বিএনপি থেকে যারা ঢাকায় মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন

প্রকাশিত: ডিসে ২৩, ২০১৯ / ০৭:৫৩অপরাহ্ণ
বিএনপি থেকে যারা ঢাকায় মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন

ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো তেমন জোরালোভাবে মাঠে না থাকলেও এরইমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

তবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য প্রার্থীদের সময় দেয়া হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহ। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই মনোনয়নপত্র চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

রাজধানীর দুই মেয়র নির্বাচনে দুটি বড় দলের মধ্যেই মূলত লড়াই হবে। তাই আওয়ামী লীগ আর বিএনপি থেকে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে কৌতুহল আছে।

মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থীরা লড়াই করবেন বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি মেয়র নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২৬ ডিসেম্বর মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হবে। ২৭ ডিসেম্বর ৪ টার মধ্যে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে।

সরকারি দলের প্রার্থীকে জেতানোর জন্যই নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়া জামায়াতও স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ দলটি আদৌ নির্বাচনী মাঠে থাকবে কি না সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। তবে বিএনপি এবারের নির্বাচনে শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে থাকবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তরে তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণে ইশরাক হোসেনকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে।

দুই সিটিতে কারা দলের প্রার্থী হচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘অনেকেই মাঠে কাজ করছেন। তবে দলের মনোনয়নবোর্ড ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।’

এরইমধ্যে দলের হাই কমান্ড দুই প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। লন্ডন থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা মাঠে নেমেছেন চার-পাঁচ মাস আগে। ঢাকা উত্তরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালকে মাঠে থাকতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা পেয়ে তিনি ইতোমধ্যে ঘরোয়াভাবে ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

২০১৫ সালের ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তাবিথ আউয়াল। ওই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করার পরও তাবিথ আউয়াল ৩ লাখ ২৫ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। ফলে তাবিথই উত্তরের যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

অপর দিকে ঢাকা দক্ষিণে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সদ্য প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন অনেক আগেই। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা পেয়ে তিনি গত ৩/৪ মাস ধরেই মাঠে আছেন।

পিতা সাদেক হোসেন খোকা ঢাকার মেয়র ছিলেন দীর্ঘদিন। সেজন্য ইশরাক হোসেনই দক্ষিণের জন্য যোগ্য প্রার্থী বলে ধারণা করেন দলের নেতাকর্মীরা।

অবশ্য ঢাকা দক্ষিণে গত নির্বাচনে সাবেক মেয়র ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস প্রার্থী ছিলেন। তখন তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে সাড়া ফেলেছিলেন। সে হিসেবে আফরোজা আব্বাসও দক্ষিণে বিএনপির ভাল প্রার্থী।

ইশরাক হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি আরও আগে থেকেই শুরু করেছি। আশা করি দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে। আর দল যদি মনোনয়ন দেয় সেক্ষেত্রে বিজয়ের ব্যাপারেও আমি আশাবাদী।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা নির্বাচনটা কেমন হবে।’

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। দলের মনোনয়নয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।’

নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠুভাবে হবে কি না সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘নির্বাচন কেমন হবে সেটাই বড় বিষয়।’

বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। সেজন্য গণতান্ত্রিকভাবে পদ পরিবর্তন হোক এ আশা করেই আমরা নির্বাচনে অংশ নেব।

কিন্তু সন্দেহ এই নির্বাচন কমিশন আগেই এমন কথা বলেছিল। কিন্তু সে কথা তারা রাখেনি। এবারও কি হবে বলা যায় না। আর অনির্বাচিত সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন দেবে কি না সেটা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।’

দুই সিটিতে দলীয় প্রার্থীর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উত্তরে তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণে ইশরাক হোসেনের নাম শুনেছি। প্রার্থী আরও থাকতে পারে। কিন্তু মাঠ যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে হাই কমান্ড।’

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বাংলানিউজকে বলেন, ‘নির্বাচনে অংশে নেওয়ার ব্যাপারে দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে। তার আগে আমরা দেখবো নির্বাচন কমিশন কেমন আচরণ করে। তারা এর আগে অনেক ভাল ভাল কথা বললেও কাজ ভাল করেনি।’

তিনি বলেন, ‘আনিসুল হকের মৃত্যুর পরে যে উপনির্বাচন হওয়ার কথা ছিল তখন সরকারদলীয় লোকেরা রিট করেছিল। এই নির্বাচন কমিশন সেই রিটের বিরুদ্ধে কোনো আইনী লড়াই করেনি।

অর্থাৎ সরকারের ইচ্ছাটাই তারা পূরণ করেছিল। এবারও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশ্যটা কি সেটা পরিস্কার করে বুঝে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। নির্বাচন করারতো নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে, কিন্তু প্রতারণার শিকার হলেতো যাওয়া ঠিক হবে না।’

বিএনপি নির্বাচনে গেলে দুই সিটিতে কারা প্রার্থী হবেন জানতে চাইল তিনি বলেন, ‘ঠিক করা কিছুই নাই, এটা দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হবে। মুখে মুখে বা মিডিয়ায়তো অনেক নাম আসে কিন্তু আমার মনে হয় দলের নির্বাচনী বোর্ড বসে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করবেন।’

উত্তরে তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণে ইশরাক হোসেনের নাম এসেছে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নেই। দল থেকে যখন মনোনয়ন ফরম দেওয়া হবে তখন কে কে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করে সেটা দেখার পরে বলতে পারবো। এ ধরণের কথা অনেক আগে থেকেই আছে। কিন্তু দল কী সিদ্ধান্ত নেবে সেটা দলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন