খু’নিকে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কথায় ধরা হলো!

প্রকাশিত: জানু ১৩, ২০২০ / ০৬:২৬অপরাহ্ণ
খু’নিকে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কথায় ধরা হলো!

ভি’ক’টিমের মোবাইল ফোনে নিজের সিমকার্ড ঢুকিয়ে ৩০ সেকেন্ডে কথা বলার সূত্র ধরে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে মো. রানা (২০) নামে এক খু’নি। কিছু টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়ার জন্যই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সিএনজি অটোরিকশা চালক সাইদুর রহমানকে (১৯) গলা কে’টে হ’ত্যা করেন রানা।

গতকাল রোববার (১২ জানুয়ারি) কসবা উপজেলার শীতলপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রে’ফ’তার করে। রানা উপজেলার কাঞ্চনমুড়ি এলাকার দানু মিয়ার ছেলে। সোমবার দুপুর ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।

গত ২৯ ডিসেম্বর সাইদুর রহমান নিখোঁজ হওয়ার পর ২ জানুয়ারি কাঞ্চনমুড়ি এলাকার একটি বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে তার গলা কাটা ম’র’দে’হ উ’দ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সাইদুরের মা হনুফা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আ’সা’মিদের বি’রু’দ্ধে কসবা থানায় হ’ত্যা মা’ম’লা দায়ের করেন।

এসপি আনিসুর রহমান জানান, রানা ও সাইদুর সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। দুইজনের বাড়িও একই এলাকায়। সমবয়সী হওয়ায় তাদের চলাফেরা একসঙ্গে। গত ২৯ ডিসেম্বর কসবা সীমান্ত কমপ্লেক্সের সামনে সাইদুরের সঙ্গে রানার দেখা হয়। তখন সাইদুর মানিব্যাগে থাকা বেশ কিছু টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন দেখে রানার লোভ হয়। রানা তখন ফ’ন্দি আঁ’টতে তাকে টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়ার জন্য।

এসপি জানান, ফ’ন্দির অংশ হিসেবে ‘রাতে এক লোক ই’য়া’বা নিয়ে আসবে, অটোরিকশায় করে সেই ই’য়া’বা পৌঁছে দিলে চার হাজার টাকা দিবে’ বলে সাইদুরকে প্রলো’ভন দেখায়। তখন সাইদুর বলেন অটোরিকশা লাগবে না, রাতে সে কাঞ্চনমুড়ি ড্রেজার মাঠ ধরে হেঁটে ই’য়া’বাগুলো পৌঁছে দিবে।

কথা অনুযায়ী রাত সাড়ে ৭টায় ড্রেজারের মাঠে হাজির হয় সাইদুর। এরপর মাঠে দাঁড়িয়ে সাইদুর একই এলাকার দশম শ্রেণির এক ছাত্রী ও তার প্রেমিকার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে থাকে। এ সময় রানা একটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে পেছন থেকে সাইদুরের মাথায় আ’ঘা’ত করলে সে মাটিতে লু’টিয়ে পড়ে।

এরপর সাইদুরকে ঝাপটে ধরে ও মাফলার দিয়ে গলায় পে’চিয়ে ধরে রানা। পরে ক্ষুর দিয়ে সাইদুরকে গলা কে’টে হ’ত্যা করে তার মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন রেখে মাঠের পাশে সাইদুরের ম’র’দে’হ একটি বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয় রানা।

এসপি আরও জানান, সাইদুরকে হ’ত্যার পর পর্যন্ত তার প্রেমিকা ফোনে কথা বলছিল। হ’ত্যার পর রানা ফোনের সংযোগ কেটে দেয়। এরপর সেই ফোনে তার সিমকার্ড ঢুকিয়ে একটি নম্বরে ৩০ সেকেন্ড কথা বলে। প্রেমিকার কথা এবং সেই ৩০ সেকেন্ডের কথার সূত্র ধরে মোবাইল ফোন ও নম্বর ট্র্যাক করেই রানাকে শনাক্ত করা হয়।

রানা ঘটনার পর কসবা থেকে পা’লি’য়ে যায়। তাকে শনাক্ত করার পরও তাকে আমাদের সন্দেহ হয়নি মনে করানোর জন্য আমরা অন্য একজনকে গ্রে’ফ’তার করি। পরবর্তীতে সে নির্ভয়ে এলাকায় আসলে তাকে আমরা গ্রে’ফ’তার করি।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অ’প’রাধ) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দফতর) আবু সাঈদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) আব্দুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন