সৌদি বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম, ভুল করলেই শা’স্তি

প্রকাশিত: জানু ২৩, ২০২০ / ১২:৩১অপরাহ্ণ
সৌদি বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম, ভুল করলেই শা’স্তি

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে কাস্টম ও বহির্গমন বিভাগ প্রবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম জারি করেছে। গত ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জেদ্দা দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে নোটিশের মাধ্যমে এ বিষয়ে অবহিত করেছে।

নতুন নিয়মে যেসব বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবে প্রবেশ ও বহির্গমনকালে দেশটির কাস্টম রুল অনুসারে কোনো প্রবাসী যাত্রীর কাছে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, স্বর্ণের বার, মূল্যবান ধাতু, পাথর এবং জুয়েলারি পণ্য যা ৬০,০০০ (ষাট হাজার) সৌদি রিয়ালের সমমান বা এর বেশি দামের হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর অমান্য করলে দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী শা’স্তির বিধান রয়েছে মর্মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের অবহিত করেছে।

১৬ দিনে সৌদি থেকে খালি হাতে ফিরলেন দেড় হাজার প্রবাসী

বছর শুরু হতে না হতেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব থেকে শ্রমিক ফেরা শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ১০৯ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি সরকার। এ নিয়ে এ বছরের ১৬ দিনে খালি হাতে এক হাজার ৬১০ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি ৮০৪ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন এসব প্রবাসী। শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব প্রবাসীর অভিযোগ আকামা (ওয়ার্ক পারমিট) থাকা সত্ত্বেও তাদের ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি প্রশাসন।

এমন অভিযোগ করে নোয়াখালীর আজিম হোসেন বলেন, মাত্র দুই মাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলাম। পাসপোর্টে তিন মাসের ভিসা থাকা সত্ত্বেও বাজারে যাওয়ার পথে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে। এ সময় কফিলের (নিয়োগকর্তা) সঙ্গে পুলিশ কথা বলিয়ে দিয়ে কাজ হয়নি। তারা আমাকে দেশে পাঠিয়ে দিল।

আজিম হোসেনের মতো একই অভিযোগ করেছেন মুন্সীগঞ্জের রুহুল আমিন, কুমিল্লার ফিরোজ হোসেন ও মানিক, শরীয়তপুরের মিলন, যশোর জেলার মোসলেম উদ্দিন, বগুড়ার মেহেদি হাসান, গাজীপুরের রাজিব। ফেরত আসা ১০৯ বাংলাদেশির বেশিরভাগেরই এমন অবস্থা বলে জানান তারা।

দেশে ফেরা কর্মীদের অনেকের অভিযোগ, আকামা বানাতে টাকা দেয়া হলেও কফিল আকামা তৈরি করে দেননি। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে কফিল আর যোগাযোগ করছেন না এবং গ্রেফতারকৃত কর্মীদের দায়দায়িত্ব নিচ্ছেন না। তাই দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের। বরাবরের মতো এবারও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে জরুরি সহায়তায় এসব প্রবাসী ফেরত এসেছেন।

এসব বিষয়ে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, গত বছর থেকেই নিঃস্ব অবস্থায় সৌদি প্রবাসীরা ফিরছেন। কয়েক মাস আগে গিয়েছিলেন এমন লোককেও পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। জমি, ভিটা বিক্রি করে সৌদি গিয়ে এভাবে ফিরে এসে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এসব প্রবাসী।

প্রসঙ্গত প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক থেকে দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সনে ২৫ হাজার ৭৮৯ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নতুন বছরের শুরুর ১৬ দিনে এক হাজার ৬১০ বাংলাদেশি ফিরলেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন