সোলাইমানির জা’নাজায় ইরাকের বাগদাদে হাজারও মানুষের ঢ’ল

প্রকাশিত: জানু ৪, ২০২০ / ০৬:৩৫অপরাহ্ণ
সোলাইমানির জা’নাজায় ইরাকের বাগদাদে হাজারও মানুষের ঢ’ল

মার্কিন হা’ম’লা’য় নি’হ’ত ইরানের বি’প্ল’বী গার্ড বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকের প্যারা মিলিটারি কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের জা’না’জায় বাগদাদের শোকাহত হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।

শনিবার বাগদাদের খাধিমিয়ায় কালো পোষাক পরে হাজারও মানুষ তাদের জা’না’জায় অংশ নেন।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, বাগদাদে জানাজায় অংশগ্রহণকারীরা কালো পোষাকে ও ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের (পিএমএফ) পতাকা হাতে’ অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বং’স চেয়ে নানা ধরনের স্লো’গান দেন। বাগদাদের খাধিমিয়ায় শিয়া মতাবলম্বীদের উপাসনালয়ে একত্রিত হয়ে ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও পিএমএফের কমান্ডারসহ নিহত অন্যান্যদের ম’র’দেহের প্রতি শ্র’দ্ধা জানান।

তেহরানের এলিট ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাববিস্তারের মূলনায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিমান হা’ম’লা চালিয়ে তাকে হ’ত্যা করা হয়।হা’ম’লায় পিএমএফ কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ও সোলাইমানির একজন উপদেষ্টাও মা’রা যান।

ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ এই জেনারেলের ওপর মার্কিন হা’ম’লা এমন এক সময় চালানো হয়; যার মাত্র দুদিন আগে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ভা’ঙ’চুরের চেষ্টা চালায় পিএমএফের সমর্থকরা।

গত রোববার ইরাক এবং সিরিয়ায় মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাটাইব হেজবুল্লাহর স্থাপনায় মার্কিন বিমান হা’ম’লা’র প্র’তি’বাদে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বি’ক্ষো’ভ ও ভা’ঙ’চুরের ঘটনা ঘটে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, মার্কিন দূতাবাসের সামনে বি’ক্ষো’ভকারীদের মধ্যে পিএমএফের সদস্য ও সমর্থকদের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন আল-মুহান্দিসও।

নিজেকে পিএমএফের সদস্য হিসেবে দাবি করে ৩৪ বছর বয়সী আমজাদ হামাওদ আল জাজিরাকে বলেন, সোলাইমানি এবং মুহান্দিসের মতো দু’জন সা’হসী যো’দ্ধা’র মৃ’ত্যু’তে আমরা এখানে শো’ক জানাতে উপস্থিত হয়েছি।

তিনি বলেন, তারা দু’জনই বিশ্বের শিয়া সম্প্রদায় এবং ইরাকের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। জা’না’জায় অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই পিএমএফের সমর্থক। ইরান সমর্থিত ইরাকের স’শ’স্ত্র’ এই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সদস্যরা জানাজা শেষে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে পদযাত্রা করার কথা রয়েছে।

সরকারবি’রো’ধী তীব্র আ’ন্দো’লনের মুখে গত নভেম্বরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে প’দ’ত্যাগ করেন আদেল আবদেল মাহদি। বর্তমানে দেশটির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাগদাদে ইরানি জেনারেলের জা’না’জায় অংশ নিয়েছেন।

শুক্রবারের ওই হা’ম’লার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যু’দ্ধে’র আবহ তৈরি হয়েছে। উ’ত্তে’জনা শুরু হয়েছে প্রতিবেশি দেশগুলোর মাঝেও। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে তার গ্রীস সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন।

শুধু তাই নয়, মন্ত্রিসভার সদস্যদের জরুরি বৈঠকে তলব করার পর ইরানের সেনা জেনারেলের মৃ’ত্যু এবং মার্কিন হা’ম’লা নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া হা’ম’লার আশঙ্কায় দেশটির জনপ্রিয় দুটি পর্যটন কেন্দ্রও বন্ধ করে দিয়েছেন।

জানাজায় অংশ নেয়া পিএমএফের কিছু সমর্থক ও ইরাকিরা মার্কিন ওই হা’ম’লার জবাব দিতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বাগদাদে হা’ম’লার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের সার্বভৌমত্ব ল’ঙ্ঘ’ন করেছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন