স্কুলছাত্র ইসমাইল শিক্ষকের চড়ে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেছে

প্রকাশিত: জানু ৮, ২০২০ / ১২:৩৭পূর্বাহ্ণ
স্কুলছাত্র ইসমাইল শিক্ষকের চড়ে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেছে

ক্লাসে পড়া না পারায় শিক্ষকের চড়ে ডান কানের শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলল স্কুলছাত্র ইসমাইল। সে চক চৌবিলা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। সে উপজেলার সলংগা ইউনিয়নের চক চৌবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে পিইসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ইসমাইলের পরবর্তী জীবন নিয়ে চরম হতাশায় এখন পরিবার।

ইসমাইলের মা মঞ্জুয়ারা খাতুন অভিযোগ করেছেন, গত বছরের নভেম্বর মাসে ক্লাস করছিল ইসমাইল। ক্লাস নিচ্ছিলেন প্যারা শিক্ষক ফরিদা খাতুন। ইসমাইল পড়া না পারায় ফরিদা তার ডান কানে সজোরে চড় দেন। সঙ্গে সঙ্গে কান দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে।

গুরুতর অবস্থায় ইসমাইলকে উল্লাপাড়ায় হাই কেয়ার হিয়ারিং সেন্টারে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়। এখানে তার কোনো উন্নতি না হলে তাকে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ঢাকায় জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটে (এনআইইএনটি) ভর্তি করা হয়।

বেশ কিছু দিন চিকিৎসা করলেও এখানে ইসমাইলের কানের কোনো উন্নতি হয়নি। মঞ্জুয়ারা খাতুন জানান, গেল ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে তিনি তার ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনেছেন। ডাক্তাররা তাকে বলেছেন ইসমাইল ডান কানে আর কখনো শুনবে না। এ অবস্থায় তার সন্তান কীভাবে লেখাপড়া করবে বা ভবিষ্যতে তার কর্মজীবনে এর প্রভাব কীভাবে পড়বে তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে তার পরিবার।

তিনি ঢাকা থেকে ছেলেকে নিয়ে ফিরে আসার পর প্যারা শিক্ষক ফরিদা খাতুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চক চৌবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু সভাপতি তার আবেদন আমলে নেননি। মঞ্জুয়ারা এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ফরিদা খাতুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে চক চৌবিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান জানান, ঘটনাটি অনেক আগের। ফরিদা খাতুন এখন স্কুলে নেই। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তার শিক্ষকের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তার পরেও মঞ্জুয়ারার অভিযোগটি তিনি আমলে নিয়ে দেখছেন।

এ ব্যাপারে স্কুলের সভাপতি মতিয়ার রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এই ঘটনার বিষয়ে তিনি বাদি বিবাদীর মধ্যে একটা মিমাংসা করার ব্যবস্থা নিয়েছেন।

উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এমজি মাহমুদ ইজদানীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বিষয়টি তাকে দেখতে বলেছেন। তিনি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাককে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

ইজদানী আরো জানান, স্কুলে আপদকালীন প্যারা শিক্ষক নিয়োগের বিধান আছে। তবে সেক্ষেত্রে উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনুমিত নিতে হয়। কিন্তু স্কুল কমিটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিলেন।

যেহেতু প্যারা শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসের আওতাধীন নন, সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তারপরেও সামাজিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি সহযোগিতা দেবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, ২/১ দিনের মধ্যে তিনি তদন্ত শুরু করবেন। তাকে দেওয়া ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।

অভিযুক্ত প্যারা শিক্ষক ফরিদা খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন