পাকিস্তান সফরে কে কয় নম্বরে ব্যাট করবে

প্রকাশিত: জানু ২০, ২০২০ / ০৯:১৩অপরাহ্ণ
পাকিস্তান সফরে কে কয় নম্বরে ব্যাট করবে

ভয়, শঙ্কা আর কমবেশি নিরাপত্তাহীনতা মাথায় নিয়েই পাকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়তে হবে ক্রিকেটারদের। ২৪ জানুয়ারি লাহোরে প্রথম টি-২০ ম্যাচ দিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ শুরু হবে। তার আগে ক্রিকেটারদের মনে যে ভীতির কালো মেঘ, যে উৎকণ্ঠা সেটাকে আড়াল করার মন্ত্র কে শোনাবে?

তামিম-সৌম্যরা কীভাবে জয় করে নেবে ভয়কে? যদিও ক্রিকেটারদের নিরাপত্তায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ইতোমধ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডো, পুলিশ বাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেছে। তথাপি পাকিস্তান জয়ের মিশনে ক্রিকেটাররা শুনতে ব্যাকুল অভয়ের বাণী।

বিসিবির হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো অবশ্য অন্যভাবে ভাবছেন। তিনি মনে করেন, ‘কড়া নিরাপত্তার এই আবদ্ধ পরিবেশে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কোনও সমস্যা হবে না। বরং তারা দলবদ্ধ হয়ে খেলতে পারবে। দলগত পারফরম্যান্স বের হয়ে আসবে।’

নিষেধাজ্ঞায় থাকা টি-২০ দলের নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে এই সফরে মিস করার কথা জানিয়েছেন বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপন। মাহমুদউল্লাহও জ্বরের পর শরীরে অল্প-বিস্তর রেশ নিয়ে ভুগছেন। দলের সবচেয়ে টেকনিক্যালি সলিড ব্যাটসম্যান ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম নিরাপত্তা ইস্রুতে পরিবারের চাওয়ায় পাকিস্তান সফর থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

বিপিএলে তামিমের ব্যাটে রান আসলেও টি-টোয়েন্টি সুলভ ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণ চলছে। এতকিছুর পরও হালে পানি খুঁজে নিতে চান ডোমিঙ্গো। পাকিস্তান সফরে তারুণ্যনির্ভর এই দলটির কাছ থেকে দারুণ কিছুই আশা তার।

আফিফ-লিটনদের এই হেড স্যারের কথায়- ‘সিনিয়রদের কারও কারও না থাকা তরুণদের সুযোগ এনে দিয়েছে। সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে। এই তরুণদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলে ডাক পাওয়ার দাবি রাখবে। আমরা মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বেই খেলবো। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও। ও দারুণ পেশাদার ও বিশ্বমানের ক্রিকেটার। ওর কাঁধেই চড়বে বাংলাদেশ।’

বিপিএলে ঝলক দেখানো ঢাকা প্লাটুনসের পেসার হাসান মাহমুদের সামনে এবার আরও বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ২০ বছর বয়সী এই পেসার। তবে বিপিএলে দারুণ পারফর্ম করা পেসারদের মধ্যে দলে জায়গা হয়নি মেহেদি হাসান রান ও ইবাদত হোসেনের। গতির পাল্লায় রানাকে টপকে গেছেন হাসান আর ইবাদককে স্পেশালি টেস্টের জন্যই প্রস্তুত করার পরিকল্পনা বিসিবির। ১৫ সদস্যের দলে ৫ পেসারের ভিড়ে স্পিনার একজনই, সবেদন নীলমণি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

গতকাল রবিবার পাকিস্তান সফরকে সামনে রেখে মিরপুরে ক্রিকেটারদের প্রথম দিনের অনুশীনের ফাঁকে ডোমিঙ্গোর কথায় উঠে আসে ব্যাটসম্যানদের পজিশনের বিষয়টিও। তামিম-সৌম্য নিয়মিত অপেনার।

ভারতে নাঈম শেখ ও লিটন দাস বেশ ভালোই করেছে। বিপিএলে অপেন করতে নামা আফিফ হোসেনের ব্যাটেও ছিল চওড়া হাসি। বিপিএল দিয়েই দলে ফিরেছেন আরেক অপেনার নাজমুল হাসান শান্ত। ফিরেছেন খুলনার হয়ে অপেন করা অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজও।

১৫ সদস্যের দলে অপেনারের ছড়াছড়িতে সাকিব-মুশফিক না থাকায় পাকিস্তান সফরে কেমন হবে ব্যাটিং অর্ডার- তারই আপাত ধারণা এসেছে ডোমিঙ্গোর ব্যাখ্যায়। তিনি বলেন, ‘যে ভালো ব্যাটসম্যান সে যে কোনও পজিশনেই নিজের সেরাটা দিতে পারে। এক্ষেত্রে আমরা ইয়ুন মরগান কিংবা কেন উইলিয়ামসনের কথা উদাহরণ হিসেবে সামনে রাখতে পারি। ওরা তিনে কিংবা পাঁচে- অর্ডার পরিবর্তন হলেও ধারাবাহিকতা হারায় না।’

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ খেলা ভারতের টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যানদের ভিড়ে গেল বছরের শেষ দিকে নাঈম শেখের ব্যাটিং বিসিবিকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।

এরইমধ্যে নাঈমকে ‘বাংলাদেশের সাঙ্গাকারা’ কিংবা লম্বা রেসের ঘোড়া হিসেবেও আখ্যা দেয়া হচ্ছে। বিপিএলেও রংপুরের হয়ে দারুণ একটা টুর্নামেন্ট কাটিয়েছেন। ফলে এই তরুণের অপেনারকে দিয়ে পাকিস্তান সফরেও অপেন করানো হবে তা প্রায় নিশ্চিত। সঙ্গে অভিজ্ঞ তামিম ইকবালের কম্বিনেশন তো থাকছেই।

ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে ডোমিঙ্গো বলেন, ‘লিটনও দুর্দান্ত। কিন্তু দলের প্রয়োজনে তাকে তিন-চারে ব্যাট করতে হতে পারে। কাছাকাছি পজিশনেই থাকবে আফিফ হোসেনও। পাঁচে মাহমুদউল্লা ও ছয় নম্বরে সৌম্য সরকারকে ৬ নম্বরে খেলানোর প্ল্যান আছে।’

বাংলাদেশ দলের নিয়মিত অপেনার তামিম ইকবাল। তবে পাকিস্তান সফরে নাঈম শেখ ও লিটন দাসকেই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ভাবছে অনেকে।

ডোমিঙ্গো বলেন, ‘তামিমের সঙ্গে এটাই আমার প্রথম সফর। ওকে আরেকটু বুঝতে চাই। তামিম যদি অপেন করে তাহলে তার সঙ্গে মারকুটে কেউ থাকলে সে অ্যাংকরিং রোল প্লে করতে পারবে। নয়তো তাকেও ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে হবে।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন