বিনামূল্যের বই নিতেও গুনতে হচ্ছে টাকা

প্রকাশিত: জানু ৩, ২০২০ / ০১:৫৫অপরাহ্ণ
বিনামূল্যের বই নিতেও গুনতে হচ্ছে টাকা

বিনামূল্যের বই নিতেও গুনতে হচ্ছে টাকা। সেশন ফি’র অযুহাতে বই উৎসবের দিনেও নতুন বইয়ের ঘ্রান থেকে বঞ্চিত হয়েছে দোহারের মাধ্যমিক স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা। টাকা দিতে না পারায় বই না নিয়েই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের। এ নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার জয়পাড়া সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বেগম আয়েশা বালিকা বিদ্যালয়, কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ইকরাশী উচ্চ বিদ্যালয় ও লটাখোলা আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রায় সব কটি বিদ্যালয়ে সেশন ফি ছাড়া মিলছে না নতুন বই। ওই টাকা জমা দিয়ে শ্রেণি শিক্ষকের কাছে স্লিপ জমা দেয়ার পর বই পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। যদিও বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানায়, শ্রেণি শিক্ষক আমাদের ১৬ শ’ টাকা সেশন ফি জমা দিয়ে বই নিয়ে যেতে বলেছেন।

মোক্তার হোসেন নামে বেগম আয়েশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, মেয়েকে নিয়ে বই নিতে বিদ্যালয়ে এসেছিলাম। কিন্তু টাকা ছাড়া বই দিবে না বলে জানায় শ্রেণি শিক্ষক। আমার মতো অনেক অভিভাবক বইয়ের জন্য অনেক অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে।

এছাড়াও একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রতি বছর কোনো রকম খাত না দেখিয়ে সেশন ফি’র নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫’শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা আদায় করছে স্কুলগুলো। প্রধান শিক্ষকদের কাছে বার বার অনুরোধ করেও বই পাননি বলে অভিযোগ করেন।

জয়পাড়া সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ খালেক সেশন ফি নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা ভর্তি হওয়ার পরই শিক্ষার্থীদের বই দিয়ে থাকি। এটা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও জানেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লিয়াকত আলী জানান, বইয়ের সাথে সেশন ফি’র কোন সর্ম্পক নেই। সেশন ফির ছাড়াই প্রত্যেক শিক্ষার্থী বই পাবে এ ধরনের নির্দেশনা ২০১০ সন থেকে দেয়া আছে। বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণে যদি কোনো বিদ্যালয় অনিয়ম করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র : নয়া দিগন্ত

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন