আজ রাতে ব্রাজিল-পেরু ফাইনাল, দেখবেন যেভাবে

১২ বছর পর আবারও কোপার শিরোপা জয়ের হাতছানি ব্রাজিলের সামনে। টুর্নামেন্টের ফাইনালে আজ রাতে পেরুকে হারাতে পারলেই লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় রিও ডি জেনেরিওতে মারাকানা স্টেডিয়ামে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে পেরুর মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ব্রাজিল।

এবারের আসরের আয়োজক দেশ ব্রাজিল। শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছেন তারা। কোপার এবারের আসরে এখন পর্যন্ত অপরাজিত পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পাঁচ ম্যাচ খেলে প্রতিপক্ষের জালে দশবার বল জড়িয়েছেন কুটিনহো-ফিরমিনোরা। হজম করেনি একটি গোলও। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এ্যালিসন বেকার। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে তাদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। কিন্তু স্নায়ুচাপকে জয় করে টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচ জিতে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় পেলে-রোনাল্ডোর উত্তরসূরিরা। সেমিফাইনালেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেয় তারা।

তবে ব্রাজিল প্রত্যাশিতভাবেই এবারের আসরের ফাইনালে জায়গা করে নেয়। কিন্তু পেরুভিয়ানদের ফাইনালে ওঠাটা বিশাল চমক হয়ে এসেছে। কেননা গ্রুপপর্বে ব্রাজিল ও ভেনিজুয়েলার পেছনে থেকে তৃতীয় হয়েছিল তারা। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি শূটআউটে শক্তিশালী উরুগুয়েকে হারায় লস ইনকাসরা। সেদিন ভাগ্য ভীষণভাবে সহায়তা করেছিল পেরুকে। নির্ধারিত সময়ে তাদের জালে উরুগুয়ে তিনবার বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছিল তিন গোলের সবকটিই! এরপর সেমিফাইনালেও বাজিমাত করে পেরু।

টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন চিলিকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ১৯৭৫ সালের পর প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে পেরু! সেই ম্যাচের আগে অনেকেই ভেবেছিলেন টানা তৃতীয়বার ফাইনাল খেলবে চিলি। কিন্তু না, দুর্দান্ত খেলেই ভিদাল-সানচেজদের বিদায়ের টিকেট ধরিয়ে দেয় পেরু। এবারের আসরের গ্রুপপর্বেও একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। কিন্তু সেই ম্যাচে তিতের শিষ্যরা ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পেরুকে। যে কারণে ফাইনালের আগে স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাসী কুটিনহো-জেসুসরা। অতীত ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখা যায় কোপাতে ব্রজিলের সঙ্গে পেরুর প্রথম দেখা হয় ১৯৩৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর! প্রথম দেখাতেও ৩-২ গোলের জয় পেয়েছিল ব্রাজিল। এরপর সেলেসাওদের হারাতে পেরুকে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ ১৬ বছর। ১৯৫৩ সালের ১০ এপ্রিল ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারায় তারা! এর মধ্যে আরও তিনটি (১৯৪২, ১৯৪৯ ও ১৯৫২ সালে ) ম্যাচ খেলে দুটিতেই জয় পায় ব্রাজিল আর বাকি ম্যাচটি ড্র হয়। কোপার ইতিহাসে ব্রাজিলের বিপক্ষে পেরু লড়াই করেছে মোট ১৭ বার। যেখানে ব্রাজিল বেশ এগিয়ে। ১১ ম্যাচেই জয় পেয়েছে তারা। অন্যদিকে তিন ম্যাচে জয় পায় পেরু। আর বাকি তিন ম্যাচ ড্র!

সবধরনের প্রতিযোগিতায় ব্রাজিলের বিপক্ষে ৪৫ বারের দেখায় পেরুর জয় মাত্র ৯টিতে! বিপরীতে ব্রাজিলের জয় ৩২ ম্যাচে। ৪টিতে ড্র। অতীত পরিসংখ্যানের বিবেচনায় এবারও এগিয়ে ব্রাজিল। যে কারণেই ব্রাজিলকে এবার নবম শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি দেখছেন সেলেসাওভক্তদের অনেকে। তবে পেরুকেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কেননা ইতিহাস বলছে পেরুই একমাত্র দল যারা দুইবার কোপার ফাইনালে উঠে দুবারই শিরোপা জিতেছে। ১৯৩৯ ও ১৯৭৫ সালে দুবারই শিরোপা জয়ের স্বাদ পায় তারা। তবে ফাইনালের আগে ব্রাজিলভক্তদের দুঃসংবাদ। এমনিতেই ইনজুরির কারণে দলের সেরা তারকা নেইমার এবার নেই। তার বদলি হিসেবেই জায়গা পান উইলিয়ান। কিন্তু ইনজুরিতে ছিটকে যান তিনিও। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে চোট পাওয়ার কারণে পেরুর বিপক্ষে ফাইনালে দর্শক হয়েই থাকতে হবে ব্রাজিলের এই তারকা উইঙ্গারকে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত