ভোটের মাঠে ৪৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডেকেছে ইসি

প্রকাশিত: জানু ৫, ২০২০ / ১২:৪৩অপরাহ্ণ
ভোটের মাঠে ৪৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডেকেছে ইসি

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো প্রার্থী আচরণবিধি মানছেন কি না এবং নির্বাচনী অনিয়ম দেখভাল করার জন্য ৪৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হলেও তাদের কাজ মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নির্বাচনী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা।

সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দিন অর্থাৎ ২৩ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৮ জন ও দক্ষিণ সিটিতে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করে যাচ্ছেন।

তবে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম ‘গুলশান পার্কে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে একটি নির্বাচনী মঞ্চ করে, মাইক এবং সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে নিজের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তিনি অভিযোগে বলেন, ‘যা সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর স্পষ্ট লঙ্ঘন ও গর্হিত অপরাধ বটে।’

কিন্তু আতিকুল ইসলামের এসব ঘটনা সেখানে কর্মরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তায়েব-উর-রহমান আশিক জানতেন না। শনিবার তাবিথের অভিযোগ গ্রহণ করার পর ঢাকা উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানান।

সে সময় বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে দেখার জন্যও আশিককে নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে আবুল কাসেম সিদ্ধান্ত নেন, সব ম্যাজিস্ট্রেটদের ইসিতে ডেকে ভালোভাবে তাদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার। তাই, আজ রোববার সন্ধ্যায় উত্তরে নিয়োজিত ১৮ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে ডেকেছেন তিনি।

পরে তায়েব-উর-রহমান আশিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতাম না। আমাকে না জানালে আমি কাজ করব কীভাবে? সারা দিন দৌড়ের ওপর থাকতে হয়।’

কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর ও সিটি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তেমন কাজ করা শুরু করেননি। তাদের কাজ মূলত শুরু হবে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে। যদিও প্রতীক বরাদ্দের আগে থেকে তাদের সব কাজ করার কথা।

তাবিথ আউয়ালের অভিযোগের বিষয়ে আবুল কাসেম এনটিভি অনলাইনকে বলেছিলেন, ‘আমরা বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগটি পেয়েছি। ওই এলাকায় নির্বাচনের দায়িত্বে যে ম্যাজিস্ট্রেট আছেন অভিযোগটি আমি আজ পাঠিয়ে দেব। তিনি তদন্ত করে দেখবেন তারপর তা ইসিকে জানাবেন। পরে আমরা ব্যবস্থা নেব। আর সব ম্যাজিস্ট্রেটদের আমরা দ্রুতই নির্দেশনা দেব আরো ভালোভাবে আইন প্রয়োগ করার।’

আবুল আবুল কাসেম বলেন, ‘উত্তরের নির্বাহী ১৮ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে রোববার সন্ধ্যায় ডেকেছি। যাতে করে তারা ভালোভাবে নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করেন। যদিও তারা তাদের কাজ সম্পর্কে জানেন।’

এদিকে গতকাল শনিবার দুপুরে দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকতার কাছে বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে ইশরাক তাঁর অভিযোগে বলেন, ‘কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তাজউদ্দিন আহমদ তাজুকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করার পর নিজ এলাকায় যাওয়ার সময় গোপীবাগ (দেশবন্ধু হোটেলের সামনে থেকে) সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

অথচ কিছুদিন আগে তিনি জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছেন। প্রশ্ন হলো, তাঁকে (তাজউদ্দিন) তখন কেন গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি? এভাবে অজানা (গায়েবি) মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আমরা চিন্তিত’, যোগ করেন বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী।’

এছাড়া বিএনপি সমর্থিত এক কাউন্সিলর পদপ্রার্থীকে মাঠ থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ইশরাক হোসেন।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, ‘কোনো প্রার্থীর যদি আগে থেকে ফৌজদারি মামলা ও ওয়ারেন্টের আসামি হয়ে থাকেন তাহলে ভিন্ন হিসাব। তবে ওয়ারেন্টের ওই আসামিকে ধরতে হলেও ইসিকে আগে থেকে জানানো উচিত। কারণ, ওই প্রার্থীকে নির্বাচনে আমরা বৈধ প্রার্থী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছি। অতি উৎসাহী হয়ে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন না।’

আবদুল বাতেন বলেন, ‘কোনো প্রার্থী কাউকে হুমকি দিলে বা নির্বাচনী অনিয়ম করলে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। দ্রুতই ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে আমি ডাকব। তাদের সঙ্গে মিটিং করে তাদেরকে নির্বাচনী মাঠে আরো ভিজিবল হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

ঢাকা উত্তর সিটির কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলে। এদের ভেতরে মো. মেহেদী মোর্শেদ বলেন, ‘আমরা মাঠে কাজ করছি। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার দরকার হলে থানা থেকে পুলিশ ফোর্স নিয়ে আমরা ঘুরছি। তবে এখনো পর্যন্ত তেমন নির্বাচনী অনিয়ম শুরু হয়নি। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আমাদের কাজ বেড়ে যাবে।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন