ভারতে বিক্ষোভকারী মুসলিমদের ওপর ক্ষতিপূরণ ধার্য করছে পুলিশ

প্রকাশিত: জানু ২১, ২০২০ / ০৯:৩৩পূর্বাহ্ণ
ভারতে বিক্ষোভকারী মুসলিমদের ওপর ক্ষতিপূরণ ধার্য করছে পুলিশ

ভারতের নাগরিক সংশোধনী আইন-সিএএ নিয়ে চলমান বিক্ষোভ দমনে ধরপাকড়ের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার সচিত্র একটি প্রতিবেদনে মধ্যপ্রদেশের মুসলিম ভুক্তভোগীদের পরিবার স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করতে দেখা গেছে। এদিকে সিএএ’র সমর্থনে বিক্ষোভ করতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিজেপি সমর্থকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা সালমান গত ২০ ডিসেম্বর তাঁর শিশু সন্তানের জন্য দুধ কিনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে চলা আন্দোলন দমনে এদিন পুলিশ গুলি ছুড়লে সেই গুলি গিয়ে লাগে সালমানের পেটে। হতদরিদ্র এই পিতা শুধু গুলিবিদ্ধই হননি, মুসলিম হওয়ায় তাঁর ওপর আনা হয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতিসাধনের অভিযোগ। নোটিশের পর নোটিশ দিয়ে সেই ক্ষতিপূরণ আদায়ের চাপ দেওয়া হচ্ছে সালমানের পরিবারকে।

উত্তর প্রদেশের নেথাউর শহরের বাসিন্দা সালমানের স্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের জীবনে এত দুঃখ নেমে আসবে তা কখনো ভাবিনি। তিনি আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে বিছানায়। সংসারের খরচ বহন করতে পারছি না। এই ক্ষতিপূরণ আমরা কিভাবে দেব।’

উত্তর প্রদেশের চারমাসের অন্তঃস্বত্তা নারী গুলশানের অভিযোগও অনেকটা একই। তিনি জানালেন, ২০ ডিসেম্বর ঘরের দরজা ভেঙে রাজ্য পুলিশ তাঁর স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। এখন ক্ষতিপূরণের নোটিশ পাঠানো হয়েছে তাঁর কাছে।

গুলশান বলেন, ‘আমার স্বামীকে জেলে আটকে রেখে এখন ক্ষতিপূরণ চাওয়া হচ্ছে। সাহায্য চাওয়ার মতো কেউ নেই। আমার স্বামীকে এনে দিন।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী বিক্ষোভ দমনে বেছে বেছে মুসলিমদের টার্গেট করেছে। গ্রেপ্তার ছাড়াও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টের অভিযোগ তুলে তাদের আর্থিক চাপে রাখছে।

এদিকে সিএএ সমর্থনে ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাজগড়ে গত রোববার ১৪৪ ধারা ভেঙে বিক্ষোভ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি সমর্থকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় জেলা কালেক্টরকে সমর্থকদের গায়ে হাত তুলতে দেখা যায়। এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশে বিজেপির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।

শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, ‘দিনটি ছিল গণতন্ত্রের জন্য কালো দিন। একজন কালেক্টর কি কোনোভাবে এই কাজ করতে পারে? ভারতীয় নাগরিকদের থাপ্পড় মারার অধিকার তাকে কে দিয়েছে?’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন