’

প্রকাশিত: জানু ২৯, ২০২০ / ১১:০০অপরাহ্ণ
রামগতি-কমলনগরের হাট-ঘাট ‘শীতের ইলিশে জমজমাট’

লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরের মেঘনা নদীতে অসময়ে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। শীতে ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেরা খুশি, জেলেপাড়ায় আনন্দ।

দিন-রাত শীত উপেক্ষা করে মাছ ধরতে ব্যস্ত জেলেরা। হাট-ঘাট এখন ইলিশে জমজমাট। চলে মধ্যরাত পর্যন্ত বেচা-বিক্রি।

জানা গেছে, রামগতি মাছঘাট, আলেকজান্ডার মাছঘাট, কমলনগরের মতিরহাট ও লধূয়া মাছ ঘাটসহ সব মাছঘাট এখন সরগরম। জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরে ঘাটে তোলেন। ইলিশ ব্যবসায়ীরা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন।

বুধবার কমলনগর উপজেলার হাজিরহাটে জমজমাট ইলিশের হাট বসে। বাজারে বোয়াল, কোরাল ও পোয়া মাছ থাকলেও ইলিশের দখলেই ছিল পুরো হাট। দামও ছিল ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। মাঝারি সাইজের (৫০০ গ্রাম) ওজনের প্রতি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম নাগালের মধ্যে থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহ ইলিশে।

স্থানীয়রা জানান, হাজিরহাট বাজারে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মাছ বিক্রি হয়। নদী থেকে কাছে হওয়ায় ঘাট হয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারে আসে ইলিশ। তাজা মাছ কিনতে ক্রেতারাও ছুটে আসেন।

কমলনগর উপজেলার লরেন্স, করইতলা, তোরাবগঞ্জ, করুনানগর, রামগতি উপজেলার মধ্যে রামগতিরহাট ও আলেকজান্ডার বাজারে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। তবে শহরের চেয়ে মাছঘাট ও উপকূলীয় বাজারগুলোতে দাম কম।

স্থানীয় জেলেরা বলছেন, গত ভরা মৌসুমে মেঘনায় কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়েনি। শেষমুহূর্তে এসে ইলিশ ধরা পড়লেও জেলেদের পুঁজি উঠেনি, দাদনদারদের দেনা শোধ হয়নি। এখন শীতে ইলিশ ধরা পড়ায় দেনা শোধ হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সব মৌসুমেই ইলিশের কদর। যে কারণে বিক্রি বেশি হয়। মধ্যরাতেও বাজারে ইলিশের ক্রেতা থাকে। ঘাটেও প্রচুর ইলিশ বিক্রি হচ্ছে।

কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস বলেন, মেঘনা নদীর চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটা ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্র। সাগর থেকে এ এলাকায় ইলিশ ডিম ছাড়তে আসে। যে কারণে সারা বছরই কম-বেশি ইলিশ ধরা পড়ে মেঘনা নদীতে। এবার শীত মৌসুমেও ইলিশ ধরা পড়ছে প্রচুর।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন