বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান

প্রকাশিত: ডিসে ১৭, ২০১৯ / ১২:৪৭পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান

১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নামক নতুন দেশের পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স এখন ৪৮। বিভিন্ন দিক দিয়েই বাংলাদেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো।

অথচ এই বাংলাদেশের অগ্রগতির লাগাম টেনে ধরে রেখেছিল পশ্চিম পাকিস্তান। বিভিন্নভাবে তারা পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের মানুষকে শোষণ করেছে। ৪৮ বছর পর সেই পাকিস্তান কেমন আছে? তারা কি আমাদের চেয়ে এগিয়েছে নাকি পিছিয়ে গেছে?

স্বাধীনতার পাঁচ দশকে দাঁড়িয়ে মূল্যায়ন করলে আমদের প্রাপ্তি কোনো অংশে কম নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে সরকারের নানাবিধ উদ্যোগের ফলে দেশে আমূল পরিবর্তন লক্ষণীয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর পদচারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাক্ষরতার হার বেড়েছে।

কমেছে দরিদ্রতা। দেশের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, স্থায়ী হয়েছে বহু দলীয় ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক রাজনীতি বারবার হোঁচট খেলেও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মাধ্যমে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।

নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ করা হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার করার মধ্য দিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশন বাস্তবায়নের ফলে একটি অন্য বাংলাদেশ সবার চোখে দৃশ্যমান।

শুধু তাই নয়, প্রতিবেশী অনেক রাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে। দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি তুলনা তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশকে শোষণ-নিপীড়নে নিষ্পেষিত করতে চেয়েছিলো যে দেশটি, এখন অনেক কিছুতে তার চেয়ে এগিয়ে আছে সে।

গত বছর ডিসেম্বরে ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) যখন আলাদা হয়েছিল, আমাদের অনেকে বলেছিলেন, পূর্ব পাকিস্তান আমাদের জন্য বড়মাপের বোঝা হিসেবে ছিল।

নিজের কানেই আমি এসব শুনেছি। সেই পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) আজ সব কিছুতেই এগিয়ে গেছে। তাদের দূরদর্শী চিন্তার জন্যই এটা হয়েছে।’

এছাড়া গত বছর পাকিস্তানের একটি টিভি টক শো’তে দেশটির নৃবিজ্ঞানী জাইঘাম খান নিজ দেশের সরকারের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানের উন্নয়ন ঘটাতে চাইলে, বাংলাদেশের দিকে তাকান। সুইডেন নয় বাংলাদেশের উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করুন’।

চলতি বছর জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৫তম। এই সূচকে বাংলাদেশ এক বছরে এক ধাপ এগিয়েছে। আর পাকিস্তানের অবস্থান ১৫২তম। পাকিস্তান এই সূচকে ১৭ ধাপ পিছিয়ে রয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়নেও বাংলদেশ এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্ব ২০ দশমিক ৩ ভাগ। আর পাকিস্তানে প্রতিনিধিত্ব ২০ ভাগ।

বিশ্ব ক্ষুধা প্রতিরোধ সূচকে (জিএইচআই) পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে ক্ষুধা সূচকে ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। আর পাকিস্তানের অবস্থান ১০২।

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭৪ দশমিক ৪ বছর। আর পাকিস্তানের মানুষের গড় আয়ু ৬৮ দশমিক ১ বছর। যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনোমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের (সিইবিআর) ২০১৯ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী জিডিপির আকার অনুয়ায়ী বৃহত্তর অর্থনৈতিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪১তম। আর পাকিস্তানের অবস্থান ৪৪তম। সিইবিআর প্রতিবেদন অনুযায়ী পাকিস্তান এক্ষেত্রে তিন ধাপ পিছিয়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়চিত্তে ঘোষণা করেছেন ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে অবস্থান করবে। বিশ্বের নানা পরিসংখ্যানও বর্তমানের গতিধারা পর্যবেক্ষণ করে এই আশাবাদে সহমত পোষণ করেছেন।

এমন একটি সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারই সন্তান সে স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন