মোদির মসনদ তছনছ করে দিতে মুসলমানদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে : আল্লামা শফী

প্রকাশিত: ডিসে ১৯, ২০১৯ / ১১:৩৭অপরাহ্ণ
মোদির মসনদ তছনছ করে দিতে মুসলমানদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে : আল্লামা শফী

মুসলমানরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে মোদির মসনদ তছনছ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা আহমদ শফী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভারতের এনআরসি বিল হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র তৈরির ঘৃণ্য প্রয়াস বলে দাবি করে হেফাজত আমির বলেন, ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোতে অমুসলিম সংখ্যালঘুরা নিপী’ড়নের শি’কার হচ্ছে বলে দাবি করে পার্শ্ববর্তী তিনটি দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ,

বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য যে আইন পাস করেছে তা মূলত মুসলমানদের একঘরে করে ভারতকে হিন্দুকরণ করার ঘৃ’ণ্য প্রয়াস।

আল্লামা আহমদ শফী বলেন, মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলমানদের ওপর যেভাবে জুলুম-নির্যা’তন চালাচ্ছে তা পরিষ্কার রাষ্ট্রীয় নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘ’নের শামিল। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে মুসলমানদের পাশাপাশি যেভাবে সাধারণ জনগণ ফুঁ’সে উঠেছে তা বিজেপি সরকারের প্রতি চরম অনাস্থা ও ক্ষো’ভের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, ভারতের মুসলমান প্রচণ্ড ধৈর্যশীল। তবে এ কথা ভুলে গেলে চলবে না, মুসলমানরা ধৈর্যশীল তবে ভীরু নয়। মুসলমানরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে মোদির মসনদ তছনছ হয়ে যাবে।

হেফাজত আমির আরও বলেন, ভারতের দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদানে মুসলমানদের নাম মিশে আছে। ভারতের ঐতিহাসিক প্রায় সব স্থাপত্য মুসলমানদের তৈরি। চাইলেই এ সব মুছে দেয়া যায় না। ভারতীয় মুসলমানদের কাছে পুরো বিশ্ব ঋণী।

তিনি বলেন, বিজেপিসহ কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলো মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক যে নির্যা’তন-নি’পীড়ন চালাচ্ছে তা করে ভারতকে মুসলিমশূন্য করা যাবে না। বরং এ সব নির্যা’তন-নিপীড়ন মোদি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর প’তন ডেকে আনবে।

আল্লামা আহমদ শফী আরও বলেন, কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে ভারতীয় মুসলমানগণ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে। ভারতকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সাম্প্রদায়িক সহবস্থানের দেশ দাবি করলেও শুধু মুসলিম হওয়ার অপ’রাধে নৃশং’সভাবে পি’টিয়ে হ’ত্যা করা হচ্ছে।

কাশ্মীরের মুসলমানদের হ’ত্যা করা হচ্ছে, মা-বোনকে ধ’র্ষ’ণ করা হচ্ছে। মোদি সরকারের এ কথা জেনে রাখা উচিত, জুলু’ম-নির্যা’তন করে মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করা যাবে না।

হেফাজত আমির আরও বলেন, ইসলাম সব সময় মানবাধিকারের কথা বলে। শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার কথা বলে। অমুসলিম সম্প্রদায়কে নিরাপত্তাদানের কথা বলে। আর বাংলাদেশি মুসলমানগণ বারবার তা প্রমাণ করে দেখিয়েছে। মানবপ্রাচীর তৈরি করে মন্দির পাহারা দেয়ার নজির আমরা দেখিয়েছি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে বসবাস করে আসছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন