কিডনি সুস্থ রাখার সাতটি উপায়

মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ কিডনি। এটি বিকল হলে মৃত্যু নিশ্চিত। কিডনি রোগ নীরবে শরীরের ক্ষতি করে। কিডনি রোগীর সংখ্যা এখন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই কিডনি নিয়ে একটু সচেতনতা দরকার। কিডনি সুস্থ রাখতে কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে। জেনে নিন কারণগুলি।

লবণ: অতিরিক্ত লবণ কিডনির জন্য ক্ষতিকারক। এতে সোডিয়াম থাকে। সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে পানির ভারসাম্য নষ্ট হয়। সেই সোডিয়াম শরীর থেকে বের করতে গিয়ে কিডনির উপর বেশি চাপ পড়ে। ধীরে ধীরে কিডনি খারাপ হতে শুরু করে। কিডনির ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, এটি ৭০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর খারাপের লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে থাকে। তাহলে সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণে কী করা দরকার? অবশ্যই খাদ্যভ্যাসে বদল আনতে হবে। বাড়ির খাবারের থেকেও বাইরের খাবার বা ফাস্ট ফুডে প্রচুর পরিমাণে লবণ থাকে। চিপস, যে কোনও ভাজাভুজিতে লবণের মাত্রা বেশি থাকে। তাই এই খাবারগুলি এড়িয়ে চলতে হবে।

অপর্যাপ্ত পানি: কম পানি খেলে কিডনির উপর চাপ পড়ে। কিডনির কাজ হলো শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়া। পানি যদি কম খাওয়া হয় তাহলে ‘ফ্রিলট্রেশন প্রসেস’ ঠিকমতো হয় না। এতে কিডনির উপর চাপ বাড়ে।

প্রস্রাব চেপে রাখা: প্রস্রাব চেপে রাখা কখনোই উচিত নয়। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখলে কিডনির উপর চাপ পড়ে।

কফি: প্রচুর পরিমাণে কফি, চা বা ক্যাফিনেটেড ড্রিঙ্ক কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। এই সব খাবার থেকেও নিজেকে দুরে রাখুন।

পেইন কিলার: মুড়ি মুড়কির মতো পেইন কিলার কখনোই খাওয়া উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে যারা পেইন কিলার নিচ্ছেন, তাদের কিডনির কার্যকারিতা লোপ পেতে থাকে।

ঠাণ্ডা জনিত ফ্লু বা ইনফেকশন: ঠাণ্ডা জনিত ফ্লু বা ইনফেকশন হলে হালকা ভাবে নেবেন না। শরীরকে হাইড্রেটেট রাখুন। প্রস্রাবের উপর নজর রাখুন। এই সব কারণেও কিডনি খারাপ হতে পারে।

অ্যালকোহল : অতিরিক্ত মদ্যপান কিডনির খারাপের অন্যতম বড় কারণ। বেশি মদ্যপান করলে কিডনির উপর দু’ভাবে চাপ পড়ে। প্রস্রাব বেশি হয়। শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। মদ্যপানেরও সেফ লিমিট আছে। সেটি মাথায় রেখে মদ্যপান করুন।

প্রোটিন বন্ধ: হাই প্রোটিন ডায়েট কিডনি খারাপ করে দেয়। কারণ প্রোটিন পাচনের সময় অনেক বর্জ্য পদার্থ বের হয়। সেই বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বের হবে সেই কিডনি মারফত। ফলে কিডনির উপর চাপ বাড়ে। এর সঙ্গে পানি কম খেলে এবং লবণ বেশি পরিমাণে নিলে কিডনি আরও নষ্ট হয়ে যায়। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে অবশ্যই এটি সাতটি নিয়ম মাথায় রাখুন।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত