রাজউককে নকশা অনুমোদনে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত ঘু’ষ দিতে হয়: টিআইবি

প্রকাশিত: জানু ২৯, ২০২০ / ০৯:৪৯অপরাহ্ণ
রাজউককে নকশা অনুমোদনে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত ঘু’ষ দিতে হয়: টিআইবি

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছাড়পত্র-নকশা অনুমোদনে দালালের মাধ্যমে চুক্তি করে থাকে। রাজউক কর্মকর্তা, দালাল ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আঁতাতের মাধ্যমে চুক্তি করে সুনির্দিষ্ট হারে নিয়ম বহির্ভূত অর্থ নেয়া হয়।

এছাড়া দশতলার বেশি ইমারতের নকশা অনুমোদনে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার পর্যায়ে ফি’র অতিরিক্ত ১৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং বিশেষ প্রকল্পের ক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার পর্যায়ে ১৫ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘু’ষ দিতে হয়।

ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে বুধবার ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক): সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট খাতে গবেষণাটি পরিচালনা করেছে টিআইবি। টিআইবির ফাতেমা আফরোজ ও ফারহানা রহমান গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন। দুর্নীতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।

ইমারতের নকশা অনুমোদনে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) ৫০ হাজার থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত ঘু’ষ দিতে হয় বলে অ’ভি’যো’গ করেছে ‘দু’র্নী’তি বি’রো’ধী সংস্থা ট্র্যান্সপারেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যক্তি পর্যায়ে নকশা অনুমোদনে ৫০ হাজার থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা, রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার পর্যায়ে ২ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা টাকা পর্যন্ত রাজউক কর্মকর্তাদের ঘু’ষ দিতে হয়।

আবার ১০তলার বেশি ইমারতের নকশা অনুমোদনে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার পর্যায়ে ফি’র অতিরিক্ত ১৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং বিশেষ প্রকল্পের ক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার পর্যায়ে ১৫ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘু’ষ দিতে হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ব্যক্তি পর্যায়ে রাস্তা প্রশ্বস্ত দেখাতে ২০-৩০ হাজার টাকা, ছাড়পত্র অনুমোদনে ১৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা ও রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার পর্যায়ে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত রাজউক কর্মকর্তাদের ঘু’ষ দিতে হয়।

এছাড়া নকশা অনুমোদনে সময়ক্ষেপণ, সেবায় প্র’তা’রণা ও হ’য়’রা’নি, পরিদর্শনে অনিয়ম ও দু’র্নী’তি, নকশা বাস্তবায়নে আইন ও বিধির ল’ঙ্ঘ’ন, প্লট বরাদ্দ, প্লট হস্তান্তর, ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তরসহ একাধিক সেবায় ঘু’ষ ছাড়া কাজ হয় না।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন