সদা চঞ্চল রুম্পার ব্যাডমিন্টন খেলা হলো না

প্রকাশিত: ডিসে ৮, ২০১৯ / ১১:৪৭অপরাহ্ণ
সদা চঞ্চল রুম্পার ব্যাডমিন্টন খেলা হলো না

‘এই দেশি কি খবর! কেমন আছেন? আমাদের ব্যাডমিন্টন খেলা আর পিকনিক কবে? আমি কিন্তু ব্যাডমিন্টন খেলবো।’

নিহত হওয়ার দিন বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৫৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাশেদের কাছে এমন আগ্রহ প্রকাশ করেন রুবায়াত শারমীন রুম্পা।

এই পুলিশকন্যাও একই বিভাগের ৬৯তম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন। দুজনের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ বিভাগে হওয়ায় পরস্পরকে দেশি বলেই সম্বোধন করতেন তারা।

যুগান্তরকে যখন রাশেদ এই কথা বলছিলেন তখন তার দুচোখে অশ্রুভরা। তিনি বলেন, যেদিন রুম্পাকে হত্যা হয়; সেদিন মাগরিবের নামাজের পর তার সঙ্গে আমার প্রথম ক্যাম্পাসে গেটে দেখা।

‌‘জিজ্ঞাসা করলাম– এখানে কি করিস? জবাবে বললো, ভাইয়া একটা ফ্রেন্ড আসবে; তাই দাঁড়িয়ে আছি। মিনিট বিশেক পরে আবার ক্যাম্পাসে ঢুকলাম।’

রাশেদ বললেন, তার পর রুম্পার সঙ্গে ক্যান্টিনে ফের দেখা হয়েছে। সে কফি আর জুস নিল খাওয়ার জন্য। আমি আবদার করে বললাম– দেশি আমাকে খাওয়ানা।

‘পরে সে আমার জন্য এক কাপ কফির নির্দেশ দিল। তারপর আলাদাভাবে ডাক দিয়ে বললো– ভাইয়া একটু শুনে যান! যাওয়ার পর সে আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, ভাই আপনারা নাকি ব্যাডমিন্টর টুর্নামেন্ট ছাড়তেন? আমিও অংশ নেব।’

তাকে বললাম, অবশ্যই! তোরা যারা আছ, সবাই অংশগ্রহণ করবি।

রাশেদ আরো বলেন, জানুয়ারিতে বিভাগীয় পিকনিক হবে। সে সেই পিকনিকেও যাবে বলে আমাকে জানাল।

‘আমার সঙ্গে যতক্ষণ কথা বলেছিলো, খুব স্বাভাবিক দেখেছি তাকে। রুম্পার ভেতরে মানুসিক কোনো চাপ দেখিনি।’

ইংরেজি বিভাগের এই শিক্ষার্থী আরও জানায়, সে যাওয়ার সময় আমাকে বলেছে, ভাই আমি চলে যাই। আমার টিউশনি আছে আমি বললাম সাবধানে যেয়েও।

‌‘এই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কথা, পরের দিন খবর পেলাম– সে আর আমাদের মাঝে নেই।

রুম্পা ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী হলেও অন্যদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বসুলভ। তাকে হারিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ই যে কাঁদছে।

গত বুধবার রাতে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীর একটি গলিতে রুম্পার লাশ পাওয়ার পর তার মৃত্যু রহস্যজনক মনে হওয়ায় রমনা থানার এসআই আবুল খায়ের অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

লাশ উদ্ধারের সময় রুম্পার পরিচয় জানা যায়নি। পরদিন শনাক্ত হয় যে রুম্পা হবিগঞ্জে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক রোকনউদ্দিনের মেয়ে, তিনি থাকতেন মা-ভাইসহ মালিবাগে।

যেখানে লাশ পড়েছিল, তার আধা কিলোমিটারের মধ্যে তাদের বাসা।

রুম্পার লাশ শনাক্ত হওয়ার পর স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একে হত্যাকাণ্ড দাবি করে তার বিচারের দাবিতে সড়কে নামে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দুটো টিউশনি করতেন রুম্পা। সেদিনও সন্ধ্যার আগে বাসা থেকে টিউশনিতে বের হয়েছিলেন।

পরে সাড়ে ৬টার দিকে বাসার নিচে এসে ফোন করে পুরানো একজোড়া স্যান্ডেল পাঠিয়ে দিতে বলেন। স্যান্ডেল বদলানোর সময় কানের দুল, আংটি, মোবাইল ফোন দিয়ে আবার বেরিয়ে যান তিনি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন