হেলিকপ্টার হুজুর জনরোষের শিকার

প্রকাশিত: ডিসে ১৬, ২০১৯ / ০৪:০৭অপরাহ্ণ
হেলিকপ্টার হুজুর জনরোষের শিকার

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় হেলিকপ্টারে চড়ে ওয়াজ মাহফিলে এসে চুক্তি অনুযায়ী ওয়াজ না করায় আয়োজক ও মুসল্লিদের জনরোষের শিকার হয়েছেন প্রধান বক্তা মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান সিদ্দিক (কুয়াকাটা)।

রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রূহানীয়া মাদরাসা মাঠে তিন দিনব্যাপী ইজতেমা ও ওয়াজ মাহফিলে মাঠে এ ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান ওই বক্তা।

জালসা কমিটি ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার রূহানীয়া মাদরাসা মাঠে তিন দিনব্যাপী ইজতেমা ও ওয়াজ মাহফিল ছিল রবিবার। আর এই ওয়াজ মাহফিলের প্রধান বক্তা মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান সিদ্দিককে (কুয়াকাটা) প্রায় এক বছর আগে ৩ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়। সে হিসেবে নগদ ৪০ হাজার টাকা বায়নাও দেওয়া হয়। চুক্তি ছিল ওয়াজের দিন বাদ জোহর থেকে রাত ১১টায় আখেরি মোনাজাত করে চলে যাবেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ওয়াজ মাহফিলে কমিটিরা ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা হেলিকপ্টারের ভাড়া পরিশোধ করেন। রবিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঢাকা থেকে একটি হেলিকপ্টারে চড়ে রূহানীয়া মাদরাসা মাঠে নামেন প্রধান বক্তা হাফিজুর রহমান সিদ্দিক।

এরপর আড়াইটার সময় জালসাস্থলে গিয়ে ওয়াজ শুরু করেন। প্রায় ৩২ মিনিট ওয়াজ করে মোনাজাত শেষে তড়িঘড়ি করে বালুচর মাঠে এসে হেলিকপ্টারে চড়ার সময় জালসা কমিটি ও মুসল্লিরা বাধা দিলে সেখানে উত্তেজনা শুরু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে মুসল্লিদের সরিয়ে দেয়। পরে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যান ওই বক্তা।

জামিয়া কারীমিয়া রূহানীয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, চুক্তি অনুযায়ী, তিনি (হাফিজুর রহমান সিদ্দিক) ওয়াজ না করে দ্রুতসময়ে চলে যাওয়ার সময় স্থানীয় মুসল্লিরা বাধা দেয় এবং ক্ষিপ্ত হয়। তিনি (প্রধান বক্তা) আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। কোনো বছরই কোনো বক্তা এমন করেননি। তিনি আমাদের অনেক ক্ষতি করেছেন।

এ ব্যাপারে প্রধানবক্তা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার একান্ত সহকারী রফিকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, রূহানীয়া মাদরাসা মাঠে তিন দিনব্যাপী ইজতেমা ও ওয়াজ মাহফিলে মাঠে মুসল্লিদের নিরাপত্তায় বিপুল পরিমাণের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিল। যে কারণে বিশৃঙ্খলা করতে পারেনি।

সূত্র : ব্রেকিংনিউজ

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন