মাকে হ’ত্যা করতে দেড় লাখ টাকা দিয়ে খু’নি ভাড়া করে মেয়ে

প্রকাশিত: জানু ২৮, ২০২০ / ০৯:১৪অপরাহ্ণ
মাকে হ’ত্যা করতে দেড় লাখ টাকা দিয়ে খু’নি ভাড়া করে মেয়ে

একাধিক বিয়ের পর পছন্দের ছেলের সঙ্গে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় মাকে হ’ত্যা’র পরিকল্পনা করে মেয়ে জ্যোতি।

প্রেমিক নাঈমের সঙ্গে বিয়ের প্রধান অন্তরায় ছিল মা মাহমুদা। এ জন্য পথের কাঁটা দূর করতে গর্ভধারিণী মাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে প্রেমিকের সঙ্গে ডিল ফাইনাল করে মেয়ে জ্যোতি।

প্রেমিকের মাধ্যমে তিন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে চুক্তি হয় দেড় লাখ টাকা। কি’লিং মি’শনে যাওয়ার আগে খু’নি’দের জ্যোতি তার স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১৬ হাজার টাকা দিয়ে দেয়।

চুক্তিমতো মঙ্গলবার রাতেই হ’ত্যা’কা’ণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। বুধবার সকালে জ্যোতির বাবা জহিরুল ইসলাম আলিয়ার যখন প্রাতঃভ্রমণে বাড়ির বাইরে যান। এ সুযোগে গ’লা টি’পে হ’ত্যা করা হয় জ্যোতির মা মাহমুদা বেগমকে।

সোমবার বিকালে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমেদের কাছে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ সব কথা জানায় গ্রেফতারকৃত জ্যোতি, নাইম ও নাঈমের সহযোগী রাকিব।

মা’ম’লা’র তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিকগঞ্জ সদর থানার এসআই শামীম আল মামুন জানান, মাহমুদা বেগমকে নিজ ঘরে খাটের ওপর লেপ দিয়ে চে’পে শ্বা’স’রো’ধে হ’ত্যা’র পর, জ্যোতিকে হাত, পা, মুখ বেঁধে মা’কে হ’ত্যা নাটক সাজায় তারা। কিন্তু একদিনের মাথায়, পুলিশের তদন্তে তা ফাঁ’স হয়ে যায়।

তিনি বলেন, বুধবার সকালে হ’ত্যা’কা’ণ্ডের সময় বাড়িতে থাকা নি’হ’তের একমাত্র মেয়ে জ্যোতিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই দিনই থানায় ডেকে নেন তারা। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হ’ত্যা’কাণ্ডের সঙ্গে তার স’ম্পৃ’ক্ত থাকার কথা স্বীকার করে সে।

বৃহস্পতিবার রাতে গ্রে’ফ’তার দেখিয়ে শুক্রবার বিকালে তাকে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালতের মানিকগঞ্জ সদরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ করা হয়।হত্যা”কা’ণ্ডের ব্যাপারে অধিকতর তথ্য আদায়ের লক্ষ্যে আদালতের বিচারকের কাছে ১০ দিনের রি’মা’র আবেদন করা হয়। বিচারক ৪ দিনের রি’মা’ন্ড মঞ্জুর করেন।

শুক্রবার বিকালে নি’হ’তের স্বামী জহিরুল ইসলাম আলিয়ার বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মেয়ে জ্যোতি আক্তার, তার কথিত প্রেমিক নাঈম ইসলাম এবং তার সহযোগী রাকিব ও অন্য ২ সহযোগীর বি’রু’দ্ধে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হ’ত্যা’কা’ণ্ডের অ’ভি’যোগ দায়ের করেন।

শুক্রবার রাতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জ্যোতি আক্তার তার মায়ের হ’ত্যা’কাণ্ডের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতেই তার কথিত প্রেমিক কেরানীগঞ্জের আরাকুল গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে নাঈম ইসলাম (২৫) এবং তার সহযোগী একই গ্রামের মৃ’ত আবদুল বারেকের ছেলে রাকিবকে (২৫) গ্রে’ফ’তার করে পুলিশ। হ’ত্যা’কা’ণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও দুই সহযোগীকে গ্রে’ফ’তা’রের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, জ্যোতির সঙ্গে মোবাইল ফোন-ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জারের আলাপচারিতায় ৮ মাস আগে ভোলা জেলার নির্মাণ শ্রমিক নাঈমের সঙ্গে জ্যোতির প্রেমের এবং দৈ’হি’ক স’ম্প’র্ক গড়ে উঠে। তার সঙ্গে বিয়ে দিতে নারাজ হন মা। তাই তিন মাস আগে জ্যোতি ও নাঈম পরিকল্পনা করে তাকে হ’ত্যা করার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতেই নাঈম ও তার ৩ সহযোগী জ্যোতির ঘরে প্রবেশ করে। রাতে কয়েক দফা চেষ্টা করেও হ’ত্যার সুযোগ পায়নি। সকাল ৭টার দিতে জ্যোতির বাবা প্রাতঃভ্রমণে বের হলে তারা মাহমুদা বেগমকে হ’ত্যা’ করে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন