ঘুমাতে গেলে এখনও রেণুকে খোঁজে ছোট্ট তুবা

প্রকাশিত: জানু ২৮, ২০২০ / ০৪:১৪অপরাহ্ণ
ঘুমাতে গেলে এখনও রেণুকে খোঁজে ছোট্ট তুবা

মাকে খোঁজে তুবা- ‘মা কোথায় গেছে? মা আসে না কেন? মা কখন আসবে? মা না এলে আমি খাবো না’—এখনও মায়ের জন্য এভাবেই আহা’জারি করে ছোট্ট তুবা। মায়ের বালিশ সঙ্গে নিয়ে রাতে ঘুমাতে যায় সে। গত বছরের ২০ জুলাই রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় তুবার মা তাছলিমা বেগম রেণুকে ছেলেধ’রা স’ন্দে’হে পি’টি’য়ে হ ত্যা করা হয়।

সেদিন সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের সন্তানের ভর্তির ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন রেণু। এ সময় স্থানীয় কিছু মানুষ তাকে দেখিয়ে ‘ছেলেধ’রা ছেলেধ’রা’ বলে চেঁচাতে থাকে। পরে তাকে পি’টি’য়ে হ ত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় ওই রাতেই বাড্ডা থা’না’য় অজ্ঞাত ৪-৫শ জনকে আ’সা’মি করে একটি মা’ম’লা দায়ের করেন নি’হ’তের ভাগিনা সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চা’ঞ্চ’ল্যকর এই হ ত্যা মা’ম’লার যেভাবে অগ্রগতি হওয়া দরকার ছিল সেভাবে হচ্ছে না। বর্তমান ত’দন্ত কর্মকর্তাও অগ্রগতি জানাতে পারছেন না।

তিনি বলছেন, পু’লিশ যে আ’সা’মিদের গ্রেফ’তার করেছে তাদের নাম ঠিকানা ও কিছু তথ্য ভুল ছিল। সেগুলো সংশোধন করা হচ্ছে।’ টিটু আরও বলেন, ‘ত’দন্ত কর্মকর্তাদের আমি প্রায়ই বলে আসছি, রেণু হ ত্যার পেছনে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বিষয়টি বারবার ত’দন্ত কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানালেও তারা আমলে নিচ্ছেন না।’

রেণুর ছেলে তা-সিন আল মাহির ও মেয়ে তাসমিন মাহিরা তুবার বিষয়ে নাসির উদ্দিন টিটু বলেন, ‘‘রেণুর ছেলে তা-সিন আল মাহির কিছুটা বুঝে। তারপরও তার মায়ের স্মৃতি মনে পড়লে নিশ্চুপ থাকে। খাওয়া-দাওয়া করতে চায় না। কিন্তু তুবা এখনও জানে না তার মা কোথায় আছে। সে প্রায়ই জিজ্ঞেস করে ‘মা কোথায় গেছে’, ‘মা আসে না কেন’, ‘মা কখন আসবে’।’’

মা’ম’লার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ত’দন্ত কর্মকর্তা আবদুল হক (পরিদর্শক, গোয়েন্দা পু’লিশ) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মা’ম’লাটির এজাহারে ৪০০- ৫০০ জনকে আ’সামি করা হয়েছে। কিছু আ’সামিকে ঘটনার সময় গ্রেফ’তার করা হয়েছে।

যাদের গ্রেফ’তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে কিছু আ’সামির ঠিকানা ভুল ছিল। এগুলো সংশোধন চলছে। মা’ম’লাটির ত’দন্তে অগ্রগতি রয়েছে। আমি মা’ম’লার দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করছি। ঘটনার সঙ্গে আর কোনও আ’সামির যদি সংশ্লিষ্টতা থাকে তাহলে তাদেরও আ’ইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যদের সংশ্লিষ্টতার যে অভি’যোগ আছে, তা আমরা পর্যালোচনা করছি। হঠাৎ করেই কাউকে তো গ্রেফ’তার করা যায় না।’

মা’মলায় এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফ’তার করা হয়। আ’সা’মিরা হলো, ইব্রাহিম হোসেন, শাহিন, বাচ্চু মিয়া, বাপ্পি, মুরাদ মিয়া, সোহেল রানা, বিল্লাল, আসাদুল ইসলাম, রাজু, আবুল কালাম আজাদ, ওয়াসিম, জাফর হোসেন, রিদয় হোসেন ও রিয়া বেগম। এদের মধ্যে ওয়াসিম ও জাফর হোসেন ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রিয়া বেগম গত ১৯ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জা’মিন পেয়েছেন। বাকি আ’সা’মিরা কারা’গারে।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন