মোবাইলে প্রেম থেকে বিয়ে করে প্রাণ দিলেন যৌ’তুকে জন্য

প্রকাশিত: জানু ১০, ২০২০ / ০৪:২৫অপরাহ্ণ
মোবাইলে প্রেম থেকে বিয়ে করে প্রাণ দিলেন যৌ’তুকে জন্য

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে যৌ’তু’কের দাবি পূরণ করতে না পারায় স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে নি’র্যা’ত’ন চালিয়ে নূরে হামজা নূর (২১) নামে এক গৃহবধূকে হ’ত্যা’র অ’ভি’যো’গ উঠেছে।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গাংগাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ নূরে হামজা নূর ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার মন্টু শেখের মেয়ে এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গাংগাইল গ্রামের মো. মমতাজ মাস্টারের ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমানের স্ত্রী।

সে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকার আরকে চৌধুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও কলেজের বিএনসিসির ক্যাডেট ছিলেন।

নি’হ’তের পরিবার, এলাকাবাসী ও থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোনের পরিচয়ে নূরে হামজা ও নোমানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

একপর্যায়ে ২০১৭ সালের ৩ মার্চ দুজনে গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর বাড়ি করিমগঞ্জ উপজেলার গাংগাইল গ্রামে বসবাস করছিলেন নূরে হামজা।

পরিবারের অ’ভি’যো’গ, বিয়ের পর থেকেই নোমান বিদেশ যেতে গৃহবধূর বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাঁচ লাখ এনে দিতে চাপ দিতে থাকেন।

দরিদ্র মা-বাবার এ মোটা অঙ্কের টাকা যৌ’তু’ক দেয়ার ক্ষমতা নেই বলে জানালে তার ওপর অমানুষিক নি’র্যা’ত’ন চালাতে শুরু করেন তার স্বামী নোমান।

প্রেম করে গোপনে বিয়ের কারণে মা-বাবাকে না জানিয়ে নীরবে এসব নি’র্যা’ত’ন সহ্য করে আসছিলেন এ গৃহবধূ।

অবশেষে মঙ্গলবার রাতে পুনরায় যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী নোমান ও স্ত্রী নূরে হামজার সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নোমান ক্ষি’প্ত হয়ে ওঠে রড-লাঠি দিয়ে নূরে হামজাকে এলোপাতাড়ি মা’র’পি’ট শুরু করেন।

পরিবারের লোকজনের অ’ভি’যো’গ, এরই একপর্যায়ে নোমানের মা ও বাবা নূরে হামজার দুহাত ধরে রাখেন এবং নোমান গ’লা’টি’পে শ্বা’স’রো’ধে স্ত্রী নূরে হামজাকে হ’ত্যা করে।

ঘটনার পর অ’ভি’যু’ক্তরা হ’ত্যা’কাণ্ডে’র বিষয় ধামাচাপা দিতে গৃহবধূর প্রা’ণ’হী’ন ম’র’দে’হ কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে লা’শ রেখে তারা পা’লি’য়ে যান।

পরে অ’ভি’যু’ক্তরা মোবাইল ফোনে নূরে হামজার বাবাকে জানান তার মেয়ে আ’ত্ম’হ’ত্যা করেছেন।

এ ঘটনায় নি’হ’ত গৃহ’বধূর বাবা মন্টু শেখ বাদী হয়ে বুধবার করিমগঞ্জ থানায় একটি হ’ত্যা মা’ম’লা করেন। এ মামলায় মেয়ের স্বামী নোমান (৩০), নোমানের বাবা সফর আলী (৭০) ও মা রেহেনাকে (৫৭) আ’সা’মি করা হয়।

মা’ম’লা’র বাদী নূরের বাবা মো. মন্টু শেখ বলেন, মেয়ে নূরে হামজা মঙ্গলবার মৃ’ত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগে রাত ৯টার দিকে তাকে ফোন করে তার স্বামীর বাড়িতে আসতে বলেছিলেন।

করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. মুমিনুল হক এ ঘটনায় হ’ত্যা মা’ম’লা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি মো. মুমিনুল হক বলেন, ময়’না’ত’দ’ন্তের পর নি’হ’তের লা’শ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই ঘটনাটি হ’ত্যা না আ’ত্ম’হ’ত্যা তার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

তবে ওসি দাবি করেন, ঘটনার দিন নোমান বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গেছে। আর এ ঘটনাটি নিশ্চিত হতে মোবাইল অপারেটর কোম্পানির কাছে মোবাইল লোকেশন ও কললিস্ট চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন