প্রতিবেশী দেশগুলোকে পণ্য রপ্তানিতে অগ্রাধিকার দিতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: জানু ১, ২০২০ / ০৩:৫০অপরাহ্ণ
প্রতিবেশী দেশগুলোকে পণ্য রপ্তানিতে অগ্রাধিকার দিতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রপ্তানি আয় বাড়াতে পণ্য বৈচিত্র্যে জোর দেওয়ার পাশাপাশি নতুন বাজারের সন্ধানে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। রপ্তানি আরও অধিক দেশে করতে চাই। সবথেকে অগ্রাধিকার দিতে চাই প্রতিবেশী দেশগুলোকে। সেজন্য আমাদের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সমঝোতা স্মারক করেছি। এছাড়া দেশে যাতে বিনিয়োগ আসে, সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি।

বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মাসব্যাপী দেশের শিল্পখাতের সর্ববৃহৎ প্রদর্শনী ২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বরাবরের মত এবারও সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইবিপি) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কূটনৈতিক ও বিদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে। আমরা সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছি। বাংলাদেশে যারা বিনিয়োগ করবে, তাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। বিদেশি মার্কেট খোঁজার জন্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যত বেশি ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন, ব্যবহার এবং রপ্তানি করতে পারব, আমাদের অর্থনীতিতে তা তত বেশি অবদান রাখবে। আমি মনে করি আইসিটি সেক্টরটাই আমাদের সব থেকে বড় একটা সেক্টর হবে ভবিষ্যতে। এই পণ্য রপ্তানি করে আমরা বিশাল অংকের অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হব।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সবদিক থেকেই যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করে দিচ্ছি। পূর্বাচলে আমরা নতুন জায়গায় বাণিজ্য কেন্দ্র করে দিচ্ছি। আমি আশা করি আগামী বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে করতে পারবো। বাণিজ্য মেলা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য একটা বড় ভূমিকা পালন করবে। এই মেলা আমাদের আরও উন্নয়নের পথ খুলে দেবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও বাণিজ্য সচিব মোহাম্মদ জাফর উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

এবারের বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশসহ ২১টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪৮৩টি স্টল থাকছে। স্টলের মধ্যে রয়েছে ১১২টি প্যাভেলিয়ন, ১২৮টি মিনি প্যাভেলিয়ন এবং ২৪৩টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বঙ্গবন্ধু প্যাভেলিয়নকে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্য দেশগুলো হচ্ছে-ভারত, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান, মরিশাস, ভিয়েতনাম, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়া।

মেলা উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা মাঠের অস্থায়ী সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। প্রবেশ টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ৪০ টাকা (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ) এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। মোট টিকিটের ২৫ শতাংশ অনলাইনে পাওয়া যাবে।

খাবারের দোকানগুলোর জন্য খাবারের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মেলায় খাবারের দাম যেন বেশি রাখা না হয়, সে ব্যাপারে কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ থাকবে। একইসঙ্গে মেলার মাঠে চালু থাকবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম।

অনলাইনে মেলার সব তথ্য পাওয়া যাবে। যানবাহন পার্কিংসহ মেলায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। রয়েছে দুইটি মা ও শিশুকেন্দ্র, শিশুপাক,ই-পার্ক এবং ব্যাংকের পর্যাপ্ত এটিএম বুথ।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন