সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি খাল হাতিরঝিলের আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে

প্রকাশিত: জানু ১০, ২০২০ / ১২:৫২পূর্বাহ্ণ
সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি খাল হাতিরঝিলের আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে

অনেকটা হাতিরঝিলের আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জের ঐতিহাসিক ডিএনডি খালকে। তৈরি করা হচ্ছে নান্দনিক ৬টি ব্রিজও।

এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দু’টি প্যাকেজে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয় করছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোশেন।

জাইকার অর্থায়ণে সিদ্ধিরগঞ্জ ভাঙ্গারপুল থেকে শিমরাইল গলাকাটা ব্রিজ পর্যন্ত ডিএনডির প্রধান খাল পুনঃখনন ও খালের পশ্চিম পাড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে রাস্তা।

৬টি ব্রিজের পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে ওয়াকওয়ে। সেই সঙ্গে হবে ডিএনডি খালের সৌন্দর্য বর্ধনও। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স উদয়ণ বিল্ডার্সের (জেভি) মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন পুরো প্রকোল্পটি বাস্তবায়ন করবে ১৫ মাসের মধ্যে।

গত বছরের ১১ ফ্রেব্রুয়ারি ও ৩ মে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভি প্রকল্পটির দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ ও রাস্তার কাজের উদ্বোধন করেন। সেই থেকে চলছে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মহাকর্মযজ্ঞ।

সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্টের (সিজিপি) আওতায় সিদ্ধিরগঞ্জের আওতাধীন নাসিক ৩নং ওয়ার্ডস্থ গলাকাটা পুল থেকে ৮নং ওয়ার্ডস্থ ভাঙ্গার পুল পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার ডিএনডি খালের সৌন্দর্য বর্ধণে ৬৩ কোটি ৪৮ লাখ এবং খালের উপর ৬টি দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ নির্মাণে ৩৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে ৩টি লোডেড এবং ৩টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মিত হবে। ২০২০ সালের শেষের দিকে চলমান এই প্রকল্পটির মূল কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে ঠিকারদারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলীরা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঐতিহাসিক ডিএনডি ক্যানেলটি সিদ্ধিরগঞ্জের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

এদিকে হাতিরঝিলের আদলে প্রকল্পটির কাজ হাতে নেওয়ার ফলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে সাধুবাদ জানিয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জবাসী।

স্থানীয়রা জানান, এমন একটি সৌন্দর্য ও দৃষ্টিনন্দিত কাজ হাতে নেয়ায় আমরা অনেক খুশি। কেনান, এই প্রকল্প বাস্তবায়ণের মাধ্যমে আমরা সিদ্ধিরগঞ্জে একটি দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র পেতে যাচ্ছি। যার মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জের চেহারাই অনেকটাই বদলে যাবে।

চলমান এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখেও পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। প্রকল্পটির প্রধান প্রকৌশলী নীহার ভট্টাচার্য জানান, আমরা স্থানীয় জনগনের সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছি।

তবে কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে কাজ করতে গিয়ে কাজের গতি কিছুটা শ্লথ হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, ওয়াসার পানির পাইপ এবং কল-কারখানার বর্জ্য অপসারণের পাইপ সরানো।

বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ওয়াসার পানি সরবরাহের পাইপ এবং কারখানার বর্জ্য পানি অপসারণের পাইপ দিয়ে প্রতিনিয়ত পানি নির্গত হওয়ার কারণে খালের মাটি কর্দমাক্ত হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া খালের পাশে গৃহস্থলী বর্জ্য সরাতে হচ্ছে। এতে করে প্রকল্পে সময় একটু বেশি লাগছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন