ইরানের হা’মলার যে ভয়ংকর বর্ণনা দিলো মা’র্কিন সেনারা

জেনারেল সোলেই’মানি হ’ত্যার জেরে ই`রাকে অবস্থিত দু’টি মা’র্কিন সাম’রিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষে’পণা’স্ত্র হা’মলার বর্ণনা দিয়েছেন সেখানে অবস্থানরত সেনারা। পূর্বপ্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও সেদিন একটি ক্ষে’পণা’স্ত্রের আ’ঘাতও ঠেকানো যায়নি- এমনটাই দাবি তাদের। গত ৩ জানুয়ারি ই`রাকের বাগদাদে এ হা’মলা চালায় ইরান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বুধবারের সেই হা’মলা স’ম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন মা’র্কিন সেনারা।

ই`রাকের আইন আল আসাদ ঘাঁটিতে যৌথ বাহিনী আয়োজিত গণমাধ্যমের পরিদর্শন অনুষ্ঠানে সেদিন ঘটনাস্থলে থাকা মা’র্কিন সেনাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেদিনের হা’মলায় যুক্তরাষ্ট্রের অসহায়ত্বের চিত্রই ফুটে ওঠে। আকাশে নজরদারি থাকা সত্ত্বেও সেদিনের হা’মলা ঠেকাতে পারেনি তারা। হা’মলার কয়েক ঘণ্টা পুরো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল ঘাঁটি। এমনকি তাদের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যোগাযোগব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সেদিন, ফলে সেনারা আকাশের শক্তিশালী নজরদারির নিয়ন্ত্রণও হা*রিয়ে ফেলে ওই সময়ে।

জানা যায় ৮ জানুয়ারি স্থানীয় সময় দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে বিমান ঘাঁটিতে ক্ষে’পণা’স্ত্র ছোঁড়ে ইরান। সেদিন ঘাঁটিতে মা’র্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী মোতায়েন ছিল। ঘাঁটিতে নজরদারি রাখার জন্য সে সময় মা’র্কিন সেনাদের সাতটি ড্রো’ন, মানবশূন্য যান আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকেলস (ইউএভিএস) ই`রাকের আকাশজুড়ে উড়ছিল।

এতে যুক্ত ছিল এমকিউ-১ সি গ্রে ঈগলস নামের অ’ত্যাধুনিক নজরদারি ড্রো’ন যেগুলো ২৭ ঘণ্টা পর্যন্ত উড়তে পারে এবং একই সময়ে সর্বাধিক চারটি ক্ষে’পণা’স্ত্র বহন করতে পারে। ঘাঁটির এক পাইলট স্টাফ সার্জেন্ট কসটিন হেরউইগ (২৬) বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে হা’মলা হতে পারে এমনটা ধারণা ছিল বলে আমাদের ড্রো’নগুলো চালু রাখি সেদিন।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক মা’র্কিন সেনা বলেন, আমাদের ঘাঁটিতে যখন প্রথম ক্ষে’পণা’স্ত্র’টি ছোঁড়া হয়, তখন গ্রে ঈগল চালাচ্ছিলেন হেরউইগ। হা’মলার আগাম সতর্কতার নির্দেশ পেয়ে ঘাঁটির প্রায় দেড় হাজার সেনার বেশির ভাগই দুই ঘণ্টা ধরে বাঙ্কারে অবস্থান নিয়েছিল। তবে কালো ভার্চ্যুয়াল ককপিটে বসে যানগুলোকে রিমোট কন্ট্রোল দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করছিল ১৪ জন পাইলট। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরায় চোখ রেখে চারপাশের পরিস্থিতি দেখছিলেন তারা। হেরউইগ বলেন, প্রথম ক্ষে’পণা’স্ত্রটি তাদের শেল্টারে আ’ঘাত হানে। তবে পাইলটরা আগের অবস্থান থেকে সরতে পারেনি আগের অবস্থানেই থাকতে হয়েছিল তাদের।

এরপর ঘাঁটির ওপর একের পর এক আ’ঘাত চলতে থাকে। সে সময়ে প্রা*ণে বাঁ’চার আশা দেন হেরউইগ। এদিকে ফার্স্ট সার্জেন্ট ওয়েসলে কিলপ্যাট্রিক বলেন, শেষ ক্ষে’পণা’স্ত্র ছোড়ার প্রায় এক মিনিট আগে আমি পেছন দিক দিয়ে বাঙ্কারের দিকে যাচ্ছিলাম, কিন্তু তখন দেখলাম আমাদের ফাইবার লাইনগুলো জ্বলছে। ওই লাইনগুলো ভার্চ্যুয়াল ককপিট থেকে এন্টেনা এবং স্যাটেলাইটের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এর মাধ্যমে গ্রে ঈগলসে সিগনাল পাঠানো হতো এবং ক্যামেরা থেকে পাওয়া ফিডব্যাক আইন আল-আসাদ ঘাঁটির স্ক্রিনে চলত।

ফাইবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সেখানে আর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না আমাদের। ফলে সেনারা ড্রো’নগুলোর অবস্থান শ*নাক্ত করতে পারছিল না। এছাড়া আকাশে-মাটিতে কোথায় কী’ ঘটছে সে স’ম্পর্কেও কিছুই জানতে পারছিল না তারা। সেই সময়ে পরিস্থিতি স’ম্পর্কে পুরো অন্ধকারে চলে যায় তারা- যুক্ত করেন কিলপ্যাট্রিক। শ’ঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তখন এমন একটা সময় ছিল যে, কোনো ড্রো’নকে যদি ভূপাতিত করাও হত তবু আইন আল-আসাদে অব’রুদ্ধ থাকা সেনারা জানতে পারত না।

হেরউইগ বলেন, ড্রো’ন ভূপাতিত হওয়া অনেক বড় একটা ব্যাপার। প্রথমত এটি অনেক ব্যয়বহুল এছাড়া এতে এমন কিছু জিনিস রয়েছে যা অন্যের হাতে পড়ুক বা শত্রুপক্ষের হাতে পড়ুক সেটি আম’রা চাই না। ২০১৯ সালের মা’র্কিন সাম’রিক বাজেট অনুযায়ী, একটি গ্রে ঈগলের দাম ৭০ লাখ মা’র্কিন ডলার (৫৯ কোটি ২৯ লাখ টাকার বেশি)। ই`রাকে মোতায়েনরত মা’র্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী ২০১৭ সাল থেকে এটি ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে ই`রাকের আকাশে ড্রো’ন ও উড়োজাহাজ ওড়ানোর জন্য যৌথ বাহিনী ই`রাকি সরকারের কাছে সবুজ সংকেত পায়। তবে ইরান হা’মলা চালানোর কয়েক দিন আগে ওই অনুমোদনের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। তবুও ই`রাকের আকাশে ড্রো’ন চালানো অব্যাহত রেখেছে মা’র্কিন বাহিনী।

৮ জানুয়ারি ক্ষে’পণা’স্ত্র হা’মলার একপর্যায়ে পাইলটরাও বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তবে হা’মলা বন্ধ হওয়া মাত্রই তারা দ্রুতভাবে গ্রে ঈগলসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে। ভোর হলে সেনারা পুড়ে যাওয়া ফাইবারের ৫০০ মিটার পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হন। ক্ষে’পণা’স্ত্রের আ’ঘাতে আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে গর্ত তৈরি হয়ে যায়। এছাড়া সেখানকার নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ফাঁকা পড়ে থাকে।

ওই সময়ে এয়ারক্র্যাফট অবতরণের জায়গাও বন্ধ করে দেয়া হয় বলে জানান হেরউইগ। ফলে কারো সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই সেগুলোকে অন্যত্র অবতরণ করাতে হয়। বাকি এয়ারক্রাফট কোথায় আছে আম’রা সেটি জানতামও না। ওই সময়টা আমাদের জন্য অনেক বেশী উদ্বেগজনক ছিল।

ক্ষে’পণা’স্ত্র হা’মলার পর মা’র্কিন সেনাদের জন্য বেশী প্রয়োজনীয় ছিল গ্রে ঈগলকে অবতরণ করানো। উদ্বেগজনক পর্যায়ে জ্বালানি কমে যাওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে আকাশে উড়তে হয়েছিল। পৃথকভাবে ড্রো’ন অবতরণ করাতে পাইলটদের কয়েক ঘণ্টা লাগে। শেষ ড্রো’নটিকে সকাল নয়টায় অবতরণ করানো হয় বলে জানা গেছে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত