মানবিক ভুলেই ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানে হা’ম’লা হয়েছে: ইরান

প্রকাশিত: জানু ১১, ২০২০ / ১১:১৩পূর্বাহ্ণ
মানবিক ভুলেই ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানে হা’ম’লা হয়েছে: ইরান

ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানটিতে অনিচ্ছাকৃতভাবেই গু’লি লেগেছে বলে দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা বলছে, মানবিক ভুলের কারণেই এমনটা ঘটেছে।

ইরান জানায়, বি’প্ল’বী গার্ডসের স্প’র্শ’কাতর জায়গা দিয়ে উড়ালের কারণেই মানবিক ভুলে ক্ষে’প’ণা’স্ত্র হা’ম’লা’র শি’কা’র হয়েছে বিমানটি। এক্ষেত্রে দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

এদিকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এক টুইট বার্তায় বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সং’ক’টের কারণে মানবিক ভুলে এই বি’প’র্য’য় ঘটেছে।

তিনি বলেন, এটি একটি বেদনাদায়ক দিন। সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেছে যে মানবিক ভুলেই এই বি’প’র্য’য় ঘটেছে। আমাদের জনগণ, ভুক্তভোগীদের পরিবার ও আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা, দুঃখ ও শোক প্রকাশ করছি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, এ দুর্ঘটনায় দায়ী সব পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এর আগে তেহরানের কাছে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্র হা’ম’লা’য় বি’ধ্ব’স্ত হয়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা অস্বীকার করেছে ইরান।

এক বিবৃতিতে ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী রাবাই এমন কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এসব প্রতিবেদন ইরানের বি’রু’দ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যু’দ্ধ’। যেসব দেশের নাগরিক এই দুর্ঘ’ট’নায় নি’হ’ত হয়েছেন, তারা নিজেদের প্রতিনিধি পাঠাতে পারেন। বিমানের ব্ল্যাক বক্স তদন্ত প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি।

এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, তার কাছে বেশ কিছু গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য রয়েছে, যাতে এই আভাস দিচ্ছে যে তেহরান থেকে উড্ডয়নের পরেই ইউক্রেনের বিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে ইরান। এতে বিমানটিতে থাকা ১৭৬ যাত্রী নি’হ’ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬৩ কানাডীয় নাগরিকও রয়েছেন।-খবর এএফপি ও রয়টার্সের

তিনি এমন এক সময় এই মন্তব্য করলেন, যখন প্রকাশিত হওয়া একটি ভিডিওতে বিমানটিকে গু’লি করার মুহূর্তটি দেখা গেছে।

সেটিসহ সামাজিকমাধ্যমে অন্যান্য ভিডিওতে দেখা গেছে, বুধবার সকালে তেহরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপর্যয়কর ভুলে ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের পিএস৭৫২ ফ্লাইট হা’ম’লার শি’কা’র হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস এই ভিডিওটির সত্যাসত্য যাচাই করেছে। ভিডিওতে উজ্জ্বল আলোর ঝলকানির আগে দ্রুত চলাচলকারী একটি বস্তুকে কৌণিকভাবে উপরে উঠতে দেখা গেছে। সেটি অনুজ্জ্বল আলো ছড়াচ্ছিল এবং অব্যাহত সামনে ধাবিত হয়। কয়েক সেকেন্ড পরে একটি বি’স্ফো’র’ণের শব্দ শুনতে পাওয়া গেছে।

সব মিত্রসহ কানাডার নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য উল্লেখ করে ট্রুডো বলেন, ইরানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য(এসএএম) ক্ষে’প’ণা’স্ত্র ওই বিমানে আ’ঘা’ত হেনেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা জানি, এটা সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতই হবে। কানাডীয়দের প্রশ্ন রয়েছে, তারা তার জবাব আশা করতেই পারে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ অন্যান্য পশ্চিমা নেতৃবৃন্দও তাকে সমর্থন করেছেন। বরিস জনসন বলছেন, ক্ষে’প’ণা’স্ত্র’ হা’ম’লা’র সমর্থনে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, যেটা অনিচ্ছাকৃত হা’ম’লা’ই হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আভাস দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা মনে করেন, কিয়েভগামী বোয়িং ৭৩৭ একটি কিংবা দুটি ইরানি ক্ষে’প’ণা’স্ত্রে’র আ’ঘা’তের মুখোমুখি হয়েছে। পরে সেটি তেহরানের বাইরে বি’স্ফো’রি’ত হয়েছে।

মার্কিন জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড বৃহস্পতিবার বলছে, বিমান বিধ্বস্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের কাছ থেকে তারা অবগত হয়েছেন। কাজেই এই ঘটনার তদন্তে তারা একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে।

বিমান নির্মাতা বোয়িংকেও এই ঘটনার তদন্তে আহ্বান জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির বেসামরিক বিমান সংস্থা বলছে, উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরেই বিমানটি অন্ধকারে বিধ্বস্ত হয়েছে। পাইলটের কাছ থেকে কোনো রেডিও বার্তা না পাওয়ায় এই বি’প’র্য’য়ের আভাস দিয়েছে।

বিমানটিতে ৮২ ইরানি, ৬৩ কানাডীয়, ১১ ইউক্রেনের, ১০ সুইডিস, চার আফগান, তিন জার্মানির ও তিন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ইরাকি মার্কিন সা’ম’রিক ঘাঁটিতে ইরানের দূরপাল্লার ক্ষে’প’ণা’স্ত্র হা’ম’লা’র কয়েক ঘণ্টা পর এ বিষয়টি প্রকাশ্য হতে শুরু করে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন