ভিপি নুরকে দেখতে গিয়ে তোপের মুখে ঢাবি ভিসি

প্রকাশিত: ডিসে ২৩, ২০১৯ / ১০:২২পূর্বাহ্ণ
ভিপি নুরকে দেখতে গিয়ে তোপের মুখে ঢাবি ভিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভেতরে ছাত্রলীগ ও মুক্তিযু’দ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের হা’মলায় গুরুতর আহত ভিপি নুরুল হক নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

হাসপাতালে নুরের শয্যাপাশে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর উপস্থিতিতে তাঁদের পদত্যাগ দাবি করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন উপাচার্যকে বলেন, ‘আপনারা শিক্ষকতার মানসম্মানকে ডুবিয়ে দিচ্ছেন। আপনারা সরকারের ও ছাত্রলীগের আর কত পক্ষে যাবেন। দায়িত্ব না নিতে পারলে পদ ছেড়ে দিন।’

অপর একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘দরজা লাগানো ছিল। সাদ্দাম ভাই আর সঞ্জিত ভাই সেটা খুলছে, কেচিগেটটা খোলার পরই মারধর হয়েছে। ওরা মারা এনশিওর (নিশ্চিত) করে তার পর বের হয়েছে স্যার। ওরা ভাবছে নুর মরে গেছে, তার পর সেখান থেকে গেছে।’

এ সময় নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন উপাচার্য। নুরকে উপাচার্য বলেন, ‘আমি জেনেছি, সুপরিকল্পিতভাবে বড় আকারের একটা ঘটনা ঘটানোর প্রয়াস ছিল। আমি কিছু ছবি দেখলাম, বহিরাগত, ওরা কারা? তোমাকে আটকে রেখে একটা লাশ চেয়েছিল বোধ হয়। তুমি বোধ হয় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে যাচ্ছ।’

পরে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীকে ‘ভারতের দালাল’ ও ‘নির্লজ্জ’ বলে গালি দেন শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্যের কাছে প্রক্টরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সালাহ উদ্দিন সিফাত বলেন, “ডাকসু ভিপি নুরসহ অন্যদের ওপর হা’মলার সময় আমি প্রক্টর স্যারের কাছে বিচারের দাবি নিয়ে গেলে তিনি আমাকে বলেন, ‘তুমি বেশি নেতা হয়ে যাচ্ছ। তোমাকে বহিষ্কার করব’। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী, তিনি আমাকে রক্ষা না করে উল্টো বহিষ্কার করার কথা বলছেন, পুলিশে দেওয়ার কথা বলেছেন।”

এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা আপনাদের চাই না। যদি মনে হয়, আপনারা এর বিচার করতে পারবেন না, দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, তাহলে পদত্যাগ করুন।’

ডাকসুর ভিপিকে কীভাবে দরজা বন্ধ করে মারে, তা জানতে চান শিক্ষার্থীরা। কিছুক্ষণ প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে উপাচার্য ও প্রক্টরকে নিয়ে যান।

সূত্র : এনটিভি অনলাইন

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন