কুমিল্লাকে হারিয়ে প্লে-অফের পথে একধাপ এগিয়ে গেলো খুলনা

প্রকাশিত: জানু ৮, ২০২০ / ০৬:২৭অপরাহ্ণ
কুমিল্লাকে হারিয়ে প্লে-অফের পথে একধাপ এগিয়ে গেলো খুলনা

ব্যাট হাতে কাজটা করে রেখেছিলেন শান্ত, মিরাজ, রুশো। বোলিংয়ে বাকিটুকু সারলেন ফ্রাইলিংক। তাতে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে ৩৪ রানে হারাল খুলনা টাইগার্স। দুর্দান্ত এ জয়ে প্লে-অফের পথে এগিয়ে গেল তারা। এ নিয়ে ১০ ম্যাচে ৬ জয় পেল দক্ষিণের দলটি। হাতে রয়েছে আর ২ ম্যাচ। এর মধ্যে ১টিতে জিততে পারলেই শেষ চারের টিকিট পাবে মুশফিক বাহিনী।

এতে নিরাশ হতে হলো কুমিল্লাকে। সরাসরি প্লে-অফে যাওয়ার জন্য এ ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না তাদের। সেখানে স্বপ্ন জাগিয়েও হেরে বসল তারা। ১১ ম্যাচে দলটির জয় মাত্র ৫টিতে। বাকি ১ ম্যাচে জিতলেও শেষ চারে মালান ব্রিগেডের খেলা যদি, কিন্তুর ওপর ঝুলে থাকল।

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামার কিছুক্ষণ পরই হোঁচট খায় কুমিল্লা। ফ্রাইলিংকের বলে সাজঘরে ফেরেন ভ্যান জেল। ওয়ানডাউনে নেমে শফিউলের বলে চটজলদি ফেরেন ইনফর্ম মালান। পরে সৌম্যকে নিয়ে খেলা ধরেন এদিন ওপেনিংয়ে নামা সাব্বির। ভালো সমর্থন পান তিনি। তাতে শুরুর দিকের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে দলটি।

একপর্যায়ে জমে ওঠে সাব্বির-সৌম্য জুটি। দুজনই স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটাতে থাকেন। তাতে হু হু করে বাড়ে দলীয় রান। জয়ের স্বপ্নও দেখতে শুরু করে তারা। কিন্তু আচমকা স্তব্ধ হয়ে যান সৌম্য। ফ্রাইলিংকের বলে বিদায় নেন তিনি।

তবে থেকে যান সাব্বির। রানের ফোয়ারা ছোটাতেই থাকেন দীর্ঘদিন রানখরায় ভোগা এ ব্যাটার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ইয়াসির আলি। দারুণ খেলছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ বিপথগামী হন দুর্দান্ত খেলতে থাকা সাব্বির। আমিরের বলে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন তিনি। ফেরার আগে ৩৯ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৬২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।

মূলত সাব্বিরের বিদায়ে কুমিল্লার জয়ের স্বপ্ন ভেস্তে যায়। সেই রেশ না কাটতেই শহিদুলের বলির পাঁঠা হন ইয়াসির। খানিক বাদেই একই বোলারের বলে ফিনিশ হন আবু হায়দার। তার বালির বাঁধের মতো উড়ে যায় কুমিল্লা। একে একে ফেরেন উইজ, সানজামুল ও আল-আমিন। এর মধ্যে প্রথম দুজনকে তুলে নেন ফ্রাইলিংক। আর শেষেরজনকে কাটেন আমির। শেষ পর্যন্ত ১৮.২ ওভারে ১৪৫ রানে প্যাকেট হয় দলটি।

বোলিংয়ে খুলনার এ জয়ের নেপথ্য নায়ক ফ্রাইলিংক। তিনি একাই শিকার করেন ৫ উইকেট। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১৬ রান খরচ করেন তিনি। এটি এবারের বিপিএলে দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার।স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতে।

এর আগে বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে খুলনা। সাবধানী শুরু করেন দুই ওপেনার মিরাজ ও শান্ত। সূচনা থেকে মাঝপথ পর্যন্ত ধীরলয়ে পথ হাঁটেন তারা। মারার বল মারেন আর ধরারটি ধরেন।

যদিও একটু আক্রমণাত্মক হতেই ভাঙে এ জুটি। দলীয় ৭১ রানে সৌম্য সরকারের বলে ফেরেন শান্ত। ফেরার আগে ২৯ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন তিনি। সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি মিরাজ। খানিক বাদে ডেভিড উইজের শিকার হয়ে ৩৯ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৩৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে ফেরত আসেন তিনি।

ততক্ষণে বড় স্কোরের ভিত পেয়ে যায় খুলনা। ২ উইকেট হারিয়েই ৯৪ রান তুলে ফেলে তারা। পরে সেটা বাড়াতে থাকেন রুশো ও মুশফিক। তবে বেশি চড়াও ছিলেন রুশো। ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে কুমিল্লা বোলারদের কচুকাটা করেন তিনি। মাত্র ২৬ বলে ফিফটি তুলে নেন এ প্রোটিয়া। পরেও তার তাণ্ডব চলতে থাকে। সুযোগ পেলে ত্রাস ছড়ান মুশফিক।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ১৭৯ রান করে খুলনা। মাত্র ৩৬ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৭১ রানের হার না মানা বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন রুশো। আর ১৭ বলে ২ চারে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন মুশফিক।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন