হৃদরোগের লক্ষণ বুঝবেন কি করে?

গোটা বিশ্বে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভাসের কারণেই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশি মৃত্যু হচ্ছে। তবে সবসময় যে হৃদরোগের জন্য জীবনযাত্রা দায়ী তা নয়। বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যার জন্যও এটা হতে পারে।

এছাড়া স্থূলতা, ধূমপান , অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানের কারণেও অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে হৃদরোগের সূত্রপাত একদিনে হয় না। ধীরে ধীরে হতে থাকে। সাধারণত হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্তত এক মাস আগে শরীর কিছু সংকেত দেয়। যেমন-

১. বুকে ব্যথা নানা কারণেই হতে পারে। গ্যাস থেকে শুরু করে রক্তচাপের কারণেও অনেকসময় এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে বুকে ব্যথা হলে অবহেলা করা ঠিক নয়। চিনচিনে বা বুকে চাপ ধরা ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২. হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে অনেকে কোনও কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ঘামেন। এটা দিনের যে কোনও সময় হতে পারে। অবশ্য নারীদের মেনোপজ হয়ে যাওয়ার পরও এই ধরনের লক্ষণ বেশি দেখা যায়।তবে ঘন ঘন এই সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৩. নার্ভের সমস্যা থাকলে অনেকেসময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। এছাড়া যাদের অল্পতেই প্যানিক হওয়ার অভ্যাস আছে তাদেরও অল্পতেই হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।অতিরিক্ত চিন্তা, প্যানিকগ্রস্ততা হৃদরোগের অন্যতম কারণ। যাদের অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা ঘন ঘন হয় তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫. নানা কারণেই চুল পড়তে পারে। তবে যেসব পুরুষের বয়স ৫০ এর উপর এবং যাদের কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে তাদের অতিরিক্ত চুল পড়া হৃদরোগের পূর্ব লক্ষণ।

৬. যারা অল্পতেই হাঁপিয়ে পড়ছেন কিংবা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তাদের অবশ্যই বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৭. অনেকেরই ঘুমের সমস্যা আছে। রাতে কিছুতেই ঘুম আসতে চায় না। নিদ্রাহীনতা যেমন অন্যান্য রোগের উপসর্গ তেমনই হৃদরোগের সমস্যাও ডেকে আনে। এ কারণে ঘুমের সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ো উচিত।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত