নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ হচ্ছে না

প্রকাশিত: ডিসে ৩০, ২০১৯ / ০২:৩৩অপরাহ্ণ
নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ হচ্ছে না

পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় আজ সোমবার রাজধানীতে বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশ হচ্ছে না। সমাবেশ করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ ৩০ ডিসেম্বর, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উল্লেখ করে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। আজ দুপুর ২টায় দলটির উদ্যোগে সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। এজন্য নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয় অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল তারা। কিন্তু পুলিশ তাদের অনুমতি দেয়নি।

এদিকে আজ সোমবার ভোর থেকে বিএনপির এ সমাবেশকে ঘিরে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে রাখা হয়েছে প্রিজনভ্যান, এপিসি, রায়ট কার ও জল কামান।

পোশাকধারী পুলিশের সঙ্গে সাদা পোশাকে রয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কোনো নেতাকর্মীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নয়াপল্টনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘আজ এই দিন যেদিন আওয়ামী লীগ রাতের আঁধারে জনগণের ভোট ডাকাতি করে স্বাধীনতার চেতনা, ত্রিশ লাখ শহীদ আর অজস্র মা বোনের ইজ্জতের সাথে বেইমানি করেছে। এই দলটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূলমন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে স্বাধীনতার পর পরই, শেখ হাসিনা সেটাকে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ও তার আগের রাতে ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় পঁচাত্তরের একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ভিন্ন মডেলে কায়েম করেছেন। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে শেখ হাসিনা তাঁর পিতার সেই বাকশালকে বাস্তবে রূপদান এবং তা সম্প্রসারিত করতে সক্ষম হয়েছেন।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, গত বছরের এই দিনগুলোর কথা। একাদশ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে সরকার শুরু করেছিল দেশব্যাপী সর্বগ্রাসী গায়েবি মামলা আর গ্রেপ্তারের হিড়িক। কবরের লাশ থেকে শুরু করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী, হজব্রত পালনরত অবস্থায় মক্কায় অবস্থানকারী, দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তি কেউই বাদ যায়নি সেসব গায়েবি মামলা থেকে। স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীকে, মায়ের কাছ থেকে সন্তানকে, সন্তানের কাছ থেকে পিতাকে ছিনিয়ে নিয়ে কারাগারগুলো ভরে ফেলা হয়। তারপরও বিরোধী দলের যেসব নেতাকর্মী অবশিষ্ট ছিল তাদের ওপর চলে ভয়াবহ নির্যাতন, তাদের আক্রমণের মাধ্যমে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে।

বিএনপির প্রার্থীদের ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। তালিকা ধরে ধরে এজেন্টদের করা হয় এলাকাছাড়া, এক এলাকা থেকে ধরে আরেক এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে, এর পরও যারা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছে তাদের আটক করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বাছাই করে দলীয় ক্যাডারদের। আর ২৯ ডিসেম্বর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের লোকেরা রাতভর ব্যালট বাক্স পূর্ণ করে। আওয়ামী লীগ ছাড়া ভোটের দিন যারাই কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করেছে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এই ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নমুনা।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক দিন। সরকারি চাপে কোনো গণমাধ্যমই এই কালিমালিপ্ত দিনটি নিয়ে কোনো কিছুই লিখতে পারেনি। সব গণমাধ্যমকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কোনো সংবাদ পরিবেশন না করতে।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আজকেও বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে বাধা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের পূর্বঘোষিত সমাবেশের কর্মসূচিকে বানচাল করতে পোশাক ও সাদা পোশাকে পুলিশ সকাল থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের সড়ক এবং অলিগলিতে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধংদেহী পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে গোটা নয়াপল্টন এলাকায়। সারা দেশটই যেন আওয়ামী লীগের তালুকদারিতে পরিণত হয়েছে। যখন তখন যেকোনো সময় আওয়ামী লীগ যেকোনো স্থানে সভা-সমাবেশ করতে পারে।

অথচ বিরোধী দল ও ভিন্ন মতের মানুষদের সেই অধিকার নেই। এ দেশে শুধু একজনেরই গণতান্ত্রিক অধিকার আছে তিনি হলেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক গণতন্ত্র চলছে। অথচ গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের পক্ষে যিনি জীবনব্যাপী আপসহীন লড়াই করেছেন সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ বন্দি। শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসন, অনাচারের নির্বাচন এবং কুশাসনের বিরুদ্ধে কেউ যাতে মুখ খুলতে না পারে সেজন্যই বেগম জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন