রাজাকারের তালিকা শতভাগ নিশ্চিত হয়েই দেয়া হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

প্রকাশিত: ডিসে ১৫, ২০১৯ / ০৩:২৬অপরাহ্ণ
রাজাকারের তালিকা শতভাগ নিশ্চিত হয়েই দেয়া হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

স্বাধীনতার ৪৮ বছরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হলো। প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার ৭৮৯ জন কুখ্যাত রাজাকারের নাম সবার সামনে নিয়ে আসলো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। রোববার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ৬৫৯ পৃষ্ঠার তালিকা সবার সামনে তুলে ধরেন।

এ সময় মন্ত্রী জানান, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজাকারদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড সরিয়ে নিয়েছে। শতভাগ নিশ্চিত হবার পরই এই তালিকা উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, রাজাকারদের রাজনৈতিক পরিচয়ও জানানো হবে।

অতিবাহিত হয়েছে বহু ত্যাগের অর্জিত স্বাধীনতার ৪৮টি বছর। তবুও স্পষ্ট হয়নি স্বাধীনতা বিরোধীদের পূর্ণাঙ্গ নাম পরিচয়।

নিরীহ বাঙালিদের উপর পশ্চিম পাকিস্তানের নৃশংসতায় সহযোগীর ভূমিকায় ছিলো এদেশেরই কিছু মানুষ। যারা দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে অবস্থান নিয়েছিলো মুক্তিকামীদের বিরুদ্ধে। যাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এতদিন খোলাসা হয়নি পূর্ণাঙ্গভাবে।

এমন অবস্থায় প্রথমবারের মত ৭১ এ পাকিস্তানি বাহিনীর দ্বারা বেতনভুক্ত কিংবা সহায়তাকারী স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলো মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানান, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধে কার কী ভূমিকা তা জানাতেই এ উদ্যোগ। তিনি বলেছেন, প্রথম ধাপে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত মুক্তিযুদ্ধকালীন নথি থেকে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ তালিকা করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলাম-বিএনপি জোট ক্ষমতায় এসে কৌশলে একাত্তরের রেকর্ডপত্র সরিয়ে নিয়েছে। যেমন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও কিছু রেকর্ডপত্র খোয়া গেছে বলে প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা হয়েছে।

প্রশ্ন ছিলো, কী ব্যবস্থা নেয়া হবে এসব স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে।

মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে বলা আছে যে, ধর্ষণ, হত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং লুট এই চারটা ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রের জন্য আমরা কোনো মামলা করবো না।

রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অবস্থান সনাক্ত করা হয়েছে কি না প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ বিষয় খেয়াল রাখা হবে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় আমাদের জানা নেই। কেবল নাম ঠিকানাই আছে। এখন আমরা চেষ্টা করবো।

এছাড়া মন্ত্রী জানান, একই নামসহ বিভিন্ন কারণে এতদিন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা অনেক বড় ছিলো। যাচাই বাছাই শেষে ২ লাখ ১২ হাজার মুক্তিযোদ্ধার একটি চূড়ান্ত তালিকা আগামী ২৬ মার্চের আগেই প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতে শুধুমাত্র সরকারি নথির ওপরই নির্ভর করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন