সাংবাদিকের দাড়ি ছিঁড়ে নেয়ার হুম’কি দিলো লখনৌ পুলিশ

প্রকাশিত: ডিসে ২১, ২০১৯ / ০৮:৩০অপরাহ্ণ
সাংবাদিকের দাড়ি ছিঁড়ে নেয়ার হুম’কি দিলো লখনৌ পুলিশ

ভারতের নাগরিকত্ব সংশ‌োধনী আইনের প্রতিবাদে লখনৌতে সহিং’সতার ঘটনা ঘটেছে। এতে মদদ দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের হাতে হয়’রানির শি’কার হলেন ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দুর একজন সাংবাদিক।

সাদা পোশাকে ঢুকে অবান্তর প্রশ্ন করার পর রেস্তোরাঁ থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকার লখনৌর প্রতিবেদক ওমর রশিদ ও তার এক বন্ধুকে। তার পর দুই ঘণ্টা ধরে তাদের আট’কে রাখা হয় পুলিশ স্টেশনে।

ওমর জানান, আমাকে থানায় নিয়ে নানা রকমের হুম’কি দেওয়া হয়। বলা হয়, টেনে দাড়ি ছিঁ’ড়ে নেব। আমার বন্ধুকে পে’টানো হয়। বেশ কিছুক্ষণ হেনস্থা করার পর আমাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

ওমর আরো জানান, একটি খবরের জন্য তিনি আর তার বন্ধু গিয়েছিলেন ওই রেস্তোরাঁয়। ওমর তার বন্ধুর মোবাইলের ওয়াইফাই সংযোগ ব্যবহার করছিলেন তার কাজের জন্য। সেই সময় সাদা পোশাকে তিন-চার জন রেস্তোরাঁয় ঢুকে তাদের টেবিলের কাছে চলে আসেন।

তিনি আরো বলেন, এর পরেই তারা নানা অবান্তর প্রশ্ন করতে শুরু করেন আমার বন্ধুকে। তারা আমার ও আমার বন্ধুর কাছে তাদের পরিচিতি জানতে চান। কেন আমরা রেস্তোরাঁয় বসে আছি, জানতে চান।

তার পর আমাকে ও আমার বন্ধুকে তারা টেনে নিয়ে গিয়ে রেস্তোরাঁর বাইরে দাঁড় করানো পুলিশের একটি জিপে তোলেন। আমি পরিচিতি জানালেও রেহাই মেলেনি।

ওমরের কথায়, ওরা আমাদের থানায় নিয়ে গিয়ে একটা ঘরে বন্ধ করে রাখল। ওরা আমার মোবাইলসহ আর যা কিছু সঙ্গে ছিল, সবই কেড়ে নিল। বেধ’ড়ক মা’রধর করল আমার বন্ধুকে। নানা রকমভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে করতে ওরা আমাদের বলল, লখনৌর হিং’সার ঘটনার চক্রা’ন্তে নাকি আমরা জড়িত।

কাশ্মীরিদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ কতটা, ওরাও লখনৌর ঘটনায় জড়িত ছিল কি না, সেই সব জানতে চাইল আমাদের কাছে। ওরা বার বার বলছিল, আমার বি’রুদ্ধে ওদের কাছে নথিপত্র আছে। তার পর আমাকে গা’লিগালাজ করা শুরু করল অকথ্য ভাষায়। বলা হলো, টেনে আমার দাড়ি ছিঁড়ে দেওয়া হবে।

ওই ঘটনার খবর পেয়ে দ্য হিন্দুর পক্ষ থেকে ফোন যায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি ও পি সিংহের কাছে। ফোন যায় মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়েও। তার পরই ওমরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন