প্রতা’রক তানিয়াকে গাজীপুর থেকে গ্রে’প্তার

প্রকাশিত: ডিসে ২১, ২০১৯ / ১১:৪৭অপরাহ্ণ
প্রতা’রক তানিয়াকে গাজীপুর থেকে গ্রে’প্তার

ঢাকায় একের পর এক প্রতা;রণা করে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফ’তার হওয়া সেই প্রতা’রক তানিয়া ৫মাস কারাভোগের পর মুক্ত হয়ে আবারও অভিনব কায়দায় প্রতা’রণা শুরু করেছেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। গাজীপুর মহানগরের পূবাইল তালুটিয়ার জনতা গণধো’লাই দিয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (২০ডিসেম্বর) দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের ৪২নং ওয়ার্ডের তালুটিয়া পূর্বপাড়ায় তানিয়াসহ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে আট’ক করে জনতা।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পূবাইল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম শুক্রবার রাত আটটার দিকে প্রতা’র’ণার অভি’যোগে তানিয়া ও তার দুই সহযোগীকে গ্রে’ফ’তার করে থানায় নিয়ে আসেন। \

অন্য দুই প্র’তা’রকের নাম হালিমা আক্তার দুলালী ও আলমগীর হোসেন। আট’কের পর তানিয়ার গো’প’নাঙ্গ থেকে ৭৫ পিস ইয়াবা, ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার এবং প্রতারণায় ব্যবহৃত সাদা প্রাইভেটকার কার (ঢাকা মেট্রো-গ ২৩-০০২৪) জব্দ করা হয়।

গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার রাজেন্দ্রপুরের গজারিয়া গ্রামের হাসান শিকদারের মেয়ে তানিয়া শিকদার। পড়াশোনা এইচএসসি। থাকেন উত্তরায় বাসা ভাড়া নিয়ে। বছরকয়েক আগে তার স্বামীর মৃ’ত্যু হয়। এরপর তানিয়া তার দেবর ওয়ালিদ রহমানকে বিয়ে করেন। ওয়ালিদ ই’য়া’বায় আ’সক্ত। সে নেশায় বুঁ’দ’ হয়ে বাসায় পড়ে থাকে।

গাজীপুর নগরীর ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তালুটিয়া পূর্ব পাড়ায়মনিরুল ইসলামের বাড়ির দুতলার দরজায় শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা দুইটার দিকে কড়া নাড়ে এই রূপবতী প্রতারক। মনিরুলের স্ত্রী কুহিনুর বেগম দরজা খুলতেই ওই নারী নিজের নাম লাকী জানিয়ে ঘরে ঢুকে। নিজেকে কহিনূরের ছোট বোন নাজমার স্বামী মামুনের সঙ্গে দুবাই থাকেন বলে পরিচয় দেন।

ছুটিতে তিনি দেশে এসেছেন। মামুন চকলেট, বোরকা ও চিপসসহ নানান সামগ্রী তার কাছে দিয়েছেন পৌঁছে দিতে। তিনি নাজমাকে বাড়িতে না পেয়ে সেখান থেকে ঠিকানা নিয়ে কহিনুরের বাড়িতে এসেছেন এসব মালামাল পৌঁছে দিতে।

লাকী কহিনুরকে জানায়, তার কাছে কিছু ডলার আছে। বিশ্বাস করে তিনি এসব কহিনুরের কাছে রাখতে চান। তখন কহিনুরের স্বামী মনিরুল ইসলাম ব্যবসার কাজে বাইরে ছিলেন। ডলার রাখার কথা বলেই একটিরুমাল বের করেন লাকী। বার বার সেটি কহিনুরের মুখের কাছে নেন।

এক পর্যায়ে লাকী বলতে থাকেন তার স্বামী ও দুই বাচ্চা বাইরে রাখা গাড়িতে বসে আছে।তারাও ঘরে আসবে। এজন্য ঘরের কক্ষগুলো গোছাতে বলেন। তখন ফোনে কাউকে ১০ কেজি মিষ্টি, ১০ কেজি দই ও চিপস আনতে বলছিল লাকী পরিচয় দেয়া তানিয়া। ফোন কেটেইকুহিনুর ও তার মেয়ে মীমকে সোনা গহনা পড়ে সাজতে বলে।

তারা বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার জন্য সেজেই আছে জানালে লাকী বলে, প্রথমবার আপনাদের বাড়িতে এসেছি, দুবাই থাকতে মামুন বলেছে আপনার অনেক সোনা-গহনা আছে, এসব পড়েন। মেয়ে মীমকে উদ্দেশ করে বলেন তোমার বিয়ে হয়েছে। গলায়, কানে কোনও সোনা-গয়না নেই কেন? দ্রুত মা-মেয়েকে সোনার গহনা পড়তে বলেন লাকী।

এরপর ভেতরের কক্ষে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে লাকী কহিনুরকে বলেন গাড়ি থেকে তার স্বামী ও বাচ্চাকে এগিয়ে আনতে। কথামতো তিনিও নিচে চলে যান। গিয়ে দেখেন রাস্তার পাশে একটি প্রাইভেট কার। সামনের গ্লাস নামিয়ে এক ব্যক্তি হাতে ইশারা করে কাছে ডাকছে। তখন তিনি উপরের বাসায় ঢুকে যান। কিছু সময় পরকহিনুরের স্বামী মনিরুলও বাড়িতে ফেরেন।

ঘরে ঢুকেই তিনি লাকীর পরিচয় ও উদ্দেশ্য জানতে চান। মনিরুল লাকীকে সন্দেহ করে উচ্চস্বরে বলতে থাকেন তুই ডাকাত। মনিরুল বাসার লোকদের লাকীকে আটকাতে বলতেই ছদ্মবেশী ওই নারী মনিরুলকে ধাক্কা দেয়। তখন লাকীর ব্যাগ চেক করে কিছু জাল ডলার পাওয়া যায়। হইচই শুনে আশপাশের লোকজনও এগিয়ে আসে।

কহিনুর যখন লাকীর স্বামীকে আনতে নিচে নামে তখনই আলমারীতে থাকা ১ লাখ টাকা, ২ ভরি ওজনের এক জোড়া রুলি (মোটা বালা), এক ভরি ওজনের হাতের চিকন চুরি এক জোড়া, দুই ভরি ওজনের আল্লাহু লেখা নকেটসহ একটি চেইন, ডায়মন্ডের একটি আংটি ও নগদ এক লাখ টাকা কৌশলে নিয়ে নেন লাকী ওরফে প্রতারক তানিয়া।

শুধু মনিরুলের বাড়িতেই নয়ভাদুন এলাকার ইতালী প্রবাসী মেহেদী হাসানের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুমির স্বামীর সঙ্গে বিদেশে থাকার ছলনায় গত ১৫ ডিসেম্বর ঘরে ঢুকে আলমারীতে থাকা একটি সোনার চেইন, এক জোড়া কানের দুল, কিছু রূপার গহনা ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যান তানিয়া।

গত ২৫ অক্টোবর রাত আটটার দিকে গাজীপুর নগরীর সাহাপাড়া এলাকার মিজানুর রহমান খানের বাসা থেকে অভিনব পন্থায় ৬ ভরি ওজনের এক জোড়া সোনার রুলি, এক জোড়া বালা, দুটি সোনার চেইন লুটে নেন।

গত ৮ অক্টোবর গাজীপুরেরবরুদার ঢাল এলাকার আসমা সরকার পপির বাসা থেকে সোয়া দুই ভরি ওজনের দুটি সোনার চেইন, এক ভরি চার আনা ওজনেরতিন জোড়া একটি কানের দুল, এক ভরি তিন আনা ওজনের চারটি আংটি, একটি গলার মঙ্গল সূত্র, চারটি নাকফুল ও একটি রূপার বেসলাইটএকই পন্থায় লু’টে নেয়।

এছাড়াও সম্প্রতি পূবাইলের নৈপাড়া এজি মিশন এলাকার জেমস মাইকেল বিশ্বাস ওরফে স্বপনের স্ত্রী রোজিনা বিশ্বাসের দুটি সোনার নেকলেছ, এক জোড়া রুলি, তিনটি সোনার চেইন, চার জোড়া কানের দুল, পাঁচটি আংটিও নগদ এক লাখ ১০ হাজার টাকা লুটে নেয় তানিয়া।

পূবাইলের ভাদুন দরগাহ পাড়া এলাকার ইসমাইল কাজী ইমারতের বাড়ি থেকে একটি গলার চেইন, দুই জোড়া কানের দুল, একটি আংটি ও নগদ ১০ হাজার টাকা কৌশলে নিয়ে যান তানিয়া। সম্প্রতি পূবাইলের কুদার মুন্সি বাড়ির মো. মাসুদুর রহমানের বাড়ি থেকে একই পন্থায় সোনা ও নগদ টাকা লুটে নেয় প্র’তা’রক তানিয়া।

গাজীপুর মহানগরের ২৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিনপাড়া মোল্লাবাড়ীর বাসিন্দা আব্দুল গাফফার মোল্লা(৫৫) বাড়িতে গত রোববার(১৫ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে ইতালী প্রবাসী মেয়ের জামাই শাহ আলমের প্রবাসী প্র্রতিবেশী পরিচয়ে প্রবেশ করে নগদ আট হাজার টাকা এবং সোয়া ভরি স্বর্নালঙ্কার হা’তি’য়ে নিয়ে সটকে পড়েন এই প্রতারক।

এদিকে ভুক্তভোগীরা শনিবার সকাল থেকেই পূবাইল থানায় অবস্থান করলেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল ভূইয়া থানায় না থাকায় তাদের সাথে প্রতারণার বিষয়ে অভিযোগ করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থানায় উপস্থিত হলে শনিবার রাতে লিখিত অ”ভিযোগ গ্রহন করে এসআই সাইফুল ইসলাম। বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে না নেয়ার অভিযোগ এনে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আচরণে অনেকটাই হতাশ হয়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগী কেউ কেউ।

তানিয়ার প্রতারণার সত্যতা নিশ্চিত করে পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল ভূইয়া জানান, বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। প্র’তা’রণার স্বীকার অনেকের সাথেই যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্র’তা’র’ণা এবং মাদক আইনে পৃথক দুটি মা’ম’লা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান থানার ভারপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন