পুরুষদের টা’র্গেট করে নারী পকেটমা’ররা, নারীদের টা’র্গেট করে শিশুরা!

প্রকাশিত: জানু ২৩, ২০২০ / ০১:৪৫পূর্বাহ্ণ
পুরুষদের টা’র্গেট করে নারী পকেটমা’ররা, নারীদের টা’র্গেট করে শিশুরা!

ফারুকের (আসল নাম নয়, শিশু হওয়ায় নাম প্রকাশ করা হলো না) বয়স ১৩ বছর। বাপ-দাদা সবার পেশাই প’কে’ট’মা’রা। ফারুকের বাড়ি বগুড়া শহরের চেলোপাড়া সান্দারপট্টিতে। পড়াশোনা করেনি। পারিবারিক পরিমণ্ডল, আবহ তাকে এই পেশায় নিয়ে এসেছে। এখন পাঁচজনের একটি দল চালায় ফারুক।

জানা গেছে, এখন বগুড়া শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ৩০০ পকেটমা’র। প’কে’ট’মা’রের তালিকায় যেমন আছে ফারুকের মতো কিশোর, তেমনি আছে নারী সদস্যসহ মাঝবয়সী পুরুষরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের ফতেহ আলী বাজার, গালাপট্টি, নিউ মার্কেট, সাতমাথা, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্র টা’র্গেট করে মানুষের সর্বস্ব হাতিয়ে নেয় তারা।

তারা মিশে থাকে মানুষের মধ্যে। ফাঁ’দে ফেলে বিশেষ করে বগুড়ায় কাজে আসা বা বেড়াতে আসা লোকজনকে। সুযোগ পেলে তাদের কেউ কেউ ছি’ন’তা’ই করতেও পিছপা হয় না।

নারী প’কে’ট’মা’ররা টা’র্গেট করে পুরুষের পকেট ও নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগ। শিশু-কিশোরদের টা’র্গে’ট মূলত নারীরা। চার-পাঁচজনের দল নিজেদের মধ্যে ভিড় তৈরি করে কেনাকাটা করতে আসা নারীদের ব্যস্ত রাখে। এরপর কৌশলে ব্যাগের চেইন খুলে বা কেটে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা, মুঠোফোন ও মূল্যবান গয়না।

দিন শেষে পকেটমারের হাতিয়ে নেয়া এসব মুঠোফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র বিকিকিনির জন্য সান্দারপট্টি এলাকার কয়েকটি স্থানে বসছে গোপন বাজার। সেখানে চলছে কেনাবেচা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানা-ফাঁড়ি পুলিশ বিষয়টি জানার পরও নিচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। এ কারণে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে এদের দৌরাত্ম্য।

থানা সূত্র জানায়, পকেটমারের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারানো মানুষের বেশির ভাগই থানায় অভিযোগ করে না। তারপরও প্রতিদিন লিখিত-মৌখিক মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫টি অ’ভি’যোগ আসে। এর মধ্যে সৌভাগ্যবান দু-একজন হয়তো প্রতিকার পায়। তবে এক্ষেত্রে লাগবে প্রভাবশালীদের সুপারিশ।

বগুড়া সদর ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ বলেন, প’কে’ট’মা’র সারা শহরে ছড়িয়ে আছে। এদের বি’রু’দ্ধে অ’ভি’যা’ন চালানোও একটা সমস্যা। কারণ প্রায় সবাই মাদকাসক্ত। দেখা যায় ধরে আনলে উল্টো সামলানো দায় হয়ে পড়ে। এরাই রাত নামলে নেমে পড়ে শহরের রাস্তাঘাটে। এদের অনেকেই দিনে প’কে’ট’মার, রাতে হয়ে ওঠে ভ’য়ঙ্ক’র ছি’ন’তাইকারী। এরা অ’স্ত্রও ব্যবহার করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দিনের পকেটমার আর রাতের ছি’ন’তা’ই’কারীদের সঙ্গে থানা-ফাঁড়ির পুলিশের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার প্র’ভাবশালীদের রয়েছে অন্য রকম সখ্য। প’কে’ট কে’টে, নারীর ব্যাগ থেকে হাতিয়ে নেয়া টাকা-পয়সা ও মুঠোফোন, মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রির অর্থের ভাগ যাচ্ছে পুলিশ ও নেতাদের প’কেটে। এ কারণে পুলিশ অ্যা’কশন চালায় না।

প’কেট কা’টতে গিয়ে অথবা ছিনতাই করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে দু-একজন জনতার হাতে ধরা পড়লেও পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে বেরিয়ে আসে দ্রুতই। থানায় সোপর্দ করার পর প’কে’ট’মা’রকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের কাছে তদবির করেন অনেক রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রভাবশালীরা।

টাকা-পয়সার বিনিময়ে তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার অ’ভি’যো’গও রয়েছে একাধিক। মাঝে মাঝে গ্রে’ফ’তার অ’ভি’যান চালানো হলেও জা’মি’নযোগ্য ধারায় গ্রে’ফ’তার দেখিয়ে তাদের পাঠানো হয় জেলহাজতে। দু-এক দিনের মাথায় জা’মি’নে বেরিয়ে গিয়ে আবারও পুরনো সেই কাজে জ’ড়ি’য়ে পড়ে তারা।

ব্যবসায়ী, এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহরের প’কে’ট’মা’রের বেশির ভাগই চেলোপাড়া-সান্দারপট্টি এলাকার। এই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি। সান্দারপট্টির পকেটমা’র পল্লীটিও তারই নিয়ন্ত্রণে। এমন উদাহরণও আছে, পুলিশের কাছ থেকে তার কাছে অনুরোধ পৌঁছানোর পর এক ঘণ্টার মধ্যে খোয়া যাওয়া মালপত্র ফেরত পাওয়ার।

স্থানীয়রা জানায়, পকেটমা’র পল্লীর বেশির ভাগ পকেটমা’রই মা’দ’কসেবী। হে’রো’ইন, ই’য়া’বাসহ নানা নে’শা’য় আ’সক্ত তারা। সেখানে ১২ বছরের শিশু থেকে ৬০ বছর বয়সী পকেটমা’রও রয়েছে। সান্দারপট্টি ছাড়াও শহরের নামাজগড়, সেউজগাড়ি, সূত্রাপুর এলাকায়ও রয়েছে বেশ কিছু পকেটমা’র।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন