তোর আল্লাহ কি তোকে বাঁচাতে আসবে? : মুসলিমদের ভারতের পুলিশ

প্রকাশিত: জানু ২৭, ২০২০ / ০৯:০৭অপরাহ্ণ
তোর আল্লাহ কি তোকে বাঁচাতে আসবে? : মুসলিমদের ভারতের পুলিশ

ভারতে নাগরিকত্ব (সিএএ) সংশোধনী আইনের বি’রু’দ্ধে ব্যাপক গ’ণ’বি’ক্ষোভ চলছে। দেশটির উত্তরপ্রদেশ (ইউপি) রাজ্যেও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে বি’ক্ষো’ভ’কারীদের প্রতি যে নৃ’শং’স নি’র্যা’তন চালিয়েছে রাজ্য পুলিশ তা অবর্ণনীয়।

বিশেষ করে রাজ্যের মুসলিম বাসিন্দাদের উপর ব্যাপক ‘নি’র্যা’ত’নের অ’ভি’যোগ রয়েছে ইউপি পুলিশের বি’রু’দ্ধে। মুসলিম নারী-পুরুষ তো বটেই এমনকি শিশুদের পর্যন্ত রেহাই দিচ্ছে না তারা।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কারাভান ডেইলিতে ইউপি পুলিশের নি’র্যা’তনের ভ’য়া’বহ সব কাহিনী উঠে এসেছে। বিশেষ করে শিশুদের উপর নি’র্যা’তনের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অনলাইন পোর্টালটি।

উইপি’র মুজাফফরনগর শহরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৪ বছর বয়সি একটি শিশু জানিয়েছে, কীভাবে পুলিশ আগুনে গরম করা লোহার রড দিয়ে তার হাত পু’ড়ি’য়ে দিয়েছে। শিশুটি বলে, ‘পুলিশ গরম লোহার রড দিয়ে আমার হাত পু’ড়ি’য়ে দিয়েছে। তারা আমাকে রাস্তায় জ্ব’লতে থাকা আ’গু’নের মধ্যে ফেলে দিতে চেয়েছিল কিন্তু দুইজন পুলিশ আমাকে রক্ষা করে।’

পুলিশি নি’র্যা’তনের শি’কা’র শিশুটি বলে, ‘তারা(পুলিশ) আমাদেরকে এবং আমাদের পবিত্র কোরানকে গা’লি দিয়েছে। দুইদিন আ’ট’কে রাখার সময় কোন খাবারও দেয়নি। এমনকি পুলিশ যে আমাদের আ’ট’কে রেখেছে এই খবরটিও পরিবারের সদস্যদের জানানোর কোন ব্যবস্থা করেনি।’

সে উল্লেখ করে একজন পুলিশ আমার কাছে এসে বলে, ‘তোর আল্লাহ কি এখন তোকে বাঁচাতে আসবে?’ এছাড়া পুলিশ তাদেরকে জয় শ্রী রাম স্লোগান দিতেও বাধ্য করেছে বলে জানায় নি’র্যা’তিত শিশুটি।

প্রসঙ্গত, ইউপিতে পুলিশি নির্যাতনের যে অ’ভি’যোগ রয়েছে তা সরেজমিনে অ’নু’সন্ধান করতে গিয়েছিল কারওয়ান-ই- মোহাব্বত টিম। তাদের প্রতিবেদনেই এই শিশুটির নি’র্যা’তনের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। ইউপি পুলিশ কম বয়সি শিশুদের থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের নির্মমভাবে প্রহার করে। পুলিশের প্রহারের শিকার অনেক শিশুকেই আহত অবস্থায় দেখতে পেয়েছে টিমের সদস্যরা।

তারা দেখতে পান, পুলিশ হেফাজত থেকে তিন সপ্তাহ আগেই মুক্তি পেলেও এখনও ভয়ে কাঁপছিল ছেলেটি। সে জানায়, সিএএ’র বি’রু’দ্ধে বি’ক্ষো’ভের সময় সে তার ভাইয়ের খোঁজে রাস্তায় গিয়েছিল কিন্তু পুলিশ তাকে বি’ক্ষো’ভ’কারী সন্দে’হে আ’ট’ক করে। এরপর তাকে নি’র্ম’ম’ভাবে পে”টায়। রড দিয়ে তার হাত পু’ড়ি’য়ে দেয়।

এরপর তাকে অ’বৈ’ধভাবে একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে দুইদিন ‘আ’ট’কে রাখা হয়। এই দুইদিন তাকে কোন খাবারই দেয়া হয়নি। শিশুটি জানায় ওই ক্যাম্পে আ’ট’কে রাখা কাউকেই কোন খাবার দেয়া হতো না। বিশেষ করে যাদের পরনে কুর্তা পাজামা রয়েছে অর্থাৎ পোশাক দেখে মুসলমান মনে হয়েছে তাদেরকেই ক্যাম্পে আ’ট’কে রেখেছে পুলিশ।

ছেলেটি জানায়, প্রথম রাতে পুলিশ তাকে মা’র’ধোর করার পর ১০০ জন বি’ক্ষো’ভ’কারীর নাম বলার জন্য জো’রা’জুরি করতে থাকে। শুধু তাকেই নয় আরো যারা ওখানে ছিল তাদের সবার প্রতিই একই রকম আ’চ’রণ করেছে ইউপি পুলিশ।

এছাড়া ইউপির সামভাল শহরেও ছোট শিশুদের উপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনা জানতে পারা যায়। কারওয়ান-ই-মোহাব্বত টিমের তথ্য অনুযায়ী, সামভাল শহরে এখনো ১৯ জন শিশু পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

ইউপির মুজাফফরনগর, মিরাট, সামভাল এবং ফিরোজাবাদ এই চারটি শহরে আটককৃত ব্যক্তিদের উপর চ’র’ম নি’র্যা’তন করেছে পুলিশ। মুজাফফরনগরে একটি এতিমখানা মাদ্রাসা থেকে ৪০ জন শিশুকে পুলিশ আ’ট’ক অরে মারধোর করেছে বলে অ’ভি’যো’গ রয়েছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন