বাঙালি নোংরা মেয়েদের সেনারা ছোঁবেও না: আ’দালতে দাঁড়িয়ে সু’চি

প্রকাশিত: ডিসে ১১, ২০১৯ / ০১:২৫অপরাহ্ণ
বাঙালি নোংরা মেয়েদের সেনারা ছোঁবেও না: আ’দালতে দাঁড়িয়ে সু’চি

রোহিঙ্গা গণহ’ত্যার দায়ে বিচারের মুখোমুখি হয়েছে মিয়ানমা’র। মঙ্গলবার বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে নেদারল্যান্ডসের হেগের পিস প্যালেসে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আ’দালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস, সংক্ষেপে আইসিজে) মিয়ানমা’রের বি’রুদ্ধে গাম্বিয়ার মা’মলার শুনানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে এই মা’মলার শুনানি শুরু হয়ে চলে ৬টা ১০ মিনিট পর্যন্ত।

শুনানির শুরুতে প্রধান বিচারক সোমালিয়ার নাগরিক আব্দুলকায়ি আহমেদ ইউসুফ অ’ভিযোগ পড়ে শোনান। এরপরে গাম্বিয়া ও মিয়ানমা’রের পক্ষে দুইজন অ্যাডহক বিচারক নিয়োগ দেন প্রধান বিচারপতি। তিনি তাদেরকে মনে করিয়ে দেন, তারা যেন নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেন।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় বিচারের শুনানি শুরু হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবী তাফাদজ পাসিপান্দো বলেছেন, রোহিঙ্গা নারীদের ধ’র্ষণের কথা অস্বীকার করে মিয়ানমা’রের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি বলেছেন, সেনাবাহিনী এবং বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর কেউ নোংরা বাঙালি মেয়েকে (রোহিঙ্গা) ছোঁবে না। ওরা আকর্ষণীয় নয়।

এই আইনজীবী বলেন, ধ’র্ষণের ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে ফেসবুকে ‘ফেক রেপ’ নামে যে পেজ খোলা হয়েছে, সেটির নিয়ন্ত্রণও হচ্ছে স্টেট কাউন্সিলরের দপ্তর থেকে।

আইনজীবী তাফাদজ এরপর আ’দালতের কাছে আরাকানে এখনো যে ছয় লাখ রোহিঙ্গা আছেন, তাদের দুর্ভোগ ও ঝুঁ’কির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেখানে রোহিঙ্গাদের কাঁ’টাতারের বেষ্টনীর মধ্যে শিবিরে আ’ট’ক রাখা, চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব করা ও অন্যান্য বিধিনিষেধের কথা, যা জাতিসংঘ ত’দন্তে উঠে এসেছে, সেগুলোর বিবরণ দেন।

এই আইনজীবী বলেন, রোহিঙ্গাদের চাষাবাদের জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, খাদ্য সরবরাহ কমানো হয়েছে, তাদের পালিত পশু কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে জাতিসংঘ ত’দন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের অভুক্ত রাখা। এগুলো গণহ’ত্যার উদ্দেশ্য হিসেবে সনদের লঙ্ঘন। আরও গণহ’ত্যার অ’প’রাধ যাতে না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নিতে পারেন এই আ’দালত। তিনি বিভিন্ন প্রমাণ তুলে ধরে বলেন, এগুলোয় গণহ’ত্যার উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। এরপর তিনি তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

শুনানিতে গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবুবকর মা’রি তামবাদু বলেছেন, মিয়ানমা’রে গণহ’ত্যা বন্ধ করুন। আধুনিক যুগে এই গণহ’ত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আইসিজেকে গণহ’ত্যা বন্ধের নির্দেশ দিতে আহ্বান জানান তিনি।

আবুবকর মা’রি তামবাদু বলেন, রোহিঙ্গারাও মানুষ। তাদের খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানসহ বাঁ’চার অধিকার রয়েছে। রোহিঙ্গা শি’শুরও অধিকার রয়েছে শিক্ষা লাভ করে ডাক্তার হওয়ার।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) পর্যন্ত গাম্বিয়া ও মিয়ানমা’র যুক্তিতর্ক তুলে ধরবে।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসের রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ ও জেনোসাইডের আড়াই বছরের মধ্যেই মিয়ানমা’র বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অ’প’রাধের ক্ষেত্রে এত স্বল্প সময়ে বিচারের উদ্যোগ নজিরবিহীন। মা’মলায় মিয়ানমা’রের পক্ষে নেতৃত্ব দিতে আইনজীবীদল নিয়ে গত রোববার হেগে গেছেন মিয়ানমা’রের স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি।

অন্যদিকে গাম্বিয়ার পক্ষে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর এম তামবাদুউর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল হেগে পৌঁছেছে।

এ মা’মলায় বাংলাদেশ কোনো পক্ষ না হলেও শুনানি পর্যবেক্ষণ করতে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (এশিয়া-প্যাসিফিক) মাসুদ বিন মোমেনসহ বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল হেগে উপস্থিত রয়েছে। শুনানি ঘিরে হেগে গেছেন কানাডার মিয়ানমা’রবিষয়ক বিশেষ দূত বব রেসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।

এদিকে কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধিদলও হেগে পৌঁছেছে। এ ছাড়া সেখানে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক রোহিঙ্গাদের সংগঠন বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকের প্রেসিডেন্ট তুন খিন বলেন, ‘অবশেষে মিয়ানমা’র সরকার ও এর সাম’রিক বাহিনী এখন সত্যিকারের চাপ অনুভব করছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর জেনোসাইড সংঘটিত হচ্ছে—এ বিষয়ে আম’রা আইসিজের আইনি রুলিং দেখতে চাই। যদি সেটি না-ও হয় আমাদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের রক্ষার মতো দৃষ্টি দেবে।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন