বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এলাকায় হামলা

প্রকাশিত: জানু ৫, ২০২০ / ১০:৪৩পূর্বাহ্ণ
বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এলাকায় হামলা

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসের ‘গ্রিন জোন’ ও মার্কিন বিমানঘাটি বালাদে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়াও এদিন বেশ কয়েকটি জায়গায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এই হামলা হয়।

ইরানি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলেইমানির মরদেহ নিয়ে গতকাল শনিবার বাগদাদে শোকযাত্রা বের হয়। শুক্রবার বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হন জেনারেল সোলেইমানি।

ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রের বরাতে বিবিসি জানায়, প্রায় একই সময়ে বাগদাদের সুরক্ষিত ‘গ্রিন জোন’ এলাকার সেলেব্রেশন স্কয়ারে একটি রকেট অথবা মর্টার শেল হামলা হয়। বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসটি এই গ্রিন জোনেই অবস্থিত। এছাড়াও জাদরিয়া এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। এসব বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মার্কিন বিমানঘাটি বালাদে দুটি রকেট হামলার পর হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে বিমানঘাটির ড্রোন আকাশে পাঠানো হয়।

শনিবার বাগদাদ, নাজাফ ও কারবালায় সোলেইমানির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় হাজার হাজার মানুষ মরদেহের সঙ্গে সঙ্গে শোকযাত্রায় অংশ নেয়। লোকজন ‘আমেরিকার ধ্বংস চাই’ স্লোগান ফেস্টুন ধরে রাখেন। শনিবারই সোলেইমানির মরদেহ ইরানে নেওয়া হয়।

সোলেইমানির সঙ্গে নিহত আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের প্রতিও শোকশ্রদ্ধা নিবেদন করছেন ইরাকি শিয়া মতাবলম্বীরা। ইরানের মদদপুষ্ট শিয়া মিলিশিয়া বাহিনী কাতায়েব হিজবুল্লাহর কমান্ডার ছিলেন আল-মুহান্দিস।

কাতায়েব হিজবুল্লাহ মিলিশিয়া বাহিনী রোববার সন্ধ্যা থেকে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মার্কিন ঘাটি থেকে এক হাজার মিটার দূরত্বে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে। ইরাকের আল-মায়াদিন টিভির খবরে এই হুমকির কথা জানানো হয়েছে।

তবে কেউ এখনো শনিবারের বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর দায় স্বীকার করেনি।

ইরানি জেনারেলকে হত্যার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে।

টুইট বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ৫২টি স্থাপনা টার্গেট করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ বা স্থাপনায় হামলা করা হলে এগুলোতে দ্রুতগতিতে এবং ভয়াবহ কায়দায় হামলা চালানো হবে।

অন্যদিকে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিশোধ নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।

জবাবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় মধ্যপ্রাচ্যে আরো তিন হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবং এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ইরাক ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটি।

যুদ্ধ ও সন্ত্রাস বন্ধ করতেই সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস জানায়, শুক্রবার ভোরে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরে নামলে জেনারেল সোলেইমানির ওপর হামলা করা হয়। সম্প্রতি সিরিয়া ও ইরাকে মার্কিন বিমান হামলায় ২৫ হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। নিহত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের জানাজায় শরিক হয়ে বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধরা।

এর কয়েকদিন আগে ইরানের মদদপুষ্ট মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহ ইরাকের উত্তরাঞ্চলে মার্কিন এক ঠিকাদারকে হত্যা করে। মার্কিন ঠিকাদারকে হত্যার জবাবে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তাতে ২৫ হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন