মা’দ’কসেবীদের ঘাঁটি বগুড়ার হাসপাতাল

প্রকাশিত: জানু ২৯, ২০২০ / ০২:৫১পূর্বাহ্ণ
মা’দ’কসেবীদের ঘাঁটি বগুড়ার হাসপাতাল

বগুড়ার সান্তাহারের রথবাড়ি এলাকায় ২০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন হলেও দীর্ঘ ১৪ বছরে কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে এলাকাবাসী কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

হাসপাতালটি উন্মুক্ত থাকায় আ’গা’ছা ও জ’ঙ্গলে ভরে গেছে। দেখভালের কেউ না থাকায় ক্যাম্পাসটি মা’দ’কসেবী ও অ’প’রা’ধীদের ঘঁটিতে পরিণত হয়েছে। কবে চালু হবে তা কেউ বলতেও পারেন না।

‘সান্তাহার অসমাপ্ত হাসপাতাল সমাপ্তকরণ বাস্তবায়ন কমিটি’র অবিলম্বে এটি চালুর দাবিতে ৩০ জানুয়ারি সান্তাহার রেলগেটে মানববন্ধন কর্মসূচি আহ্বান করেছে।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজার রহমান তুহিন জানান, সেখানে কোনো জনবল নেই। ভবনটি ‘সং’স্কা’রের জন্য গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরকে চিঠি দেয়া হলেও কাজ হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি হাসপাতাল নির্মাণের।

এর প্রেক্ষিতে গত ২০০৫ সালে সেন্ট্রাল মেডিকেল ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (সিএমএমইউ) এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে সান্তাহারের রথবাড়ি এলাকায় ২০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর হঠাৎ করে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয়।

এ অবস্থায় গত ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের তৎকালীন বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল মোমিন তালুকদার খোকা আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। এরপর দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে কোনো লোকবল নিয়োগ বা কোনো মেশিনপত্র দেয়া হয়নি। রক্ষণাবেক্ষণের কেউ না থাকায় হাসপাতাল চত্বরে আগাছায় ভরে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, নজরদারি না করায় হাসপাতাল ক্যাম্পাসটি মা’দ’ক’সেবী ও অ’প’রা’ধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। স্কুল-কলেজ ফাঁ’কি দিয়ে শিক্ষার্থীরাও সেখানে মা’দ’ক’সেবন করতে যায় বলে অ’ভি’যোগ রয়েছে।

আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম চম্পা জানান, উদ্বোধন হলেও দীর্ঘ ১৪ বছরে ২০ শয্যার হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে ভবনটি ক্ষ’তি’গ্র’স্ত ও মূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। নজরদারি করার কেউ না থাকায় হাসপাতাল মাদকসেবীদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, অবিলম্বে অবশিষ্ট কাজ শেষ করে হাসপাতালটি চালুর দাবিতে ‘সান্তাহার অসমাপ্ত হাসপাতাল সমাপ্তকরণ বাস্তবায়ক কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি সান্তাহার রেলগেটে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। এতেও কাজ না হলে পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শহিদুল্লাহ দেওয়ান জানান, ২০ শয্যার হাসপাতালটি কবে নাগাদ চালু হবে তা তিনি জানেন না। এ দায়িত্ব স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন