শ্যালককে খু’ন করে প্রতিপক্ষকে ফাঁ’সাতে চেয়েছিলো ভগ্নিপতি

প্রকাশিত: জানু ১০, ২০২০ / ০৩:১২অপরাহ্ণ
শ্যালককে খু’ন করে প্রতিপক্ষকে ফাঁ’সাতে চেয়েছিলো ভগ্নিপতি

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কামাল উদ্দিন হ’ত্যা’কা’ণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। প্রতিপক্ষকে ফাঁ’সা’তে গিয়েই পরিকল্পিতভাবে আপন শ্যা’ল’ককে হ’ত্যা’ করে ভগ্নিপতি মাখন মিয়া।

বৃহস্পতিবার বিকালে নবীগঞ্জ থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর এই হ’ত্যা’কা’ণ্ডের তথ্য জানান বাহুবল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, গত ৬ নভেম্বর বানিয়াচং উপজেলার উজিরপুর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হাতে খু’ন হয় বজলু মিয়ার ছেলে ফজল মিয়া। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ মাখন মিয়াসহ ১৮ জনের বি’রুদ্ধে ১০ নভেম্বর বানিয়াচং থানায় একটি হ’ত্যা মা’ম’লা করে নি’হ’তের পরিবার।

আ’সা’মিপক্ষের লোকজন আদালতে ফজল মিয়া হ’ত্যা’কা’ণ্ডের দায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এই হ’ত্যা’কাণ্ডে বেকায়দায় পড়ে যায় মাখন মিয়াসহ অপরাপর আসামিরা।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, একপর্যায়ে প্র’তি’পক্ষকে ফাঁ’সা’তে পরিকল্পনা করে মাখন মিয়া। তার দলবল নিয়ে মজিদ মিয়ার বাড়িতে গোপন বৈঠকে মাস্টার প্ল্যান করেন। বৈঠকে সহজ-সরল প্রকৃতির লোক ভগ্নিপতি মাখন মিয়ার বাড়িতে আশ্রয়ে থাকা শ্যালক কামাল উদ্দিনকে হ’ত্যা করে প্রতিপক্ষের বি’রু’দ্ধে মা’ম’লা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তিনি বলেন, প্রথম পরিকল্পনা করা হয় ২০১৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর বানিয়াচং থানার সীমান্তবর্তী নবীগঞ্জ থানার অন্তরগত লহরজপুর গ্রামের হাওরে। ওই দিন তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

পরে ১৬ ডিসেম্বর রাতে মাছ ধরার পরিকল্পনা করে কামাল উদ্দিনকে হাওরে পাঠিয়ে হ’ত্যা’র পরিকল্পনা নেয়া হয়। সেই মোতাবেক ভগ্নিপতি মাখন মিয়া পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কামাল উদ্দিনকে লহরজপুর হাওরে পাঠান। সেখানে শাখাবরাক নদীর পাশে ধান ক্ষেতে কামাল উদ্দিনকে পেছন দিক থেকে ধরে ফেলে শরীফ।

এ সময় প্রথমে লেবু মিয়া শিকল দিয়ে কামালের বুকে আ’ঘা’ত করে। একপর্যায়ে মাখন, ফারুক, অনুসহ সঙ্গীয় লোকজন উপর্যুপরি আ’ঘা’ত করে। এ সময় হা’ম’লা’কারীরাই চি’ৎ’কার করে বলে প্রতিপক্ষের লোকজন কামাল উদ্দিনকে মে’রে পালিয়ে যাচ্ছে।

পরে স্থানীয় লোকজন কামালকে মু’মূ’র্ষু অবস্থায় উ’দ্ধা’র করে হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে নেয়ার পথে কামাল উদ্দিনের মৃ’ত্যু হয়।

এ ঘটনার তিন দিন পর নি’হ’তের বড় বোন এবং হ’ত্যা’কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড মাখনের স্ত্রী নবীগঞ্জ থানায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হ’ত্যা মা’ম’লা করেন। পুলিশ ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমে চা’ঞ্চ’ল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করে।

ইতিমধ্যে ফারুক মিয়া ছাড়াও শরীফ মিয়া ও মুমিন মিয়াকে গ্রে’ফ’তা’র করা হয়েছে। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মাখন মিয়াকে শিগগিরই গ্রে’ফ’তা’র করা হবে বলে জানান পুলিশের সার্কেল এএসপি পারভেজ আলম চৌধুরী।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা এ মূহুর্তে নিরপ’রা’ধ দেখা যাচ্ছে। তদন্তে প্রমাণিত না হলে তাদের অব্যাহতি দেয়া হবে।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন