বিয়েতে রাজি না হওয়া সেই রিপা অবশেষে না ফেরার দেশে

প্রকাশিত: জানু ৪, ২০২০ / ১১:০৬অপরাহ্ণ
বিয়েতে রাজি না হওয়া সেই রিপা অবশেষে না ফেরার দেশে

পাঁচ মাস মৃ’ত্যুর সাথে পাঞ্জা ল’ড়ে অবশেষে শনিবার মৃ’ত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন জেসমিন আক্তার রিপা (২০)। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় এলাকার বিল্লাল ফরাজী প্রকাশ্যে জো’রপূর্বক রিপাকে তুলে নেয়ার চেষ্টা চালায়। টেনে-হেচঁড়ে এবং বেদম পি’টুনি দিয়ে চরম শারীরিক লা’ঞ্ছিত করে। বিচার না পেয়ে গত ১০ আগস্ট বিষপান করেছিলেন রিপা। অথচ চারদিন পর ১৪ আগস্ট কালীগঞ্জের এক যুবকের সাথে তার বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল।

রিপা গাজীপুরের কালীগঞ্জের বড়গাঁও (খিলপাড়া টেকের) দরিদ্র মো. রফিকুল ইস’লামের মে’য়ে। বখাটে বিল্লাল ফরাজি (৪৫) একই এলাকার গিয়াস উদ্দিন ফরাজির ছে’লে।

রিপার মা নূরজাহান বেগম বলেন, তার স্বামী রফিকুল ইস’লাম গাছ কা’টা শ্রমিক। তাঁর এক ছে’লে, দুই মে’য়ে। সন্তানদের মধ্যে দ্বিতীয় ছিল রিপা। বেশ কিছুদিন ধরেই বিল্লাল ফরাজি পথে ঘাটে তার মে’য়েকে উ’ত্ত্যক্ত করতো। বিল্লাল বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক। তার বি’রুদ্ধে একাধিক ধ’র্ষণ ও হ’ত্যা মা’মলা রয়েছে। গত ১০ আগস্ট দুপুরে রিপার বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ের দিন ধার্য হয় ১৪ আগস্ট। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয় বিল্লাল।

রিপা বিকেলে বাড়ির পাশের সড়কে গেলে বিল্লাল তাকে প্রকাশ্যে জো’রপূর্বক টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকে। রিপা চি’ৎকার দিলে চড়-লাথি মে’রে লা’ঞ্ছিত করে। পরে এলাকার লোকজন তাকে উ’দ্ধার করে। এ ঘটনায় তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর বিল্লালের চাচা হেকিম ফরাজির কাছে বিচার দাবি করেন। কিন্তু সেখানে সে বিচার পায়নি। বিল্লাল নূরজাহান বেগমের মোবাইলে ফোন দিয়ে অশ্লীল কথাবার্তা বলে এবং রিপার ভাই ও বাবাকে হ’ত্যার হুমকি দেয়।

জানতে পেরে রিপা সবার অজান্তে কী’টনাশক পান করে আত্মহ’ত্যার চেষ্টা চালায়। টের পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উ’দ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উত্তরা রিজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে ১৫ দিন ধরে আইসিও’তে চিকিৎসাধীন ছিল রিপা। খরচ যোগাতে না পেয়ে পরে মে’য়েকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুই মাস রিপার চিকিৎসা হয়। গলায় কৃত্রিম শ্বা’সনল লাগিয়ে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন চিকিৎসকরা। খরচ যোগাতে না পেরে আড়াই মাস আগে মে’য়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এজন্য বাড়িতে, অক্সিজেন সিলিন্ডার, সাকশন মেশিন, আইপএস এসব যন্ত্র কিনতে হয়েছে।

ব্যয় হয়েছে কয়েক লক্ষাধিক টাকা। ধার দেনা করে ওই টাকা ব্যয় করেছেন। তারপরও মে’য়েকে বাঁ’চাতে পারলেন না।
নূরজাহান বেগম আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে বিল্লাল ফরাজি, তার বাবাসহ ৭ জনকে আ’সামি করে কালীগঞ্জ থা’নায় মা’মলা করেছিলেন। ঘটনার পর বিল্লাল মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায়। অন্য আ’সামিরা উচ্চ আ’দালত থেকে জামিন নিয়ে এসে মা’মলা তুলে নিতে হুমকি দিতে শুরু করে। আম’রা এক প্রকার জি’ম্মি অবস্থাতেই ছিলাম। এরই মধ্যে শনিবার ভোরে মৃ’ত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রিপা। তিনি মে’য়ের হ’ত্যায় প্র’রোচনাদানকারীদের ফাঁ’সি দাবি করেন।

বাবা রফিকুল ইস’লাম বলেন, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় কাপাসিয়ার দুর্গাপুর গ্রামে এক সৌদি প্রবাসীর সাথে রিপার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর জানতে পারি রিপার আগে তার স্বামী আরো তিনটি বিয়ে করেছিল। রিপা ৬ মাসের গর্ভবর্তী অবস্থায় তার স্বামী আবার বিয়ে করে। রিপার সাথে স্বামীর ডিভোর্স হয়ে যায়। তারপর থেকে সে তার কাছেই ছিল। এখন রিপার মে’য়ে নূহার বয়স দুই। তিনি বলেন, লা’ঞ্ছিতের ঘটনায় পু’লিশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তিনিও এ ঘটনায় জ’ড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থা’নার উপ-পরিদর্শক মো. সোহেল মোল্লা বলেন, রিপার লা’শ উ’দ্ধার করে ময়নাত’দন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহম’দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম’র্গে পাঠানো হয়েছে। রিপার মা নুরজাহান বেগম বিল্লাল ফরাজীকে প্রধান আ’সামি করে ৭ জনের নামে মা’মলা করেছিলেন। আ’সামিরা জামিনে থাকায় গ্রে’প্তার করা যায়নি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন