মুসলিম বস্তি প্রমাণ ছাড়াই বাংলাদেশি বলে গুঁ’ড়িয়ে দেওয়া হলো

প্রকাশিত: জানু ২২, ২০২০ / ১২:৫৪অপরাহ্ণ
মুসলিম বস্তি প্রমাণ ছাড়াই বাংলাদেশি বলে গুঁ’ড়িয়ে দেওয়া হলো

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) পাসের পর থেকেই এর প্রতি’বাদে ভারতে বি’ক্ষো’ভ চলছে। সেই বি’ক্ষো’ভের মাঝেই কোনো প্রমাণ ছাড়াই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে একটি বস্তি থেকে কয়েকশ’ বাসিন্দাকে উচ্ছে’দ করেছে বেঙ্গালুরু কর্তৃপক্ষ।

অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, পুলিশ এই উচ্ছে’দ অভি’যানে যাদের বাড়িঘর ভে’ঙে দিয়েছে তারা সবাই ভারতের নাগরিক এবং তাদের কাছে দেশটির বৈধ পরিচয়পত্রও আছে। অ্যাক্টিভিস্টদের অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অরবিন্দ লিম্বাভালি-ই সোশ্যাল মিডিয়াতে তথাকথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরু’দ্ধে লাগাতার উসকানিমূলক পোস্ট করে চলেছেন। আর তার ভিত্তিতেই পুলিশ বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরু’দ্ধে নির্বিচারে এই অভিযান শুরু করেছে।

ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, শনিবার শহরের মারাঠা হালল্লির কাছের ওই বস্তি ভে’ঙে গুঁ’ড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে আশ্রয় হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। তাদের কেউ আসাম, কেউ ত্রিপুরা থেকে কাজের জন্যে ওই বস্তিতে এসে থাকছেন। এমনকি তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কর্ণাটকের বাসিন্দাও রয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১১ জানুয়ারি ওই জমির মালিককে একটি নোটিশ দেয় বেঙ্গালুরু পুলিশ। তাতে বলা হয়, এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাই ওই জমি খালি করতে হবে।

তার পরের দিন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অরবিন্দ লিম্বভালি ওই বস্তির ছবি তুলে টুইটারে পোস্ট করেন। তিনি লিখেন, ‘ওই এলাকায় অন্য জায়গা থেকে অনেকে এসে বেআই’নিভাবে বসবাস করেছেন। তাদের অনেকেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।’ এরপরই ওই বস্তির সব বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়। তারপর একটি চিঠি দিয়ে বেঙ্গালুরু কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই বাড়িগুলো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা বেআ’ইনিভাবে তৈরি করেছে।

উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের দাবি, তারা কেউ বাংলাদেশি নন। সকলেরই ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের নথিপত্র রয়েছে।

আসাম থেকে আসা ওই বস্তির এক বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, ‘শনিবার দুপুর ১২টায় আমাদের ঘরবাড়ি গুঁ’ড়িয়ে দেওয়া হয়। আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। আমরা বাংলাদেশি নই। আমরা যে ভারতীয়, তার কাগজপত্র সব আছে। এখানে কাজ করে সংসার চলে আমাদের।’

ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওই বস্তির বাসিন্দারা আধার কার্ড, ভোটার কার্ড দেখিয়েছেন। আবার এনআরসিতে যে তাদের নাম রয়েছে, সে রাজ্য থেকে আসা কয়েকজন সেই নথিও দেখিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেঙ্গালুরুর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এন অনুচেথের বলেন, আমরা জমির মালিককে শুধু বাসিন্দাদের বৈধ কাগজ দিতে বলেছিলাম।

সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন