রাজধানীতে ‘মানব কুকুর’ : তরুণ-তরুণীর দুঃখ প্রকাশ

প্রকাশিত: ডিসে ৩০, ২০১৯ / ০৩:২১অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ‘মানব কুকুর’ : তরুণ-তরুণীর দুঃখ প্রকাশ

প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানী হাতিরঝিলের রাস্তায় ‘হিউম্যান ডগ’ বা ‘মানব কুকুর’ সেজে ভাইরাল হওয়া টুটুল চৌধুরী ও আফসানা হাসান সেঁজুতি নামে সেই তরুণ-তরুণী অবশেষে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

আজ সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও অফিস বিষয়টি জানিয়েছে।

এর আগে গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে অভিযুক্ত ওই তরুণ-তরুণী তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের কার্যালয়ে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন।

জানা যায়, হিউম্যান ডগ সেজে হাতিরঝিলের রাস্তায় যিনি হাঁটছেন তার নাম টুটুল চৌধুরী। আফসানা হাসান সেঁজুতি নামের এক তরুণী তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। যা ‘পারফর্মিং আর্ট’ ফ্রম পোর্টফোলিও অব ডগডনেসের পুনরাবৃত্তি ঘটে রাজধানীতে।

বলা হচ্ছে, এমন ‘পারফর্মিং আর্ট’ ফ্রম পোর্টফোলিও অফ ডগডনেস প্রথম দেখা গিয়েছিল অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার রাস্তায়, ১৯৬৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন ভ্যালি এক্সপোর্ট ও পিটার উইবেল এ পারফর্মিং আর্টে অংশ নেন।

তবে প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানী হাতিরঝিলের রাস্তায় তাদের এ দৃশ্যে পারফরমেন্সের সময় তাদের কিছু ছবি তোলা হয়। যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

একপর্যায়ে বিষয়টি নজরে আসে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও। পরে ভাইরাল হওয়া ছবি দেখে অভিযুক্ত তরুণ-তরুণীকে সনাক্ত করে রোববার রাতে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের কার্যালয়ে তলব করা হয়। এসময় তাদের ড্রেসআপ ও রুচিবোধ তুলনায় এনে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করলে বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন টুটুল-সেঁজুতি। সেই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও মৌখিক ও লিখিতভাবে জানিয়েছেন তারা।

টুটুল-সেঁজুতি জানান, তাদের এই পারফরমেন্সের মূল প্রতিবাদ্য ছিল: কালের যাত্রায় মানুষ অগ্রসর হচ্ছে। সে অগ্রযাত্রার ঊর্দ্ধমুখী চলন হিসেবে ১ জন শিল্পী সামাজিক উপাদান মানুষ ও সভ্যতার ধ্রুবক। অন্যজন আতংকিত, অনুসরনরত এবং শীতের প্রকটতায় নিজেকে মানিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

গত ২৫ ডিসেম্বর বিকালে ‘পারফর্মিং আর্ট’ ফ্রম পোর্টফোলিও অব ডগডনেসের পুনরাবৃত্তি ১ ঘন্টাব্যাপী করার পরিকল্পনা করলেও রাজধানীর হাতিরঝিল থানা পুলিশের বাধার মুখে ১০-১৫ মিনিট পরে পারফরমেন্স শেষ না করেই তারা এলাকা ত্যাগ করে। এ সময় হাতিরঝিলে আগত দর্শনার্থীরা কেউ তাদের হাতিরঝিল ত্যাগের দৃশ্য ধারণ করে সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে। ফলে মূল পারফরমেন্স না দেখে সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্টকৃত অবাঞ্ছিত দৃশ্য দেখে তাদের সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা তৈরী হয়েছে বলে জানান টুটুল-সেঁজুতি।

তবে ‘প্রকাশ্য দিবালোকে হাতিরঝিলের মতো উন্মুক্ত স্থানে পুলিশ এবং কতৃপক্ষের পূর্বানুমতি না নিয়ে দেশের সংস্কৃতি বিরোধী এ ধরনের পারফরমেন্স কেন করা হলো’ পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব বিজয় তালুকদার এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি এই তরুণ-তরুণী।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন